মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু | daily-sun.com

মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু

ডেইলি সান অনলাইন     ১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০৯:৫৮ টাprinter

মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু

 

বাউল সম্রাট লালন ফকিরের অমর বাণী ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি। ’ এই স্লোগান নিয়ে বাংলা বর্ষবরণের প্রধান অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে। শনিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল নয়টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে এই শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে। শোভাযাত্রাটি হোটেলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল (আগের রূপসী বাংলা), শাহবাগ ও টিএসসি মোড় ঘুরে ফের চারুকলার সামনে গিয়ে শেষ হবে।


মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের উপস্থিতিতে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়।


শোভাযাত্রায় আবহমান বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রতীকী উপস্থাপনের ৭টি মোটিফ যেমন, মা পাখি সাথে ছানা, হাতি, মাছ ও বক, মহিষ, সূর্য, টেপা পুতুল এবং সাইকেলে মা ও মেয়ে- এবার শোভাযাত্রায় স্থান পেয়েছে।

 
এদিকে মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিতে সকাল থেকেই টিএসসি, দোয়েল চত্বর, শাহবাগ ও এর আশপাশের এলাকায় জড়ো হতে থাকে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নানা বয়সের মানুষ । ৯টার মধ্যেই পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। লাল-সাদা পোশাকে উচ্ছল নারীদের মাথায় শোভিত নানান রঙ্গের ফুলের টায়রা। তরুণদের পরনে ছিল লাল-সাদা পাঞ্জাবি।


শোভাযাত্রা ঘিরে রয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। পুলিশ, র‌্যাবের সঙ্গে রয়েছে সোয়াত সদস্যরা। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও তৎপর রয়েছে। এছাড়া আকাশে টহল দিচ্ছে র‌্যাবের হেলিকপ্টার।


বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। মিলেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে্র তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে হওয়া এ শোভাযাত্রা।


 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হয়েছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা। শুরু থেকেই চারুকলার শোভাযাত্রাটির নাম মঙ্গল শোভাযাত্রা ছিল না। তখন এর নাম ছিল বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা। ১৯৯৬ সালে এর নাম হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা।


বর্ষবরণ উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা চারুকলায় ১৯৮৯ সালে শুরু হলেও এর ইতিহাস আরও কয়েক বছরের পুরনো। ১৯৮৫ বা ১৯৮৬ সালে চারুপীঠ নামের একটি প্রতিষ্ঠান যশোরে প্রথমবারের মতো নববর্ষ উপলক্ষে আনন্দ শোভযাত্রার আয়োজন করে। যশোরের সেই শোভাযাত্রায় ছিল পাপেট, বাঘের প্রতিকৃতি, পুরানো বাদ্যসহ আরও অনেক শিল্পকর্ম। শুরুর বছরেই যশোরে সেই শোভাযাত্রা আলোড়ন তৈরি করে।


যশোরের সেই শোভাযাত্রার উদ্যোক্তাদের একজন মাহবুব জামাল শামীম মাস্টার্স ডিগ্রি নিতে পরে ঢাকার চারুকলায় চলে আসেন। পরবর্তীতে যশোরের সেই শোভাযাত্রার আদলেই ঢাকার চারুকলা থেকে শুরু হয় বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা।

 


Top