১৫৭৪ প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস, ১০৯টির সবাই ফেল | daily-sun.com

১৫৭৪ প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস, ১০৯টির সবাই ফেল

ডেইলি সান অনলাইন     ৬ মে, ২০১৮ ১৬:৪৮ টাprinter

১৫৭৪ প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস, ১০৯টির সবাই ফেল

 

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার শতভাগ শিক্ষার্থী পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গতবারের চেয়ে ৬৯২টি কমেছে। আর সবাই ফেল করেছে- এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১৬টি।

এছাড়া এবার পাসের হার নেমে এসেছে নয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম- ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশে। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।


এবার সারা দেশে মোট ২৮ হাজার ৫৫৮টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে; গতবছর এই সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ৩৫৯টি। এর মধ্যে এক হাজার ৫৭৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছর ২ হাজার ২৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। সে হিসেবে এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৯৯টি বাড়লেও শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ৬৯২টি।


ঢাকা বোর্ডে ১৮৪টি, রাজশাহী বোর্ডে ২০৬টি, কুমিল্লা বোর্ডের ৭৪টি, দিনাজপুর বোর্ডের ৮৪টি, সিলেট বোর্ডের ২৩টি, যশোর বোর্ডের ৭৩টি, বরিশাল বোর্ডের ৫০টি এবং চট্টগ্রাম বোর্ডের ২৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পাস করেছে।


মাদ্রাসা বোর্ডের ৭৫৭টি এবং কারিগরি বোর্ডের ৯৬টি প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে।


২০১৬ সালে ৪ হাজার ৭৩৪টি; ২০১৫ সালে ৫ হাজার ৯৫টি এবং ২০১৪ সালে ৬ হাজার ২১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করে।


মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় গত বছর ৯৩টি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছিল। এবার মোট ১০৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। সে হিসেবে এবার শতভাগ ফেলের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১৬টি।


এবার দিনাজপুর বোর্ডে ৫টি, ঢাকা ও বরিশাল বোর্ডে তিনটি করে এবং রাজশাহী ও যশোর বোর্ডে একটি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পরীক্ষার্থী ফেল করেছে।


কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি- এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবার কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বোর্ডে নেই।


মাদ্রাসা বোর্ডের ৯৬টি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী এবার ফেল করেছে। তবে কারিগরি বোর্ডে এরকম কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই।


এসএসসিতে ২০১৬ সালের ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করে। ২০১৫ সালে ৪৭টি এবং ২০১৪ সালে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছিল।


প্রসঙ্গত, এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে ও দেশের বাইরে কয়েকটি কেন্দ্রে একযোগে এসএসসি ও সমমানের লিখিত বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত চলে। এ বছর ৩ হাজার ৪১২টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত কয়েক বছর থেকে তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করে আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রবিবার (৬ মে) সকালে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গণভবনে শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন। এসময় বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা তার সঙ্গে ছিলেন।


এবার এসএসসি ও সমমানে গড় পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন শিক্ষার্থী। ১০ বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৪ জন। এর মধ্যে এসএসসিতে মোট পরীক্ষার্থী ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৮ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় ২ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫২ জন এবং কারিগরিতে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৬৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ জন।


এবার অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ছিল ১০ লাখ ২২ হাজার ৩২০ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৭ লাখ ৮৪ হাজার ২৪৫ জন। আর অংশগ্রহণকারী ছাত্রী ছিল ১০ লাখ ৪ হাজার ২৫৪ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৮৫৯ জন। এতে দেখা যায়, ছাত্রদের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর ছাত্রীদের পাসের হার ৭৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার ২ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি।


অন্যদিকে, মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৫৫ হাজার ৭০১ জন। আর ছাত্রী ৫৪ হাজার ৯২৮ জন। এখানে ছাত্ররা ছাত্রীদের চেয়ে এগিয়ে আছে।

 


Top