‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ অ্যাকাউন্টে ৪ কোটি টাকা: সেই দুই ব্যবসায়ীকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ | daily-sun.com

‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ অ্যাকাউন্টে ৪ কোটি টাকা: সেই দুই ব্যবসায়ীকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

ডেইলি সান অনলাইন     ৬ মে, ২০১৮ ১২:২৯ টাprinter

‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ অ্যাকাউন্টে ৪ কোটি টাকা: সেই দুই ব্যবসায়ীকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

 

ফারমার্স ব্যাংক থেকে চার কোটি উত্তোলন করে পে-অর্ডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের এক ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার অভিযোগে দুই ব্যবসায়ী নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা ও মোহাম্মদ শাহজাহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশ (দুদক)। রবিবার (৬ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই দুজন ব্যবসায়ী রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কাযালয়ে হাজির হন বলে কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।


তিনি জানান, দুই ব্যবসায়ি নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা ও মোহাম্মদ শাহজাহানকে অভিযোগ অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। সকাল ১০ থেকে এ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।


এর আগে ২৫ এপ্রিল ওই দুই ব্যবসায়ীর ঢাকার উত্তরার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান এবং টাঙ্গাইলের স্থায়ী ঠিকানায় নোটিস পাঠিয়ে আজকের দিনে তলব করে দুদক। ওই দিন প্রনব কুমার ভট্টাচার্য গণমাধ্যমকে বলেন, ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ব্যবসায়ী নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা এবং মোহাম্মদ শাহজাহান ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে একই দিনে প্রত্যেকেই দুই কোটি করে চার কোটি টাকা উত্তোলন করে একই দিনে পে অর্ডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে জমা দেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে একই দিনে ওই টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হয়। এই অভিযোগে তাদেরকে ৬ মে তলব করেছে দুদক।  


দুদকের তলবি নোটিসে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ না থাকলেও পদত্যাগী সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সেই ব্যক্তি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে এর আগে খবর এসেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদুকের একটি সূত্রও বলছে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ওই চার কোটি টাকার পে-অর্ডার জমা দেয়া হয়।

 


তবে প্রণব কুমার ভট্টাচার্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার কথা স্বীকার করেননি। তারা বলছেন, ‘রাষ্ট্রের একজন সাবেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ ব্যাংক হিসাবে ওই টাকা জমা দেয়া হয়।


প্রসঙ্গত, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের তোপে পড়ার পর গত বছরের অক্টোবরে ছুটি নিয়ে বিদেশ গিয়ে সেখান থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন বিচারপতি সিনহা। তিনি বিদেশ যাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে তার বিরুদ্ধে ১১টি ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের’  কথা বলা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ।

 


Top