আইএস’র অনুসরণে ‘দ্বীন ফোর্স এক্সট্রিম’ | daily-sun.com

আইএস’র অনুসরণে ‘দ্বীন ফোর্স এক্সট্রিম’

ডেইলি সান অনলাইন     ১৫ এপ্রিল, ২০১৮ ১৮:০৬ টাprinter

আইএস’র অনুসরণে ‘দ্বীন ফোর্স এক্সট্রিম’

 

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসকে অনুকরণ করে বাংলাদেশে ‘দ্বীন ফোর্স এক্সট্রিম’ গড়ে তোলা হয় বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মিমতানুর রহমান। তিনি বলেন, হোয়াটস অ্যাপে ‘দ্বীন ফোর্স এক্সট্রিম ও ইখোয়ান’ নামে দুটি গ্রুপে সক্রিয় থেকে জিহাদি ভিডিও ও বিভিন্ন দেশের মুসলিম নর-নারীদের ওপর নির্যাতনের ছবি প্রচার করে নিজেদের কথিত জিহাদের জন্য প্রস্তুত করছিল তারা।

রবিবার (১৫ এপ্রিল) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।


তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর আনন্দবাগ এলাকায় একত্রিত হয়েছিল তারা।


মিমতানুর রহমান আরও জানান, ২০১৩ সালে আসকার দিঘীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত আতরজান জামে মসজিদে ইবনে মোস্তাকের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। মোস্তাকের মাধ্যমে তারা জঙ্গি তৎপরতায় উৎসাহী হয়ে ওঠেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং এ দেশীয় সমমনা জঙ্গিদের একত্রিত করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় লিপ্ত হন তারা।


প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৩ এপ্রিল) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর কোতয়ালি থানার আনন্দবাগ এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ জঙ্গি বই ও ল্যাপটপসহ ‘দ্বীন ফোর্স এক্সট্রিম’র ৭ সদস্যকে আটক করে র‌্যাব। তারা হলেন- মো. মহিউদ্দিন তামিম (২৯), মো. আফজার হোসেন (২১), মো. ইমরান খান (২৭), মো. দাউদ নবী পলাশ (২৮), চৌধুরী মোহাম্মদ রিদওয়ান (২৭), এসএম জাওয়াদ জাফর (২৬) ও মো. মুনতাসিরুল মেহের (২৬)।


র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মো. মুনতাসিরুল মেহেরের (২৬) সম্পর্কে আঁতকে ওঠার মতো তথ্য পেয়েছেন তারা। কক্সবাজারে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দি রেডক্রসের (আইসিআরসি) ফিল্ড অফিসার হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি।

২০১৩ সাল থেকে জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৫ সালে ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাস করেন মেহের।


জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার মুনতাসিরুল মেহের কোতোয়ালি থানাধীন রাবেয়া রহমান লেইনের নূর আহম্মদ রোডের ৬৯৯/এ- নং বাড়িতে বসবাস করেন। তার বাবার নাম মো. ছাদতুল মেহের।


এছাড়া গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আফজার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ইমরান খান বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিবিএস কোর্সে অধ্যায়নরত। দাউদ নবী পলাশ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাস করে প্রিমিয়ার সিমেন্ট লিমিটেডে কাজ করতেন।


এছাড়া রিদওয়ান ২০১১ সালে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। ২০১৩ সালে তাকে ইউনিভার্সিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়। জাওয়াদ জাফর আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে চট্টগ্রাম ইপিজেডে ইয়ংওয়ান নামে একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। গ্রেফতার সবার বাড়ি চট্টগ্রাম। শুধু দাউদের বাড়ি কুমিল্লায়।

 


Top