নবজাতক কন্যার পরিবর্তে মৃত ছেলের লাশ দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি | daily-sun.com

নবজাতক কন্যার পরিবর্তে মৃত ছেলের লাশ দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ১৩:০৪ টাprinter

নবজাতক কন্যার পরিবর্তে মৃত ছেলের লাশ দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি

 

চট্টগ্রাম নগরের প্রবর্তক মোড়ের ‘চাইল্ড কেয়ার’ হাসপাতালে নবজাতক কন্যাকে ভর্তির পর প্যাকেটে করে ছেলেশিশুর লাশ প্রদানের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কমিটিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান।


তিনি জানান, বেসরকারি ক্লিনিক পরিদর্শন কমিটির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এএম মুজিবুল হক খানের নির্দেশে তিন সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ২৫০ শয্যার আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথকে আহ্বায়ক ও একই হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শাহ আলমকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা শাহেদুল ইসলামকে সদস্য করা হয়েছে।

 
গত শনিবার (১৪ এপ্রিল) নগরীর ‘চাইল্ড কেয়ার ক্লিনিক- এ শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলতায় আক্রান্ত নবজাতক কন্যাকে ভর্তি করেন নোয়াখালীর মাইজদী এলাকার রোকসানা আক্তার। মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে প্যাকেটে করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তুলে দেয় পরিবারের হাতে। বাড়িতে নিয়ে দাফনের জন্য গোসল করাতে গিয়ে পরিবারের লোকজন দেখেন- নবজাতক ছেলে।


পরিবারের লোকজন ফিরে আসেন ক্লিনিকে। প্রথমে অস্বীকার করে কর্তৃপক্ষ। রাতভর দেন-দরবারের পর বুধবার (১৮ এপ্রিল) সকালে জীবন্ত কন্যাশিশুকে ফেরত দিয়েছে তারা।


বর্তমানে শিশুটি জিইসির ‘রয়েল হাসপাতালে’ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সেখানে আইসিইউতে নবজাতককে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন ডা. বিধান রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, শিশুটির জন্মের পর ব্রেনে অক্সিজেন পৌঁছেনি। খিঁচুনি ও ইনফেকশন আছে। মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। সুস্থ হতে সময় লাগবে। 


শিশুটির চাচা আলমগীর হিরু অভিযোগ করেন, চাইল্ড কেয়ার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আমাদের বাচ্চা অন্যজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল। পরে আমাদের চাপের মুখে ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে।


আর চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফাহিম হাসান রেজা বলেন, ক্লিনিকের কর্মচারীদের ভুলের কারণে সামান্য ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। প্রতিটি শিশুর সঙ্গে ট্যাগ লাগানো থাকে। এক নবজাতকের ট্যাগ অন্য নবজাতকের কাছে দেয়াতে এ সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। বাচ্চা বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন ডা. রেজা। 

 


Top