যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতার রনি | daily-sun.com

যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতার রনি

ডেইলি সান অনলাইন     ২০ এপ্রিল, ২০১৮ ১৩:৫০ টাprinter

যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতার রনি

 

চট্টগ্রামে চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করার ১০ ঘণ্টা পর মামলা নিয়েছে নগরীর সিএমপি পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিসহ দুইজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়।

  মামলাটি রেকর্ড করেন পাঁচলাইশ থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ। এখন যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতার হতে পারেন নুরুল আজিম রনি।


চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আব্দুর ওয়ারীশ খান বলেন, কোচিং সেন্টারের মালিক রাশেদ মিয়া বাদি হয়ে নুরুল আজিম রনি ও তার বন্ধু নোমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তদন্ত শেষে সত্যতা নিশ্চিত হয়েই অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।  


এদিকে, ঘটনার পরই আত্মগোপনে চলে গেছেন নুরুল আজিম রনি। জানা গেছে, আত্মরক্ষার্থে এক মন্ত্রীর সহায়তায় বৃহস্পতিবার (১৯ এপ্রিল) রাতেই ঢাকায় পাড়ি দিয়েছেন রনি। এর আগে শিক্ষক পেটানোর ঘটনায় মামলা হওয়ার পর পরই সেই মন্ত্রীর ছায়ায় অবস্থান নেন তিনি। 


নগরের চকবাজারে অবস্থিত একটি কলেজের ওই অধ্যক্ষকে মারধর করা নিয়ে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েন রনি। সেই সমালোচনার ঝড় কাটতে না কাটতেই এক কোচিং সেন্টারের মালিককে অফিসে গিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠে নুরুল আজিম রনির বিরুদ্ধে।


বৃহস্পতিবার এই ঘটনায় বাদী হয়ে মোহাম্মদ রাশেদ (কোচিং সেন্টারের মালিক) নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে রনি ও তার বন্ধু নোমানকে আসামি করা হয়।  এরপর ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। 

 

অভিযুক্ত নুরুল আজিম রনি


কোচিং সেন্টারের অফিস কক্ষের প্রায় ৬ মিনিটের এই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের মালিক রাশেদ মিয়াকে আঙুল তুলে শাসিয়ে টেবিল চাপরাচ্ছেন রনি। এক পর্যায়ে রাশেদের গালে থাপ্পড় মারতে দেখা যায় রনিকে। পরে চুল ধরে টানা-হেঁচড়া করে রাশেদের গালে কয়েকবার থাপ্পড় মারেন তিনি।


মাঝে মধ্যে চলতে থাকে তার ‘শাসন’। এভাবে প্রায় আড়াই মিনিট চলার পর রুম ছেড়ে বেরিয়ে যান রনি। কয়েক মুহূর্ত পরই আবারো ফিরে এসে গালমন্দ করতে থাকেন। এই মুহূর্তে তাকে দীর্ঘ সময় কারো সঙ্গে ফোনালাপে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।


পুরো ঘটনায় কোচিং মালিক রাশেদকে হাতজোড় করে চেয়ারে বসে থাকতে দেখা গেছে।


২০১৩ সালের অক্টোবরে ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন নুরুল আজিম রনি। আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবেই তিনি এ পদ পান। যদিও এর আগে ছাত্রলীগের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবিতে রনি ছিলেন না। সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়ার পর থেকেই তিনি একের পর এক অঘটন ঘটানো শুরু করেন। তার অপকর্ম পুরো সংগঠনের কার্যক্রমকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।


হাটহাজারীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কেন্দ্র দখল ও প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে অস্ত্রসহ ধরা পড়েন রনি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে সাজা দেন। রনির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের হাটহাজারি থানায় দায়ের করা একটি অস্ত্র মামলাও বিচারাধীন আছে।


অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রতিবাদে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের নেয়া সুইমিং পুল নির্মাণ প্রকল্পের বিরুদ্ধে অবস্থানসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে রনি অংশ নেন। এক অধ্যক্ষকেও পেটান তিনি। এতে নগর ছাত্রলীগের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

 

 

 

 


Top