বাসের চাপায় হাত হারানো সেই রাজীব আর নেই | daily-sun.com

বাসের চাপায় হাত হারানো সেই রাজীব আর নেই

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০৯:১৫ টাprinter

বাসের চাপায় হাত হারানো সেই রাজীব আর নেই

 
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুই বাসের চাপায় ডান হাত হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন আর নেই। সোমবার (১৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থা মারা যান তিনি। রাজীবের মেজ খালা লিপি আকতারকে এ তথ্য জানান।   
 
 
তিনি জানান, আজ মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাজীবের মরদেহ গ্রামের বাড়ি বাউফল নিয়ে যাওয়া হবে।
 
 
এদিকে রাজীবের মৃত্যুতে যাত্রী অধিকার আন্দোলন শোক জানিয়েছে। আজ সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে তারা।
 
 
উল্লেখ্য, ৩ এপ্রিল বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। বাসটি হোটেল সোনারগাঁওয়ের বিপরীতে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ করে পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস ওভারটেক করে।
 
 
সেসময় বিআরটিসির দোতলা বাসটির পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে থাকা রাজীবের ডান হাতটি বাইরের দিকে সামান্য বেরিয়েছিল। স্বজন পরিবহনের বাসটি বিআরটিসি বাসের গা ঘেঁষে পেরিয়ে যাওয়ার সময় রাজীবের হাতটি কাটা পড়ে। এ ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এতে তার মাথায়ও প্রচণ্ড আঘাত লাগে। তাকে দ্রুত পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও বিচ্ছিন্ন সে হাতটি রাজীবের শরীরে আর জোড়া লাগাতে পারেননি। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে ভর্তি করা হয়। গত মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) ভোর পৌনে ৪টায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে রাজীব। এরপর ওই দিন সকাল ৮টায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।
 
 
ঢাকায় রাজীব হোসেন যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগের একটি মেসে থাকতেন। পড়াশোনা চালাচ্ছিলেন স্বজনদের সহযোগিতায়। রাজীবের মা-বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে রাজীব সবার বড়। বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের দাসপাড়ায়। রাজীব টিউশনি করতেন এবং চাচা, খালাসহ সবার সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে নিচ্ছিলেন।
 
 
রাজীব হোসেনের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সুস্থ হলে তাকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
 

Top