খালেদার দেখা পাননি ফখরুলসহ তিন নেতা | daily-sun.com

খালেদার দেখা পাননি ফখরুলসহ তিন নেতা

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ১৭:৩৬ টাprinter

খালেদার দেখা পাননি ফখরুলসহ তিন নেতা

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারলেন না দলটির তিন শীর্ষ নেতা। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে গেলেও কারাকর্তৃপক্ষ তাদের দেখা করার অনুমতি দেয়নি।

তবে আগামীকাল অথবা পরশু যেতে বলেছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান। তারা অনুসন্ধান কক্ষে প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষা করেন। পরে কারা কর্তৃপক্ষ তাদের জানায় আজ দেখা করার অনুমতি নেই।


পরে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, বিকেল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে আমাদের দেখা করার সময় দেয়া হয়েছিল। আমরা সময়মতো এসেছিও। প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষা করার পর কারা কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছেন আজ সাক্ষাত করতে দেয়া সম্ভব নয়।


কেন দেখা করতে দেয়া হলো না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিষয়টা তিনি নিজেও জানেন না এবং কারা কর্তৃপক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।


এদিকে কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, আগামী রবিবার (২২ এপ্রিল) খালেদা জিয়ার সাথে বিএনপি নেতাদের সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হতে পারে।

 


এর আগে গত ৬ এপ্রিল বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে যান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই দিন কারাগার থেকে বেরিয়ে কারা ফটকের সামনে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে সত্যিকার অর্থেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবে তিনি অসুস্থ হলেও তার মনোবল অটুট আছে।


এর পরের দিনই শনিবার (৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেয়া হয় এবং সেখানে তার ব্যক্তিগত একজন চিকিৎসক ও তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুসারে পাঁচ ধরনের (সার্ভিক্যাল স্পাইন, লাম্বার স্পাইন, হিপ জয়েন্ট (দুটি) ও পেলভিস) এক্সরে করানো হয়।


স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দুপুর দেড়টার দিকে তাকে হাসপাতাল থেকে ফের কারাগারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুর পৌনে ২টায় তাকে বহনকারী গাড়িবহর কারাগারে পৌঁছায়।


এর পরের দিন ৮ এপ্রিল খালেদার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শামসুজ্জামান শাহীন গণমাধ্যমকে বলেন, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শরীরে এমন কোনও রোগ নেই, যা এদেশে চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, তাঁর রিউমেটাল আর্থ্রাইটিস ও অস্টোআর্থ্রাইটিস রয়েছে। যদিও তার হাঁটু প্রতিস্থাপন করা আছে। এ নিয়ে তার কোনও অভিযোগ নেই বলে তিনি আমাদের জানিয়েছেন।


উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।   গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ৭১দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।


ইতোমধ্যে বিচারিক আদালতের রায় বাতিল এবং জামিন চেয়ে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে আপিল করেছেন।

 

আরও পড়ুন:

 

খালেদার শরীরে এমন কোনও রোগ নেই, যার চিকিৎসা এদেশে সম্ভব নয়: ডা. শামসুজ্জামান

 

কারা কর্তৃপক্ষকে খালেদার এক্সরে রিপোর্ট হস্তান্তর

 

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ফের কারাগারে খালেদা জিয়া

 

আপাতত দৃষ্টিতে খালেদা জিয়া ভালো আছেন: বিএসএমএমইউ পরিচালক

 

 


Top