কাশ্মীরের নরক থেকে পালিয়ে শিশুটি এখন হোস্টেলে | daily-sun.com

কাশ্মীরের নরক থেকে পালিয়ে শিশুটি এখন হোস্টেলে

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ১৬:৪৫ টাprinter

কাশ্মীরের নরক থেকে পালিয়ে শিশুটি এখন হোস্টেলে

তিন দিনের পথ পেরিয়ে বাপের বাড়ি পৌঁছেছে খালেদা লস্কর (ছদ্মনাম)। ১৫ বছরের খালেদার বিয়ে হয়েছিল কাশ্মীরে।

কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক, মানসিক ও যৌন অত্যাচার সহ্য করতে না-পেরে সে পালিয়ে এসেছে। কলকাতার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের পাশের এক গ্রামে খালেদার বাপের বাড়ি। গত সোমবার রাতে খালেদা সেখানে পৌঁছয়। কিন্তু বাপের বাড়ির লোক তাকে কাশ্মীর ফিরে যেতে চাপাচাপি শুরু করেন। বুধবার খালেদা জানায়, কিছুতেই সে আর শ্বশুরবাড়ি যাবে না।

 

খালেদার এ বার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার কথা ছিল। অভিযোগ, মথুরাপুর কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলের ছাত্রী খালেদার সঙ্গে কাশ্মীরের এক গ্রামের এক প্রৌঢ়ের বিয়ে দিয়ে দেন বাবা-মা। এ দিন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দন মাইতির কাছে গিয়ে খালেদা জানায়, সে আর শ্বশুরবাড়ি যেতে চায় না। পড়াশোনা করতে চায়। চন্দনবাবু বলেন, ‘‘মনে হচ্ছে, বাড়ির লোক মেয়েটিকে কাশ্মীরে মধ্যবয়সি লোকটির কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন।’’

 

খালেদারা চার ভাইবোন। তার দিদির বয়স ১৮। জানুয়ারির গোড়ায় বাবা-মা দুই বোনকে কাশ্মীরে নিয়ে যান। বাবা-মা বলেছিলেন, কাশ্মীরে যাওয়া হচ্ছে বেড়াতে। এ দিন খালেদা বলে, ‘‘কাশ্মীর গিয়ে দিদি আমায় বলে, ওর বিয়ে। আমারও নাকি বিয়ে হবে। তার পরে ওই লোকটার সঙ্গে ওরা আমার বিয়ে দিয়ে দেয়।’’

 

বিয়ের পরে খালেদা জানতে পারে, তার স্বামীর আগেও দু’বার বিয়ে হয়েছে। খালেদা বলে, ‘‘শুধু মারধর নয়। আরও অনেক কিছু করতে বাধ্য করত। এক বার আমাকে বিষ খাওয়াতে গিয়েছিল। সহ্য করতে না-পেরে দিদিকে সব জানিয়েছিলাম। দিদির বর কিন্তু খারাপ নয়।’’

খালেদার জামাইবাবুই তাকে জম্মুতে পৌঁছে দেন। সেখান থেকে ট্রেনে হাওড়ায় পৌঁছয় খালেদা। কিন্তু বাড়িতে তার ঠাঁই হয়নি।

 

 এখন খালেদা স্কুলের হোস্টেলেই রয়েছে। বুধবার রাতে খালেদার মা-বাবা জানান, খালেদার বিয়ে দিয়ে তারা ভুল করেছেন। খালেদা পড়াশোনা চালিয়ে যাক, এটাই তারা চান।

 


Top