ভিসির বাসভবনে হামলা একাত্তরের বর্বরতাকেও হার মানায়: কাদের | daily-sun.com

ভিসির বাসভবনে হামলা একাত্তরের বর্বরতাকেও হার মানায়: কাদের

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ এপ্রিল, ২০১৮ ১২:৩১ টাprinter

ভিসির বাসভবনে হামলা একাত্তরের বর্বরতাকেও হার মানায়: কাদের

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্যের বাসভবনে হামলা একাত্তরের বর্বরতাকেও হার মানায় বলে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, একাত্তরের ২৫ মার্চ কালো রাতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম হামলা হয়েছিল। কিন্তু ভিসির বাসভবন কখনও আক্রান্ত হয়নি। এমনকি স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও এরকম ঘটনা ঘটেনি। বেডরুমসহ সবকিছু তছনছ করা হয়েছে। বাথরুমের কমোড, আসবাবপত্র ও ভিসির পরিবারের স্বর্ণালঙ্কার পর্যন্ত লুট করা হয়েছে।


মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে ঢাবি উপাচার্যের বাসভবন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।


তিনি বলেন, উপাচার্যের বাসভবনে হামলা যে পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে তা প্রমাণিত। কারণ ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বিকল করে দেয়া হয়েছে। এই নারকীয় বর্বরতার সঙ্গে জড়িতদের কাউকে কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেয়া হবে না। তদন্ত চলছে।

কিছুটা চিহ্নিত হয়েছে। বাকিটাও চিহ্নিত হবে। এর বিচার করতেই হবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।


ওবায়দুল কাদের বলেন, হামলার পর থেকে ভিসি ও তার পরিবারের সদস্য ট্রমায় ভুগছেন। হামলার সময় তারা বাগানের এক কোণে গিয়ে নিজেদের রক্ষা করেছেন। ফোন খোলা ছিল বলে প্রধানমন্ত্রী সে সময় (ভোর চারটা) ভিসির খোঁজ-খবর নিতে পেরেছেন।


তিনি বলেন, যারা হামলা করেছে, যারা এর মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন ভিসি কি এই কোটা চালু করেছেন? নাকি উনি এটা সংরক্ষণের পক্ষে? কোটার সঙ্গে ভিসির কী সম্পর্ক? তার বাসায় হামলা কেন?’


কোটা সংস্কারে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এখনো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাহলে সমাধান কোন পথে- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা আমাদের সঙ্গে বসেছে। একটা সমঝোতা হয়েছে। তারা এক মাসের জন্য আন্দোলন স্থগিতও করেছে। বাকি যা ঘটছে, এগুলোও সমাধান হয়ে যাবে।

 


এ সময় ওবায়দুল কাদেরর সঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, সদস্য এসএম কামাল হোসেন, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তারা বাড়িটি ঘুরে ঘুরে দেখেন।


এর আগে সোমবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপাচার্যের বাসভবনে সংঘটিত ভাংচুর, অগ্নি-সংযোগ ও বর্বরোচিত ঘটনা খতিয়ে দেখতে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনস্থ কনফারেন্স রুমে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।


তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, সিন্ডিকেট সদস্য ও আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নীলিমা আকতার, এস এম বাহালুল মজনুন, অধ্যাপক মো. মোয়াজ্জম হোসেন মোল্লা। কমিটিকে বর্ণিত ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও দোষীদের চিহ্নিত করে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়েছে।

 


প্রসঙ্গত, চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্দোলন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ৫৬ শতাংশ কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ১০ শতাংশে নিয়ে আসার দাবিতে এ আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে পদযাত্রা করে শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা অবস্থান নিলে রাত আটটার দিকে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে।


এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দৃশ্যপটে এলে আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। প্রত্যক্ষদর্মীরা জানায়, বিভিন্ন হল থেকে যাতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যোগ দিতে না পারে সেজন্য হলের গেটে পাহারা বসায় ছাত্রলীগ। মেয়েদের হলগুলোর ফটকে তালা পর্যন্ত ঝুলিয়ে দেয়।

 
এক পর্যায়ে রাত একটার দিকে রোকেয়া, শামছুন্নাহার, সুফিয়া কামাল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল ও কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীরা ফটকের তালা ভেঙে রাস্তায় নেমে আসে। তারা কোটা বিলুপ্তের নানা স্লোগান দিতে থাকেন।


রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিলে রাত তিনটার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারী ছাত্রীদের ওপর চড়াও হয়। পরে সেখান থেকে সরে তারা রাতভর টিএসসিতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

 

এ সময় তারা স্লোগান দেন, ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন? প্রশাসন জবাব চাই’; ‘আমার ভাই আহত কেন? প্রশাসন জবাব চাই’; ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’।

 


রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে আন্দোলনকারীরা ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের বাংলোয় ঢুকে তছনছ ও ব্যাপকভাবে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। বাংলোর শোয়ার ঘর থেকে বাথরুম, রান্নাঘরসহ সবখানে ভাঙচুর চালায় তারা। এ সময় আন্দোলনকারীরা বাসভবনের সামনে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেখানে থাকা একটি গাড়িও পুড়িয়ে দেয়া হয়। তবে এতে ভিসি পরিবারের কেউ আহত হননি। ভিসি ভেতরে থাকলেও একটি কক্ষে নিরাপদে ছিলেন।


আন্দোলনকারীদের দিকে অভিযোগের তীর গেলেও সোমবার ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে তা অস্বীকার করা হয়।


আর ভিসি নিজে বলেছেন, তাকে ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা করা হয়েছে। যারা ক্যাম্পাসে লাশের রাজনীতি দেখতে চায়, তারাই এর সঙ্গে জড়িত।

 

আরও পড়ুন:

 

কোটা সংস্কারে যে ৫ দফা দাবিতে রাজপথে শিক্ষার্থীরা

 

 


Top