ভাসানটেক সরকারি কলেজ : শুভ জন্মদিন | daily-sun.com

ভাসানটেক সরকারি কলেজ : শুভ জন্মদিন

আবদুল্লাহ আল মোহন     ২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ১৮:০৯ টাprinter

ভাসানটেক সরকারি কলেজ : শুভ জন্মদিন



১.
আজ আমাদের প্রিয় ভাসানটেক সরকারি কলেজের জন্মদিন। চারবছর আগে ২০১৪ সালের আজকের দিনেই ঢাকার কাফরুল এলাকায় অনাড়ম্বরভাবে যাত্রা শুরু করেছিলো আমাদের প্রিয় এই কলেজটি। কলেজের সৃজনশীল সহশিক্ষার আনন্দময় কার্যক্রম ‘মঙ্গল আসর’-এর মাধ্যমে প্রতিবছরই অত্যন্ত ঘরোয়াভাবে কলেজের জন্মদিন পালন করার চেষ্টা করেছি আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে। সবাইকে সাথে নিয়ে জন্মদিনের উৎসবের আয়োজন করতে পারলেই বেশি খুশি হওয়া যেতো কিন্তু নানান বাস্তবতার কারণে সেটি সম্ভব হয়ে ওঠে না বলে বেশ খারাপই লাগে। আশাকরি আগামিতে স্বপ্নময় আনন্দ অনুষ্ঠান করতে সক্ষম হবো, যদি এই কলেজেই থেকে যাই ততদিন। অতীতে জন্মদিন পালনে আমাকে অনুপ্রাণিত করার জন্য প্রিয় সুলতানা খান ম্যাডামকে স্মরণ করছি, তিনি বদলি হয়ে গেলেও সবিশেষ ভূমিকা পালনের জন্য তাকে জানাই ধন্যবাদ আর প্রতিটি জন্মদিনে শিক্ষার্থীদের জন্য চকলেট উপহার দেওয়ার জন্য গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক রাশনা রশীদ ম্যাডামের প্রতিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।



চারপাশে প্রতিনিয়ত ইতিহাসের বিকৃতি ও বিক্রীত উপস্থাপনা দেখে দেখে ভীষণ বিভ্রান্ত মন স্মরণ করে শ্রীযুক্ত যদুনাথ সরকার মহাশয়কে। তিনি মনে করতেন ইতিহাস চর্চার উদ্দেশ্য সত্যের আবিস্কার এবং উদ্ধার; এ সত্য নিত্য ও গুপ্ত সত্য নয়, অনিত্য এবং লুপ্ত সত্য। অতএব এ সত্য দর্শন লাভের জন্য বিজ্ঞানের সাহায্য আবশ্যক। অতীতের জ্ঞানলাভের জন্য চতুরতার শব্দ চয়ন কৌশল অবলম্বন নয়, প্রয়োজন প্রজ্ঞাবান দৃষ্টিভঙ্গির, বুদ্ধি-বিবেচনার সত্য তথ্য সমাহার, সম্ভার। অতীতের অন্ধকারের উপর বুদ্ধির আলো ফেলাই হচ্ছে ঐতিহাসিকের অন্যতম কর্তব্য, অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়া নয় মোটেই।

অথচ চারপাশে ইতিহাসচর্চাকারীদের মাঝে কেবল অণ্ধকারে ঢিলই ছোঁড়া নয়, পাথরও ছুঁড়তে দেখছি অহরহ। ফলে ‘সত্যের মতোন বদমাইশ’ গুম হচ্ছে, নিখোঁজ সংবাদ বাড়ছে, মিথ্যার মোহ-মায়াজালে বিভ্রান্তির জলে হাবুডুবু খেয়ে খেয়ে আমরা কেউ কেউ ‘আত্মরতি সম্মোহন’ রোগে নিজে আক্রান্ত হচ্ছি, সংক্রমণও বাড়াচ্ছি সমাজে। জীবনানন্দ ভাষ্যে যেমন সকলেই কবি নন, তেমনি সকলেই ইতিহাসবিদও হয়ে উঠতে পারেন না। লাগে নিবিড় পাঠ ও পর্যবেক্ষণের নির্মোহ অনুসন্ধিৎসা মন, মনস্বীতা। সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম দৃষ্টিতে একারণেই তীব্র হাহাকারে উচ্চারিত হয়েছিলো- ‘বাঙালির ইতিহাস নাই’ ক্ষোভ। আর তাই ইতিহাসের উত্তরাধিকারের দায় মেটাতে প্রতি বছরই এদিন নিয়মিত ক্লাসের বাইরে সময় বের করে রাখি কলেজের জন্মদিন পালন করতে। কিন্তু জন্মদিনের আনন্দ উৎসবের সমারোহ পায় না মানবিক কারণেই। কারণ এদিনেই আমরা বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করে থাকি কয়েক বছর বছর আগে সাভার রানা প্লাজায় নিহত-আহতদেরকে, তেমনই ১৯৫০ সালের আজকের দিনে রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে হতাহত বীরদের বিদেহি আত্মার শান্তি ও মঙ্গল কামনা করি আমরা।


৩.
আমরা কলেজের জন্মদিনের শুরুতেই কৃতজ্ঞতার সাথে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। কারণ তাঁর একান্ত আগ্রহেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘৬/১১ প্রকল্প’ গ্রহণ করে ঢাকা শহরের নিম্নবিত্ত মানুষের সন্তানের শিক্ষার সুযোগ প্রদানের জন্য সম্পূর্ণ নতুন প্রতিষ্ঠা করা হয় আমাদেরই মতো ৬টি সরকারি কলেজ এবং ১১টি সরকারি বিদ্যালয়। তাঁর মানসম্পন্ন শিক্ষাক্ষণ প্রতিষ্ঠার মৌলিক চেতনা-আদর্শকে যেন ধারণ করে সমাজ-রাষ্ট্রে প্রকৃত জ্ঞান চর্চার, প্রকাশ ও বিকাশের উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারি সেই ভাবনার জলেও স্নাতক হওয়া জরুরি বলে বিবেচনা করি। কারণ সর্বত্র কেবল সাময়িক অর্থমোহ উত্তেজনায় ফরজ ভুলে নফলের দিকে বেশি প্রীতি-সমাদরের সমারোহ দেখে দেখে চরম দিক্ভ্রান্ত্র, বিপর্যস্ত আমরা অনেকেই। অনন্য ও অণুকরণীয় শিক্ষাঙ্গণ সৃষ্টির যে অসাধারণ স্বপ্ন নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমন প্রকল্প পরিকল্পনার বীজ বপন করেছিলেন, সেই অংকুর কাংখিত মহীরুহে পরিণত হওয়া না হওয়া নির্ভর করে এর সাথে সংশ্লিষ্টজনের মানসিকতা, দক্ষতা, প্রজ্ঞার সুষম বিন্যাসে, সঠিক প্রয়োগ যোগ্যতায়। রাশিয়ার চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, সকল অসুখের সবচেয়ে বড় ঔষুধ হচ্ছে শিক্ষা, মানসম্পন্ন সুশিক্ষা সুনিশ্চিত করতে পারাটা।

 

জাতির জনকের কন্যার, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্রী শেখ হাসিনার একান্ত চেতনায় এমন বোধেরই সতত জাগরণ দৃশ্যমান হয় বলেই এই প্রকল্পের কলেজের জন্ম। ফলে এর সাথে জড়িতজনেরা কেবল আজ্ঞাবহনকারী চাকুরে মাত্র নন, অনন্য সৃজনীকর্মের স্বপ্ন নির্মাণ যোদ্ধাও বলে বিবেচনা করি। সহায়ক শক্তি ছাড়া কোন মুকুলই বিকশিত হতে পারে না। সুতরাং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি, সংশ্লিষ্ট অন্য সকলের প্রতি আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা জানানোর মধ্য দিয়ে একান্ত ব্যক্তিগত বা নিজস্ব উৎসাহে কলেজের জন্মদিন পালন করি। তাছাড়া ভাসানটেক বস্তিতে কলেজটির প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট এবং সুশিক্ষার সাথে সুশাসনের গভীর সুসম্পর্কের বিষয়টিও ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে থাকি। ছেলে-মেয়েদের মনখোলা ভাবনাগুলোও শুনি মন দিয়ে। জন্মদিনের কেকের বদলে যৎসামান্য মিষ্টি চকলেট জাতীয় খাবারের স্বাদও গ্রহণ করি সবাই। উল্লেখ্য যে, আমরা আমাদের ভাসানটেক সরকারি কলেজের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের নামকরণও করেছি বিশ্ববরেণ্য স্মরণীয় জ্ঞানীদের, কৃতি মনীষীদের নামানুসারে। আলোকিত চেতনায় নিরন্তর সজীব থাকতে তাই নিয়মিতভাবে তাঁদের জন্মদিন, প্রয়াণ দিবসও আমরা পালন করার চেষ্টা করে থাকি।

 


৪.
কলেজের ইতিহাস রচনার প্রারম্ভেই আমাদের কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করতে হয় জাতির পিতাকে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু নিরন্ন মানুষের মুখে অন্ন দেওয়া, দরিদ্র ও নিঃস্ব ভূমি ও গৃহহীনদের পুনর্বাসন করা, বস্ত্রহীনদের বস্ত্র, সুশিক্ষিত জাতি ও সকলের জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে আমাদের উপহার দিয়েছিলেন। তারই প্রমাণ পাই ভাসানটেক প্রকল্পের ইতিহাস পর্যালোচনায়। জানা যায়, ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজধানীর ছিন্নমূল বস্তিবাসী মানুষের জন্য মিরপুরের ভাসানটেক এলাকার প্রায় ৪৮ একর সরকারি খাস জমিতে মাথা গোঁজার মতো একটি জায়গা করে দিয়েছিলেন। তারই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানুষের মৌলিক অধিকার খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়ে ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনতে সচেষ্ট হন। আর সেই বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার বস্তিবাসি ও নিম্নআয়ের মানুষের মাথা গোঁজার ঠিকানা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই সুউচ্চ ভবনগুলো নির্মাণ করে ওগুলোতে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

 


৫.
ভাসানটেক বস্তিবাসী ও বাস্তুহারাদের পুনর্বাসনের জন্য বহুতলবিশিষ্ট ভবন নির্মাণের রূপকার ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফলে ১৯৯৬ সালে তাঁরই নেতৃত্বে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছিন্নমূল মানুষের জন্য ঢাকায় সরকারি জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করে ভূমি মন্ত্রণালয়। ১৯৯৮ সালে একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। পরে ভাসানটেক এলাকায় প্রায় ৪৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তারই ফলে ২০০৩ সালে সরকারি খাস জমি ভাসানটেক প্রকল্পে ১১১টি ভবন নির্মাণ করে বস্তিবাসী ও নিম্নআয়ের মানুষকে স্বল্পমূল্যে পুনর্বাসন করার জন্য তদানিন্তন সরকার একজন ডেভেলপারকে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করার জন্য নিযুক্ত করে। কিন্তু ডেভেলপার কোম্পানীটি সরকারের সাথে চুক্তির নানা শর্ত ভঙ্গের কারণে ২০১০ সালে সরকার চুক্তিটি বাতিল করে।

 

 

ফলে প্রকল্পটির পুরোটা বাস্তবায়ন শেষ হয়নি, অসমাপ্ত অবস্থায় আছে। বর্তমানে প্রকল্প এলাকায় এ টাইপের ৬টি ও বি টাইপের ৮টি সুউচ্চ ভবনে আনুমানিক দুই হাজার পরিবারের মাথা গোজার ঠাই নিশ্চিত হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানীতে আশ্রয়হীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠিকানা নিশ্চিত হয়েছে। এই প্রকল্প এলাকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজধানীতে অবহেলিত এলাকায় যে ১১টি স্কুল ও ৬টি কলেজ নির্মাণের অঙ্গিকার ছিলো, সে অনুযায়ী ১টি কলেজ ও ১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। আর এরই ফসল আমাদের ভাসানটেক সরকারি কলেজ এবং স্কুলটি। এই দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অত্র অঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা লাভের পথ আরও সুগম হবে বলে সরকারের পাশাপাশি এলাকাবাসীগণও আশা প্রকাশ করছেন। প্রকৃত ও সঠিক মানসম্পন্ন সুশিক্ষা সুনিশ্চিত করার বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করাই হবে জাতির জনকের কন্যার শিক্ষার চেতনাকে সমুজ্জ্বল রাখা। সংখ্যার ভারে যেন মানের অধ:পতন না ঘটে সেদিকে সুনজর দেওয়া অতিব জরুরি বিবেচনা করি। যে চেতনায় প্রকল্পের কলেজ-স্কুলগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার গভীর অন্তর্নিহিত ভাবকে যেন আমরা অনুধাবন করতে ব্যর্থ না হই। তাহলে আমাদের সকল কর্মপ্রচেষ্টাই বিফলে যাবে। অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপনের বদলে অসম্মানকে যেন মূল্য না দিয়ে বসি।

 


৬.
আজ ছিলো সাভারের রানা প্লাজা ধসের তিন বছর। অত্যন্ত বেদনাদায়ক এই ঘটনাকেও আমরা স্মরণ করছি। ঘটনার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও নিহত অনেক শ্রমিকে লাশের খোঁজ পায়নি স্বজনেরা। আজও মেলেনি নিহত-নিখোঁজের সঠিক সংখ্যা। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রানা প্লাজা নামের ভবনটি ধসে পড়ে। ভবনটিতে নিউওয়েভ বটম, প্যানথম অ্যাপারেল, প্যানথম ট্যাক, আর্থ ট্যাক এবং নিউওয়েব স্টাইল নামের পাঁচটি পোশাক কারখানা ছিল। গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) হিসাবমতে, ওই পাঁচ কারখানায় শ্রমিক ছিল তিন হাজার ৯৪১ জন। এর মধ্যে জীবিত ও আহত শ্রমিক উদ্ধার করা হয় দুই হাজার ৪৩৮ জনকে। নিহত হয় এক হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক। নিখোঁজ হয় ৩৬৫ জন শ্রমিক। এর মধ্যে ডিএনএ টেস্ট করে ২৬৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়। রানা প্লাজা ট্রাজেডির পর নাজুক অবস্থার মুখোমুখি হয় দেশের প্রধান রফতানি খাত পোশাক শিল্প। এখন পর্যন্ত দেশি-বিদেশি চাপে পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে দেশের প্রধান রফতানি খাত। রানা প্লাজা ধসের হতাহত আমাদের মা-বোন-ভাইদের সকলের প্রতিই জানালাম বিনম্র শ্রদ্ধা। সবাই আশা প্রকাশ করলাম আর যেন একটিও দুর্ঘটনা না ঘটে। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক সকল ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সকল মহলই সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।

 


৭.
“জীবন মানুষের সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ। এই জীবন সে পায় মাত্র একটি বার। তাই এমনভাবে বাঁচতে হবে, যাতে বছরের পর বছর লক্ষ্যহীন জীবন যাপন করার যন্ত্রণা ভরা অনুশোচনায় ভুগতে না হয়। যাতে বিগত জীবনের গ্লানি ভরা লজ্জার দহন সইতে না হয়। এমনভাবে বাঁচতে হবে যাতে মৃত্যুর মুহূর্তে মানুষ বলতে পারে, আমার সমগ্র জীবন আমার সমগ্র শক্তি আমি ব্যয় করেছি এই দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আদর্শের জন্য, মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রামে। ” মহান রুশ কথাশিল্পী নিকোলাই অস্ত্রভস্কি’র এই মহান বাণী সত্য হয়ে উঠেছিল ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল, রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে। এ ভূ-খণ্ডের গণতান্ত্রিক ও বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসের এই অবিস্মরণীয় দিনে তৎকালীন মুসলিম লীগ সরকারের রক্তের হোলি খেলায় ঝরে যায় বিপ্লবী প্রাণ। ১৯৫০ সালের এই দিনে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের 'খাপড়া ওয়ার্ডে' নিরস্ত্র অসহায় কমিউনিস্ট রাজবন্দিদের ওপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই সাতজন বিপ্লবী প্রাণ হারান।

 

বন্দি অবস্থায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন কমিউনিস্ট পার্টির কর্মী সুধীন ধর, বিজন সেন, হানিফ শেখ, সুখেন্দু ভট্টাচার্য, দেলোয়ার হোসেন, কম্পরাম সিং ও আনোয়ার হোসেন। আহত হন ৩২ জন। তাদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গিয়েছিলেন। সেদিনের লড়াইয়ে একদিকে ছিলেন নিরস্ত্র রাজবন্দিরা, অন্যদিকে ছিল গণসংগ্রামে ভীত সরকারের সশস্ত্র পেটোয়াবাহিনী। ঐতিহাসিক খাপড়া ওয়ার্ড দিবসে, হত্যাকাণ্ডের ৬৬তম বার্ষিকীতে খাপড়া ওয়ার্ডের শহীদদের ও আহতদের সকলের স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। খাপড়া ওয়ার্ডের শহীদ-যোদ্ধাদের আদর্শ, লড়াই ও আত্মত্যাগ থেকে নতুন প্রজন্মের শিক্ষা নেওয়ার আছে। কারণ শহীদের কখনো মৃত্যু হয় না, তাঁরা মানুষের মনের মাঝে রয়ে যান। জাতীয়ভাবে এ দিনটি পালনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি।

 


৮.
বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন মনে করতেন, ‘ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় শিক্ষক'। আইনস্টাইন আরো বলেছিলেন, ‘জ্ঞানের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কল্পনা’, ‘কখনোই প্রশ্ন করা থেকে বিরত হবে না’ এবং ‘খালি পেট ভালো রাজনৈতিক উপদেশ দেয় না’। বিংশ শতাব্দীর সেরা মানুষ, বিজ্ঞানী, পদার্থতত্ত্ববিদ, অ্যালবার্ট আইনস্টাইনকে একজন শিক্ষক হিসেবে তাই আমার অতি আপনজন, স্বজন মনে হয়। তাঁর ‘ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় শিক্ষক' চেতনার সম্প্রসারণে আজকের এই বিশেষ দিনে একান্ত কামনার চেয়ে আর বেশি কী করতে পারি বেদনাহত আমরা ?

 

লেখক ঃ আবদুল্লাহ আল মোহন

সহকারি অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ

ভাসানটেক সরকারি কলেজ, ঢাকা


Top