তাসপিয়া হত্যা মামলায় আদনানকে রিমান্ড নয় জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি | daily-sun.com

তাসপিয়া হত্যা মামলায় আদনানকে রিমান্ড নয় জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ মে, ২০১৮ ১৫:৩৫ টাprinter

তাসপিয়া হত্যা মামলায় আদনানকে রিমান্ড নয় জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

আলোচিত তাসপিয়া হত্যা মামলায় প্রেমিক আদনানকে জিজ্ঞাসাবাদে আদালতের কাছে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। তবে আদালতের বিচারক দীর্ঘ শুনানি শেষে পুলিশের সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন।

 

রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অতিরিক্ত পঞ্চম মহানগর ও দায়রা জজ এবং ভারপ্রাপ্ত শিশু আদালতের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস শুনানি শেষে পুলিশের এই রিমান্ড আবেদন নাকচ করেন।

 

এর আগে আদনানকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনের বিরোধিতায় চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী হুমায়ুন কবির রাসেলের নেতৃত্বে প্রায় ১৫ আইনজীবী এক বলয় গড়ে তুলেন। শুনানিকালে আদনানের পক্ষে এই আইনজীবীরা আদালতের কাছে বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। পরে আদালত রিমান্ড আবেদন নাকচ করে গাজীপুর কিশোর সংশোধনাগারের তত্ত্বাবধায়কের উপস্থিতিতেই জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

 

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, তাসপিয়া হত্যা মামলায় আদনান মির্জাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করা হয়েছিল বৃহস্পতিবার। আজ শুনানি হলো। আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।

 

এদিকে, তাসপিয়া আমিনের লাশ উদ্ধারের পর পঞ্চম দিন চলে গেছে রোববার।

তবে তদন্তে থাকা পুলিশ এখনো ঘোলাজলেই ঘুরপাক খাচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ পর্যন্তই। মামলার এক নম্বর আসামি আদনান মির্জা ছাড়া বাকি ৫ আসামিকে এখনো পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।

 

অভিযোগ উঠেছে, ওই ৫ আসামি সরকার দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত। চট্টগ্রামের এক প্রভাবশালী যুবলীগ নেতার অনুসারী তারা। ঘটনার পর তাদেরকে রক্ষার জন্য এই নেতা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। যে কারণে পুলিশ জানলেও তাদেরকে এখনো গ্রেফতার করছে না।

 

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কর্ণফুলী জোনের সহকারী কমিশনার জাহেদুল ইসলাম বলেন, তাসপিয়া হত্যা মামলার ঘটনায় এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। তবে এটি হত্যা মামলা হিসেবে নিয়েই তদন্ত করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাসপিয়ার বহনকারী সিএনজি অটোরিকশাটি শনাক্ত করা হয়েছে। সেটি আটকের জন্য কাজ করছে পুলিশের কয়েকটি টিম।

 

নিহত তাসপিয়া আমিনের বাবা মোহাম্মদ আমিন জানান, তাসপিয়াকে খুঁজে না পেয়ে আদনান মির্জাকে বাসায় ডেকে আনা হয়েছিল। আদনান এক পর্যায়ে টেলিফোন করে ডেকে আনেন সোহাইল, শওকত মিরাজ, আসিফ মিজান, ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম ও ফিরোজকে।

তারা প্রথমে আদনাকে ছেড়ে দেযার জন্য সময় বেঁধে দেয়। পরে আধা ঘণ্টার মধ্যে তাসপিয়াকে বাসায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে আদনানকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

 

এদিকে, বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, ঘটনার পাঁচ দিন পরও অন্য আসামিদের পুলিশ অজ্ঞাত কারণে গ্রেফতার করছে না। গ্রেফতর না হওয়া ওই ৫ আসামিই সবার কাছে পরিচিত। তারা সরকারি দলের রাজনীতির সাথেও জড়িত। একজন প্রভাবশালী যুবলীগ নেতার অনুসারী তারা। ওই নেতা তাদেরকে রক্ষার জন্য নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। যে কারণে তদন্তের অগ্রগতিতেও ভাটা পড়েছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, সিমটমগুলো দেখে কখনো এটাকে আত্মহত্যা বলার সুযোগ নেই। আত্মহত্যার সময় নিজের পায়ের কাঁচা নখ তুলে ফেলা, পিঠে নিজে নিজে আঘাত করা বা নিজের চোখ নিজে তুলে ফেলা এমন নজির পৃথিবীতে নেই। সো, এটাকে আত্মহত্যা বলার সুযোগ নেই।

 

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, স্কুলপড়ুয়া কোনো শিক্ষার্থীর পক্ষে এককভাবে পরিকল্পনা করে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব নয়। পেছনে কোনো মাস্টারমাইন্ড থাকাটাই যুক্তিসঙ্গত।

 

সিএমপি পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কাসেম ভূইঁয়া বলেন, এক নম্বর আসামি আদনান মির্জা গ্রেফতার হয়েছে ঘটনার পর পরই। ৫ নম্বর আসামি ইমতিয়াজ সুলতান প্রকাশ ইকরাম ও ৬ নম্বর আসামি ফিরোজকে গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তাসপিয়াকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেছে প্রেমিক আদনান ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন বাদি হয়ে ছয়জনকে নির্দিষ্ট করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তার মধ্যে এক আসামি ছাড়া বাকিরা অধরা।

 

উল্লেখ্য, বুধবার সকালে নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র উপকূলে নেভাল একাডেমির অদূরে ১৮ নম্বর ঘাট এলাকায় চোখ, নাক-মুখ থেতলানো অবস্থায় তাসপিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অজ্ঞাত হিসেবে তাসপিয়ার নিথরদেহ শনাক্ত হয় দুপুরের পর।

 

তাসপিয়া কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া এলাকার মো. আমিনের মেয়ে। চট্টগ্রাম নগরীর ওআর নিজাম রোডে তাদের বাসা। তাসপিয়া সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

 


Top