রাজীবের মৃত্যুতে ইলিয়াস কাঞ্চনের শোক প্রকাশ | daily-sun.com

রাজীবের মৃত্যুতে ইলিয়াস কাঞ্চনের শোক প্রকাশ

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ১৫:১১ টাprinter

রাজীবের মৃত্যুতে ইলিয়াস কাঞ্চনের শোক প্রকাশ

 

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুই বাসের চাপায় ডান হাত হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। সোমবার (১৬ এপ্রিল) দিনগত রাতে সংগঠনের প্রচার সম্পাদক এ কে এম ওবায়দুর রহমানের পাঠানো এক শোক বার্তায় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।


তিনি শোকবার্তায় বলেন, রাজধানীতে বিশৃঙ্খল যান চলাচল ব্যবস্থা ও দক্ষ চালকের অভাবে প্রতিনিয়ত এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে, যা মোটেও কাম্য নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা যেন না ঘটে সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান ও চালকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


এদিকে রাজীবের মৃত্যুতে যাত্রী অধিকার আন্দোলন শোক জানিয়েছে। আজ সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা।


উল্লেখ্য, ৩ এপ্রিল বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। বাসটি হোটেল সোনারগাঁওয়ের বিপরীতে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ করে পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস ওভারটেক করে।
 
 


সেসময় বিআরটিসির দোতলা বাসটির পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে থাকা রাজীবের ডান হাতটি বাইরের দিকে সামান্য বেরিয়েছিল। স্বজন পরিবহনের বাসটি বিআরটিসি বাসের গা ঘেঁষে পেরিয়ে যাওয়ার সময় রাজীবের হাতটি কাটা পড়ে। এ ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

এতে তার মাথায়ও প্রচণ্ড আঘাত লাগে। তাকে দ্রুত পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও বিচ্ছিন্ন সে হাতটি রাজীবের শরীরে আর জোড়া লাগাতে পারেননি। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে ভর্তি করা হয়। গত মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) ভোর পৌনে ৪টায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে রাজীব। এরপর ওই দিন সকাল ৮টায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। সোমবার (১৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১২টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজীবের মৃত্যু হয়। তার চিকিৎসার জন্য গঠন করা হয়েছিল মেডিকেল বোর্ড।
 
 
ঢাকায় রাজীব হোসেন যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগের একটি মেসে থাকতেন। পড়াশোনা চালাচ্ছিলেন স্বজনদের সহযোগিতায়। রাজীবের মা-বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে রাজীব সবার বড়। বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের দাসপাড়ায়। রাজীব টিউশনি করতেন এবং চাচা, খালাসহ সবার সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে নিচ্ছিলেন।
 
 
রাজীব হোসেনের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সুস্থ হলে তাকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

 


Top