রাজীবের দুই ভাইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন অনন্ত জলিল | daily-sun.com

রাজীবের দুই ভাইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন অনন্ত জলিল

ডেইলি সান অনলাইন     ১৮ এপ্রিল, ২০১৮ ১৪:৫০ টাprinter

রাজীবের দুই ভাইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন অনন্ত জলিল

রাজধানীতে দুই বাসচালকের রেষারেষিতে হাত হারানো এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া কলেজছাত্র রাজীব হোসেনের অসহায় দুই ভাইয়ের দায়িত্ব নিতে চান ব্যবসায়ী এবং চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল।

 

গতকাল মঙ্গলবার রাতে জন্মদিনে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এমন ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

ওই পোস্টে অনন্ত জলিল লেখেন, ‘বন্ধুগন, আসসালামু আলাইকুম। আজকের দিনে আল্লাহতায়ালা তার সুন্দর ধরণী আর সুন্দর সুন্দর সৃষ্টির মাঝে আমাকে পাঠিয়েছেন, আজ আমার জন্মদিন, তাই শুকুর আলহামদুলিল্লাহ্। রাব্বুল আলআমিনের নিকট আমি কৃতজ্ঞ, এ কারণে যে এমন আনন্দের দিনে তিনি আমাকে স্বপরিবারে মক্কায় অবস্থান করার সুযোগ করে দিয়েছেন। তবে মন খারাপ আরেক কারণে, ….. কিছু দিন আগে বাস দূর্ঘটনায় রাজিব নামে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী তার হাত হারিয়ে ছিলেন। এবং আজ তিনি পৃথিবী হতে বিদায় নিয়েছেন। যা আমাকে বেশ মর্মাহত করেছে। বাবা-মা হারা এই সন্তান তার ছোট দুই ভাইকে পিতা-মাতার স্নেহ দিয়ে আগলে রেখেছিলো। কিন্তু রাজিবের অকাল বিদায়ে তার দুই ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে। তাই আমার জন্মদিনে আমি চাচ্ছি যে পরিবার হারা এই দুই সন্তানের পড়ালেখার দায়িত্ব নিতে।’

 

এদিকে অনন্ত জলিলের ইচ্ছার ব্যাপারে তাদের কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন মৃত রাজীবের মেঝ খালা খাদিজা বেগম লিপি। তিনি জানান, এতে তাদের আপত্তি নেই। ঢাকায় ফিরে তারা অনন্ত জলিলের সঙ্গে দেখা করবেন।

 

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তামিরুল মিল্লাত নামের একটি দাখিল মাদ্রাসায় ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে রাজীবের দুই ভাই মেহেদী হাসান (১৩) ও আবদুল্লাহ (১১)। তারা কোরআনে হাফেজ। মাদ্রাসার পাঠ চুকিয়ে হাসান সপ্তম শ্রেণিতে ও আবদুল্লাহ ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে।

 

ঢাকায় যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগের একটি মেসে থাকতেন রাজীব। তার বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের দাসপাড়ায়। আগেই মা-বাবা মারা গেছেন। তাই রাজীব ঢাকায় টিউশনি করে এবং চাচা, খালাসহ সবার সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে নিচ্ছিলেন।

 

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল বাংলামটর এলাকায় ওভারটেকিং করতে গিয়ে দুটি বাসের রেষারেষিতে সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীবের ডান হাত বাস দুটির মাঝখানে চাপা পড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পথচারীরা তাঁকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখান থেকে তাঁকে ঢামেকে স্থানান্তর করা হয়। রাজীবের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।


Top