‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের ৩ নেতাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে’ | daily-sun.com

‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের ৩ নেতাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে’

ডেইলি সান অনলাইন     ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ১৫:৩৫ টাprinter

‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের ৩ নেতাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে’

- নুরুল্লাহ নূর, ফারুক হোসেন ও রাশেদ খান

 

রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকা থেকে উঠিয়ে নেয়া কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ৩ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ওই তিন জনের এক জন এবং বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন গণমাধ্যমকে তাদের ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বিকেল ৪টায় এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে। ’


এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস থেকে সাদা গাড়িতে করে ডিবি পুলিশ ওই তিনজনকে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।


তিনি বলেন, সোমবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন শেষ করে হলে খেতে যাওয়ার সময় ডিবি পুলিশ তাদের তুলে নিয়ে গেছে।


এরা হলেন- বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হোসেন ও নুরুল্লাহ নূর।


উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল থেকে পাঁচ দিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন। পরে ১২ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কোটা পদ্ধতি বাতিল ঘোষণা করে সব চাকরিতে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দেন।

 

- দুপুরের সংবাদ সম্মেলনে রাশেদ খান, ফারুক হোসেন, নুরুল্লাহ নূর ও হাসান আল মামুন


এ আন্দোলনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা, গাড়ি পোড়ানো ও পুলিশের ওয়াকিটকি ছিনতাইয়ের অভিযোগে চারটি মামলা করা হয়। আগামী ১৭ মে আদালতে এসব মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।


এর প্রেক্ষিতেই আন্দোলনের সময় অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের দায়ের করা চার মামলা দুদিনের মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। ওই সময়ের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না হলে ফের আন্দোলনের হুমকি দেয় সংগঠনটি। সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।


সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন ও যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, নুরুল্লাহ নূর ও ফারুক হোসেনসহ কয়েকশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।


তারা বলেন, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল জামায়াত-শিবির পরিচয় দিতে ওঠেপড়ে লেগেছে। এটি পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য এটি করা হচ্ছে।


তারা আরও বলেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা আমাদের সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। তারা ইতিবাচক পেয়েছেন বলেই আমাদের আন্দোলনে কোনো বাধা দেয়নি। প্রধানমন্ত্রীও আমাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। কিন্তু দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য আমাদের ভিন্ন পরিচয় দিয়ে আন্দোলন ভিন্নপথে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।

 


Top