খালেদা জিয়া কারাগারে গুরুতর অসুস্থ: দাবি রিজভীর | daily-sun.com

খালেদা জিয়া কারাগারে গুরুতর অসুস্থ: দাবি রিজভীর

ডেইলি সান অনলাইন     ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ১৩:০০ টাprinter

খালেদা জিয়া কারাগারে গুরুতর অসুস্থ: দাবি রিজভীর

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন  দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দ অনুযায়ী ইউনাইটেড হাসপাতালে তার ব্যক্তিগত চিকিৎকদের তত্ত্বাবধানে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।


সোমবার (১৬ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন রুহুল কবীর রিজভী।


খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবর কিভাবে জেনেছেন -এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘সব সময় এটা বলা যায় না, কয়েকদিন আগে তার (খালেদা জিয়া) আইনজীবী গিয়ে দেখা করেছেন। তারা দেখেছেন। তার আত্মীয়স্বজনরা দেখা করেছেন। তাদের মাধ্যমে জেনেছি। ’


বেগম খালেদা জিয়া যেহেতু অসুস্থ এ অবস্থায় যদি জামিন না হয় সে ক্ষেত্রে প্যারোলে মুক্তি চাইবেন কিনা -এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইনগত দিক, আমাদের রাজনৈতিক আন্দোলন সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরে জানানো হবে। ’


সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক খোন্দকার গোলাম আকবর, সহ দফতর সম্পাদক মনির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ।

২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।   গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ৬৮দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।


এদিকে গত ৮ এপ্রিল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সভাপতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. শামসুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শরীরে এমন কোনও রোগ নেই, যা এদেশে চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, তাঁর রিউমেটাল আর্থ্রাইটিস ও অস্টোআর্থ্রাইটিস রয়েছে।


ডা. শামসুজ্জামান আরও বলেন, যদিও বেগমি জিয়ার হাঁটু প্রতিস্থাপন করা আছে। এ নিয়ে তার কোনও অভিযোগ নেই বলে তিনি আমাদের জানিয়েছেন। আমরা চারজন যে চিকিৎসা দিয়ে এসেছি তাতে তার উন্নতি হবে। এখন তার যে অবস্থা তাতে বিদেশে তার চিকিৎসার দরকার নেই।


ওই দিন তিনি আরও জানান, তারা যেদিন খালেদা জিয়াকে দেখতে গিয়েছিলেন সেদিন তিনি অন্যের সহযোগিতা নিয়ে তাদের সামনে আসেন। আর শনিবার (৭ এপ্রিল) তাকে একা হাঁটতে দেখেছি। এছাড়া শনিবার তাকে সেদিনের চেয়ে সুস্থ মনে হয়েছে। এতে বোঝা যায়, আমরা যে মেডিসিন দিয়েছিলাম তা তার শরীরে কাজ করেছে।


এর আগে গত ৬ এপ্রিল বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে প্রবেশ করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখান থেকে বেরিয়ে কারা ফটকের সামনে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে সত্যিকার অর্থেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবে তিনি অসুস্থ হলেও তার মনোবল অটুট আছে।  


তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বরাবরই বলে আসছি- উনার অসুস্থতার বিষয়ে যেসব ব্যবস্থা নেয়া দরকার, তা নেয়া হচ্ছে না। ’


এর পরের দিনই শনিবার (৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেয়া হয় এবং সেখানে ৫১২ নম্বর কেবিনে রাখা হয়। সেখান থেকে পরে তাকে এক্সরে করার জন্য তাকে রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের ১/এ নম্বর এক্সরে কক্ষে নেয়া হয়।


জানা গেছে, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত একজন চিকিৎসক ও তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুসারে পাঁচ ধরনের (সার্ভিক্যাল স্পাইন, লাম্বার স্পাইন, হিপ জয়েন্ট (দুটি) ও পেলভিস) এক্সরে করানো হয়।


স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দুপুর দেড়টার দিকে তাকে হাসপাতাল থেকে ফের কারাগারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুর পৌনে ২টায় তাকে বহনকারী গাড়িবহর কারাগারে পৌঁছায়।

 
পরে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে ওই হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, আপাতত দৃষ্টিতে মনে হয়েছে বেগম জিয়া সুস্থ আছেন। হাসপাতালে আসার পর তাকে কেবিনে রাখা হয়। তারপর তিনি হেঁটেই এক্স-রে রুমে আসেন। আমরা হুইল চেয়ার প্রস্তুত রেখেছিলাম। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া নিজেই বলেছেন, আমি হেঁটে যেতে পারবো, হুইল চেয়ারের প্রয়োজন নেই।


খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক মো. শামসুজ্জামান (অর্থোপেডিক্স), অধ্যাপক মনসুর হাবীব (নিউরোলজি), অধ্যাপক টিটু মিয়া (মেডিসিন) এবং সোহেলী রহমান (ফিজিক্যাল মেডিসিন)।

 

আরও পড়ুন:

 

খালেদার শরীরে এমন কোনও রোগ নেই, যার চিকিৎসা এদেশে সম্ভব নয়: ডা. শামসুজ্জামান

 

কারা কর্তৃপক্ষকে খালেদার এক্সরে রিপোর্ট হস্তান্তর

 

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ফের কারাগারে খালেদা জিয়া

 

আপাতত দৃষ্টিতে খালেদা জিয়া ভালো আছেন: বিএসএমএমইউ পরিচালক

 

 


Top