দুদিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না হলে ফের আন্দোলন | daily-sun.com

দুদিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না হলে ফের আন্দোলন

ডেইলি সান অনলাইন     ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ১৪:১২ টাprinter

দুদিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না হলে ফের আন্দোলন

 

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসসহ (বিসিএস) সব সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের দায়ের করা চার মামলা দুদিনের মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। ওই সময়ের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না হলে ফের আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে সংগঠনটি। সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।


সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন ও যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, নুরুল্লাহ নূর ও ফারুক আহমেদসহ কয়েকশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।


তারা বলেন, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল জামায়াত-শিবির পরিচয় দিতে ওঠেপড়ে লেগেছে। এটি পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য এটি করা হচ্ছে।


তারা আরও বলেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা আমাদের সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। তারা ইতিবাচক পেয়েছেন বলেই আমাদের আন্দোলনে কোনো বাধা দেয়নি। প্রধানমন্ত্রীও আমাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। কিন্তু দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য আমাদের ভিন্ন পরিচয় দিয়ে আন্দোলন ভিন্নপথে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।


সংগঠনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, যারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদের বলছি- আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা এবং আমি মহসীন হলে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। আমি সাধারণ ছাত্রদের ব্যানারে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। কেউ যদি আমাকে সন্দেহ করে থাকেন, তা হলে আমার পরিবারে খবর নিতে পারেন।


সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ‘একটি জাতীয় দৈনিকে আমাকে জামায়াত-শিবির পরিচয় দিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সেখানে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে সূর্যসেন হলের ৫০৫ নম্বর রুমে থাকতাম।   অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ভর্তিই হয়েছি ২০১৩ সালে। প্রতিবেদনে আমার বাবার নামও ভুল লেখা হয়েছে। পুরো প্রতিবেদনই মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভরা। ’


সংবাদ সম্মেলন থেকে ওই দৈনিকটির প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। সংগঠনের নেতারা বলেন, আজ সোমবার (১৬ এপ্রিল) বিকাল ৫টার মধ্যে পত্রিকাটি যদি প্রতিবেদন প্রত্যাহার না করে, মঙ্গলবার থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পত্রিকা বর্জন করা হবে।


সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল্লাহ নূর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির বাসভবনে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী হামলা করেনি। বরাবরের মতই আমরা এ হামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।


পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন বলেন, আমরা অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাসী। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সেটিই করেছি। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণার দেয়ার পরই আমরা আন্দোলন থেকে সরে গেছি। অথচ আমাদের বিএনপি-জামায়াত বানানো হচ্ছে। ছাত্রসমাজকে বিতর্কিত করা হচ্ছে, এর চেয়ে আর লজ্জার কি আছে!


উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল থেকে পাঁচ দিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন। পরে ১২ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কোটা পদ্ধতি বাতিল ঘোষণা করে সব চাকরিতে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দেন।


এ আন্দোলনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা, গাড়ি পোড়ানো ও পুলিশের ওয়াকিটকি ছিনতাইয়ের অভিযোগে চারটি মামলা করা হয়। আগামী ১৭ মে আদালতে এসব মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

 


Top