বিবর্তনবাদের একটি মৌলিক তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত | daily-sun.com

বিবর্তনবাদের একটি মৌলিক তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত

ডেইলি সান অনলাইন     ২৬ আগস্ট, ২০১৬ ১৬:৫৮ টাprinter

বিবর্তনবাদের একটি মৌলিক তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত

 


লুই ক্যারোলের 'থ্রু দ্য লুকিং গ্লাস' বইয়ে রেড কুইন ওয়ান্ডারল্যান্ডে আসা অ্যালিসকে ব্যাখ্যা করে বলছিলেন কী করে প্রাণিজগতের কোনো প্রজাতিটি টিকে থাকে: "এখন, এখানে, তুমি দেখতে পাচ্ছ, একই জায়গায় থাকার জন্য, তোমার পক্ষে যতটা দৌঁড়ানো সম্ভব ততটাই দৌঁড়াতে হচ্ছে।"


বিজ্ঞানীরা এটিকে বির্তনের জন্য একটি রুপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন: একটি শেয়ালকে ঠিক ততটা দ্রুত গতিতেই দৌঁড়াতে সক্ষম হতে হবে যতটা দ্রুত গতিতে দৌঁড়ালে সে একটি খরগোশকে ধরতে পারবে। অন্যদিকে, একটি খরগোশকেও ঠিক ততটা দ্রুত গতিতেই দৌঁড়াতে সক্ষম হতে হবে যতটা দ্রুত গতিতে দৌঁড়ালে সে শেয়ালের আগ্রাসন থেকে পালিয়ে বাঁচতে পারবে।


তবে তথাকথিত রেড কুইন হাইপোথিসিস বা অনুমান আর কার্যকর থাকেছে না বলেই মনে হয়, যখন দুটি প্রজাতি একসঙ্গে একটি একক প্রজাতি হিসেবে কাজ শুরু করে বা বিবর্তিত হয়। যার 'মিউচুয়ালিস্ট' বা আপসকামী প্রবণতা আবার দ্রুত বিবর্তনের মাধ্যমে বিকশিত হয়। পরিণতিতে এটি বেশি সহায়তা সরবরাহ করে বিনিময়ে একটি অন্যায্য চুক্তি বা বন্দোবস্ত পায়।


গত প্রায় এক দশক ধরেই বিজ্ঞানীরা রেড কিং ইফেক্ট তত্ত্বে বিশ্বাস করে আসছিলেন। এই তত্ত্ব মতে, মিউচুয়ালিস্টরা বা পরস্পর সমঝোতার মাধ্যমে টিকে থাকা দুটি প্রজাতি অনেক ধীর গতিতে বেড়ে ওঠে বা পরিণতি লাভ করে- যেমন করে দাবা খেলায় রাজার পরিণতি ঘটে।


কিন্তু নেচার কমিউনিকেশন জার্নালে প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় এই তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হতে চলেছে। নতুন এই গবেষণায় দেখা গেছে, মিউচুয়ালিস্ট বা সমঝোতাকারীরা নিঃসঙ্গ কোনো প্রজাতির চেয়ে বরং আরো দ্রুত গতিতে বিকশিত হয়।


গবেষকরা অ্যাকাসিয়া গাছের মতো উদ্ভিদকে রক্ষার জন্য বিবর্তিত পিপড়ার প্রজাতির বংশগতি পর্যবেক্ষণ করে এই সিদ্ধান্তে এসেছেন। পিপড়াগুলোর এই প্রতিরক্ষামূলক দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে অ্যাকাসিয়া নামের ওই উদ্ভিদ তাদেরকে খাদ্য এবং বাসস্থানের জন্য বিশেষ বাসা বাঁধার সুযোগ করে দেয়।

এই পিপড়াগুলো 'অবিশ্বাস্য রকমভাবে আগ্রাসী, সক্রিয়ভাবে টহলদানকারী এবং তৃণভোজী ও অন্য আগ্রাসী প্রজাতিগুলোর ওপর আক্রমণাত্মক আচরণ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন'। আশ্রয়দাতা অ্যাকাসিয়া প্রজাতির উদ্ভিদগুলোর প্রতিরক্ষার জন্যই বিবর্তনের প্রক্রিয়ায় তারা এই বৈশিষ্ট অর্জন করেছে।


এরপর গবেষকরা ওই প্রজাতির পিপড়াগুলোর বিবর্তনের গতির সঙ্গে কোস্টারিকার একই জায়গার সাধারণ প্রজাতির পিপড়ার বির্তনের গতির তুলনা করে দেখেন। গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ প্রজাতির পিপড়াগুলো তাদের বাসস্থান হামলার শিকার হলে আগ্রাসনকারীদের প্রতিরোধ না করে বরং পালিয়ে বাঁচতে চায়।


গবেষকদের একজন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. বেঞ্জামিন রুবিন বলেন, "আমরা মূলত পিপড়াদের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে অন্য প্রজাতির সঙ্গে সমঝোতামূলক আচরণের জেনেটিক বা বংশগতিক ভিত্তি উদঘাটনের উদ্দেশে গবেষণাটি চালিয়েছি।"


"গবেষণায় আমরা উদ্ভিদে বসবাসকারী তিনটি সমঝোতামূলক প্রজাতির পিপড়া এবং তাদের ঘনিষ্ঠ আরো চারটি অসমঝোতামূলক প্রজাতির পিপড়ার জেনোম সিকোয়েন্স বা বংশগতির পর্যালোচনা করি।"


"এতে বিস্ময়করভাবে আমরা দেখতে পাই যে, সমঝোতামূলক প্রজাতির পিপড়ারা সাধারণ প্রজাতির পিপড়াদের চেয়ে তাদের পুরো বংশগতিজুড়ে অনেক বেশি উচ্চহারে বিবর্তিত হয়েছে।"


তবে বিবর্তনের মাধ্যমে এই দ্রুত পরিবর্তনের পেছনের কারণ এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।


কিন্তু গবেষকদের অনুমান, সমঝোতামূলক বা সহাবস্থানকারী পিপড়াদের বিশাল জনসংখ্যা এবং দীর্ঘায়ু তাদের দ্রুত ও বেশি বেশি জেনেটিক বা বংশগতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকতে পারে।


শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়াম এর কিউরেটর এবং নেচার কমিউনিকেশনস এর সহ রচয়িতা অধ্যাপক কোরি মোরু বলেন, "ওই প্রজাতির পিপড়া এবং তাদের আশ্রয়দানকারী অ্যাকাসিয়া উদ্ভিদ পরস্পরকে কখনো ছাড়তে চায়নি বলেই হয়তো তাদের এই দ্রুত বিবর্তন হয়েছে। এরা হয়তো বিলুপ্ত হওয়ার ভয়ে পরস্পরকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। এবং টিকে থাকার প্রয়োজনেই দ্রুত বিবর্তনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে পরিবেশ-পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে।"


"অন্য আর যেকোনো জীবের মতোই সমঝোতামূলক প্রজাতিগুলোকে প্রতিনিয়তই বেঁচে থাকার জন্য পরিবেশ-পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদেরকে মানিয়ে নিতে হয়। তবে পরস্পরের সঙ্গে নির্ভরতামূলক সম্পর্কের ভিত্তিতে তাদেরকে বিবর্তনের জন্য অতিরিক্ত কিছু কাজও সম্পন্ন করতে হয়।"

সূত্র : দ্য ইনডিপেনডেন্ট

 


Top