স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির দুই নেতা | daily-sun.com

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির দুই নেতা

ডেইলি সান অনলাইন     ২২ এপ্রিল, ২০১৮ ১২:৪৬ টাprinter

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির দুই নেতা

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ দুই নেতা। রবিবার (২২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্ষে প্রবেশ করেন।


আরেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর আসার কথা বিএনপি জানালেও শেষ পর্যন্ত তিনি আসেননি।


জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়াদি ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতের বিষয়ে কথা বলার জন্য বিএনপির নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ বৈঠকে বসেছেন।


এছাড়া পহেলা মে শ্রমিক দিবসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চায় বিএনপি। ওই সমাবেশের সহযোগিতার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা চাওয়া হতে পারে বলে জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।


এর আগে সোয়া ১১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের এক মানববন্ধনে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যাব আমাদের নেত্রীর বিষয়ে জানতে।’


এর আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ২৯ মার্চ মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। বিভিন্ন দফতরে আবেদন করে অনুমতি না পেয়ে ২৭ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন দলটির এই তিন নেতা।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বিএনপির প্রতিনিধি দলের প্রধান নজরুল ইসলাম খান বলেছিলেন, ‘সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি। যেহেতু ডিএমপি আমাদের অনুমতি দেন না, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই তাদের সর্বোচ্চ প্রশাসন। তাই তার কাছেই আমরা একটি চিঠি দিয়েছি।’


পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিষয়টি অবহিত হলাম। সমাবেশের অনুমতি দেয়ার এখতিয়ার ডিএমপি কমিশনারের। কোনো ধরনের নাশকতার আশঙ্কা না থাকলে, তারা অনুমতি দিবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’


তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে ওই সমাবেশ করার অনুমতি সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি।


এদিকে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবিত আজই কারা কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করবে বিএনপি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে এ আবেদন করবেন। শনিবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।


বৈঠকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্যা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, লে. জে. (অব.) মাহাবুবুর রহমান, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে প্রায় ৯টা পর্যন্ত।


বৈঠক থেকে বের হয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা মানি আর না মানি, একটা সরকার আছে, সরকারের কাছে তো বলতে হবে। আলোচনা চলছে, দেখি।


উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।  গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ৭৪দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।


ইতোমধ্যে বিচারিক আদালতের রায় বাতিল এবং জামিন চেয়ে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে আপিল করেছেন।

 

আরও পড়ুন:

 

খালেদার দেখা পাননি ফখরুলসহ তিন নেতা

 

খালেদার শরীরে এমন কোনও রোগ নেই, যার চিকিৎসা এদেশে সম্ভব নয়: ডা. শামসুজ্জামান

 

কারা কর্তৃপক্ষকে খালেদার এক্সরে রিপোর্ট হস্তান্তর

 

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ফের কারাগারে খালেদা জিয়া

 

আপাতত দৃষ্টিতে খালেদা জিয়া ভালো আছেন: বিএসএমএমইউ পরিচালক

 

 


Top