নিরাপত্তা পরিষদ ব্যর্থ, আইসিসি’তে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার বিচার দাবি | daily-sun.com

নিরাপত্তা পরিষদ ব্যর্থ, আইসিসি’তে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার বিচার দাবি

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ১৫:২২ টাprinter

নিরাপত্তা পরিষদ ব্যর্থ, আইসিসি’তে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার বিচার দাবি

 

রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু সংকট নিরসনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ব্যর্থ হয়েছে। আর তাই ১৫-জাতির এই সংস্থাকে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যৌন সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধের বিচারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্টে (আইসিসি) পাঠানোর দাবি তুলেছেন এক রোহিঙ্গা আইনজীবী।

মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বির্তকে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি তোলেন।


যুদ্ধপরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদ এই উন্মুক্ত বিতর্কের আয়োজন করে। তাতে এনজিও-গুলোর পক্ষে আইনজীবী রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমি যেখান থেকে এসেছি সেখানে নারী ও মেয়েরা গণ ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাদেরকে নির্যাতন ও হত্যা করছে। এর পেছনে আর কোন কারণ নেই। কারণ একটিই, আর তাহলো এরা রোহিঙ্গা।’


চলতি মাসের শেষ দিকে নিরপত্তা পরিষদের একটি প্রতিনিধি দলের মিয়ানমার সফরের কথা রয়েছে। তার আগে এই বিতর্কের আয়োজন করা হলো। এতে জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল আমিনা মোহাম্মেদ ও জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা পাত্তিনও অংশ নেন। প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশও সফর করবে। গত আগস্ট থেকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

 


সফরকালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়ন থেকে বেঁচে যাওয়া নারী ও মেয়েদের সঙ্গে কথা বলার জন্য পরিষদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান সুলতানা। তিনি বলেন, ‘রুয়ান্ডা গণহত্যার পর এটা সবচেয়ে বড় উদ্বাস্তু স্রোত। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদ আমাদেরকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। ২০১২ সালে যে সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা গিয়েছিলো তা উপেক্ষা করা না হলে এই সর্বশেষ সংকট এড়ানো যেতো।’


এবছর জাতিসংঘ মহাসচিবের যৌন সহিংসতা সম্পর্কিত রিপোর্টে প্রথমবারের মতো মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে কালোতালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আর দেরি না করে মিয়ানমার পরিস্থিতির বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) পাঠানো উচিত বলে সুলতানা মনে করেন। তিনি বলেন, ‘যৌন সহিংসতা-সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ মহাসচিবের রিপোর্টে প্রথমবারের মতো মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর আলোকে এবং রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য জাতিগত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভয়ংকর নৃশংসতা চালানোর পরও মিয়ানমার সেনাবাহিনী বর্তমানে যে দায়মুক্তি ভোগ করছে তা রোধ করতে মিয়ানমার পরিস্থিতি আইসিসিতে পাঠানো উচিত হবে।

 


সুলতানা জানান, তার নিজস্ব গবেষণা ও গ্রহণ করা স্বাক্ষাতকারে প্রমাণ মিলেছে যে সরকারি সৈন্যরা ১৭টি রাখাইন গ্রামে ৩০০ রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ৩৫০টির বেশি গ্রামে হামলা চালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। তবে এই সংখ্যা সার্বিক পরিস্থিতির আংশিক মাত্র।


এমনকি ছয় বছর বয়সী শিশুদেরকেও গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন এই আইনজীবী।


- সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top