সিলেটে মা-ছেলে খুনের ঘটনায় পলাতক গৃহকর্মী তানিয়া গ্রেফতার | daily-sun.com

সিলেটে মা-ছেলে খুনের ঘটনায় পলাতক গৃহকর্মী তানিয়া গ্রেফতার

ডেইলি সান অনলাইন     ৯ এপ্রিল, ২০১৮ ১৪:৩৬ টাprinter

সিলেটে মা-ছেলে খুনের ঘটনায় পলাতক গৃহকর্মী তানিয়া গ্রেফতার

 

সিলেট নগরীর মিরাবাজারের খারপাড়া এলাকায় বাসার মধ্যে মা ও ছেলেকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পলাতক গৃহকর্মী তানিয়া (১৬) ও তার স্বামী এমদাদুর রহমান রাফিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৯ এপ্রিল) ভোররাতে কুমিল্লার তিতাস এলাকা থেকে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) টিম তাকে গ্রেফতার করে।

পিবিআই’র বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক রেজা তানিয়াকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


তিনি জানান, এর আগে রবিবার (৮ এপ্রিল) রাতে সিলেট নগরী থেকে অভিযান চালিয়ে তানিয়ার স্বামী এমদাদুর রহমান রাফিকে আটক করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার তিতাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় তানিয়াকে।


রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, পিবিআই সিলেট কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।


এর আগে নগরীতে মা-ছেলে খুনের ঘটনায় গত মঙ্গলবার নগরীর শাহপরান থানার মূর্তিচক গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে নাজমুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।


স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি তানিয়ার (১৬) সঙ্গে খুন হওয়া রোকেয়া বেগমের বিরোধ হয়। এর জের ধরে স্থানীয় যুবক সুমন ওরফে কাঞ্চা সুমন, একে পাপলু ও শিপনকে নিয়ে রোকেয়ার বাসায় গিয়ে হুমকি দেয় তানিয়া। এর কিছু দিন পর রোকেয়া ও তার ছেলে রবিউল নিজ বাসায় খুন হয়।

গত ১ এপ্রিল সিলেটে মা-ছেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন রোকেয়া বেগমের ভাই জাকির হোসেন।


মামলার এজাহারে কারও নামোল্লেখ করা না হলেও, গত কয়েকদিন আগে রোকেয়ার বাসায় হামলা, মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাকে মারধরের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলা এবং মারধরের ঘটনা উল্লেখ করে এর সঙ্গে জড়িত শিপলু, শিপন ও সুমনের নাম উল্লেখ করে ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে এজাহারে বলা হয়েছে।


উল্লেখ্য, রোকেয়া বেগম তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকন (২ এপ্রিল শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থী) এবং মেয়ে রাইসাকে (৩) নিয়ে মিরাবাজারের মিতালী আবাসিক এলাকার ১৫/জে নম্বর বাসায় গত একবছর ধরে ভাড়া থাকতেন। তাদের সঙ্গে বাসায় তানিয়া (১৬) নামের একটি কাজের মেয়েও থাকত।  


রবিবার (১ এপ্রিল) সকালে তাদের খোঁজ নিতে মিরাবাজারস্থ বাসায় আসেন নিহতের ভাই জাকির হোসেন। বাসায় এসে ভেতর থেকে তিনি তাদের দরজা বন্ধ দেখতে পান। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও কেউ দরজা না খোলায় তিনি বাড়ির মালিককে খবর দেন।


পরে বাড়ির মালিক ঘটনা শুনে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে ঘরে প্রবেশ করে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় ঘরের মধ্যে কান্নারত অবস্থায় পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে কাজের মেয়ে তানিয়াকে বাসায় পাওয়া যায়নি।


নিহত রোকেয়ার ভাই জাকির হোসেন জানান, ভগ্নিপতি জগন্নাথপুর উপজেলার হেলাল আহমদের সঙ্গে বোনের বনিবনা হচ্ছিল না। তাই তিনি ছেলে-মেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকতেন। গত রমজান মাসে হেলাল আহমদ স্ট্রোক করার পর হেলাল আহমদ তার পরিবারের সঙ্গে নগরীর বারুতখানায় একটি বাসায় থাকেন।


তিনি আরও জানান, মাসখানেক আগে থেকেই রোকেয়া তাকে জানিয়েছিলেন, বাসায় তার বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হচ্ছে, বাসা বদলানো দরকার। ১৫-২০ দিন আগে একদল যুবক বাসা থেকে মোবাইল নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় মুরুব্বীরা বিচার করে সেটা সমাধান করে দেন।

 


Top