রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আমরা প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন: নিরাপত্তা পরিষদ | daily-sun.com

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আমরা প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন: নিরাপত্তা পরিষদ

ডেইলি সান অনলাইন     ৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ১৭:৪৯ টাprinter

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আমরা প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন: নিরাপত্তা পরিষদ

 

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি) প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন পরিষদের প্রেসিডেন্ট ও পেরুর রাষ্ট্রদূত গুস্তাবো মেজা-চুয়াদ্রা। তিনি বলেন, কীভাবে এ সমস্যার সমাধান করা যায় তার জন্য বাংলাদেশে সরেজমিন অভিজ্ঞতা নিতে এসেছি।

এখান থেকে একই বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা নিতে আমরা মিয়ানমার যাব। সেখান থেকে ফিরে গিয়ে এ সমস্যার সমাধানে সম্ভাব্য সেরা উপায় খুঁজে বের করব।


সোমবার (৩০ এপ্রিল) তিন দিনের সফরে বান্দরবান ও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির পরিদর্শন শেষে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট।


তিনি আরও বলেন, এখন যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল নয়। অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে মিয়ানমারকে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে হবে। 


একইসঙ্গে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত রাখার তাগিদ দিয়েছেন সফরকারি ইউএনএসসি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তারা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সম্ভাব্য সেরা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। নিউইয়র্কে গিয়ে রোহিঙ্গাদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরব। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের পাশে আছে। 


সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের স্থায়ী প্রতিনিধি ক্যারেন পিয়ার্স, কুয়েতের স্থায়ী প্রতিনিধি মনসুর আয়াদ আল-ওতাইবি উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রতিনিধি দলটি মিয়ানমারের উদ্দেশে রওনা দেয়। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন প্রতিনিধিদলটি। 


এর আগে গত শনিবার (২৮ এপ্রিল) বিকালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের দুঃখ-দুর্দশার বিষয়ে সরাসরি খোঁজ-খবর নিতে বাংলাদেশ সফরে আসেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি)’র প্রতিনিধিদলটি। প্রতিনিধি দলের ২৬ জনের মধ্যে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের স্থায়ী প্রতিনিধিসহ ১০ জন স্থায়ী এবং পাচঁজন উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি রয়েছেন। ১৫ সদস্যের এই ইউএনএসসি প্রতিনিধিদলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চীন এই পাঁচ স্থায়ী সদস্যের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। অপর সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন, বলিভিয়া, গিনি, ইথিওপিয়া, কাজাখস্তান, কুয়েত, লেদারল্যান্ডস, পেরু, পোল্যান্ড ও সুইডেনের স্থায়ী প্রতিনিধিগণ এবং আইভরি কোস্টের ডেপুটি স্থায়ী প্রতিনিধি।


প্রসঙ্গত, এর আগে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বেরসে, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদ্রিম, তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ান, জর্ডানের রানী রানিয়া আল আব্দুল্লাহ, মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমদ জাহিদ হামিদি, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন, জাতিসংঘ মহাসচিবের যৌন সহিংসতাবিষয়ক বিশেষ দূত প্রমীলা প্যাটেন, মার্কিন ডেমোক্রেটিক সিনেটর জেফ মার্কলে, রিচার্ড ডার্বিন, কংগ্রেসের প্রতিনিধি ভেটি মেকলাম, জেন সেকস্কি, ডেভিট সিচেলিন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাসিয়া বার্ণিকাট, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত ইয়াং হি লি, ভারতে নিযুক্ত বিশ্বের ১৫টি দেশের ১৯ জন দূত, ইইউসহ জাপান, জার্মান ও সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টা লিসা কার্টিস, মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ড. উইন মায়াত আয়ে, রাখাইন অ্যাডভাইজারি কমিশনের প্রতিনিধি দল ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন।


এদের মধ্যে গত ৬ ফেব্রুয়ারিই কক্সবাজারের উখিয়ার কুতপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বেরসে এবং গতকাল ১০ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন।


এছাড়া ১১ ফেব্রুয়ারি ১১ সদস্যবিশিষ্ট ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার বিকেলে কুতুপালং ও মধুরছড়া ক্যাম্প এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার উখিয়ার বালুখালী, থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন নোবেল জয়ী তিন নারী। তারা রোহিঙ্গা নিধনে জড়িত থাকার অভিযোগে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সুচিকে দায়ী করেন। তার পদত্যাগ এবং আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের দাবি জানান। 


নোবেল বিজয়ী এই তিন নারী হলেন, ইরানের শিরিন এবাদি, ইয়েমেনের তাওয়াক্কুল কারমান ও যুক্তরাজ্যের মেরেইড ম্যাগুয়ার।


এরপর গত ৩ মার্চ টেকনাফের শামলাপুর অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য তৈরি কেরুনতলী ট্রানজিট ঘাট পরিদর্শন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টা লিসা কার্টিস।


এরপর ১১ এপ্রিল কুতুপালং রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের ডি-৫ ব্লকের আইওএমর হাসপাতালে মিয়ানমার সামরিক জান্তা কর্তৃক নির্যাতিত ২২ জন পুরুষ ও ১২ জন নারীর সাথে কথা বলেন মিয়ানমারের সমাজ কল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ড. উইন মিয়াত আয়ে। ওই সময় তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে আগের সেই পরিবেশ আর নেই। সেখানে রোহিঙ্গাদের ৩০টি ক্যাম্প নির্মাণ করা হয়েছে। ক্যাম্পে প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের কিছু রাখার পর স্ব-স্ব বাড়ি-ঘরে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। 


এদিকে ৬ এপ্রিল মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকা পরিদর্শনে যান জাতিসংঘের অফিস ফর কো-অরডিনেশান অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্সের (ওসিএইচএ) ডেপুটি হিউম্যানিটারিয়ান চিফ উরসুলা মুয়েলার। গত বছর যে এলাকাগুলোতে ব্যাপক সহিংসতা ঘটেছিল, মংডু এলাকা তার মধ্যে অন্যতম।


উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে উত্তরাঞ্চলের রাজ্য রাখাইনে মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। অভিযানের মুখে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। জাতিসংঘ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ, এই অভিযানের সময় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ‘জাতিগত নিধন’, ‘গণহত্যা’ ও ‘পদ্ধতিগত’ মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। যদিও শুরু থেকেই মিয়ানমার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার চুক্তি করেছে।

 

আরও পড়ুন:

 


মংডু সফরে ইউএনওসিএইচএ’র ডেপুটি প্রধান

 


রোহিঙ্গাদের যথাযথ মর্যাদায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে: মিয়ানমারের পুনর্বাসন মন্ত্রী

 


রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে লিসা কার্টিস

 


রোহিঙ্গা নিধনে সু চিকে দায়ী করলেন নোবেল বিজয়ী তিন নারী

 


Top