নৈশকোচে পেট্রলবোমা হামলা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো খালেদাকে | daily-sun.com

নৈশকোচে পেট্রলবোমা হামলা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো খালেদাকে

ডেইলি সান অনলাইন     ৮ এপ্রিল, ২০১৮ ১৭:৩৩ টাprinter

নৈশকোচে পেট্রলবোমা হামলা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো খালেদাকে

 

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্টোল বোমা হামলায় আটজনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রোটেকশন ওয়ারেন্ট ইস্যুতে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। রবিবার (৮ এপ্রিল) কুমিল্লা ৫ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুস্তাইন বিল্লাহ এই আদেশ দেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাইয়ুমূল হক রিংকু বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।


তিনি জানান, আগামী মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) এই মামলার জামিন শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।


উল্লেখ্য, বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি নৈশ কোচ (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৪০৮০) চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজারসংলগ্ন জগমোহনপুর নামক স্থানে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা বাসটি লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। এতে বাসটির ভিতরে-বাইরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠে। এ সময় বাসে ঘুমিয়ে থাকা যাত্রীরা কোনো কিছু বুঝে উঠার আগে আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলে সাতজন ও হাসপাতালে নেয়ার পর একজনসহ মোট আটজন ঘুমন্ত যাত্রী মারা যায়।


এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান হাওলাদার বাদী হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ তৎসহ ১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৫ (৩)/২৫-ডি ধারায় একটি ও ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক আইনের ৩ ও ৪ ধারায় একটিসহ থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৭৭ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ৬ নেতাকে হুকুমের আসামি করা হয়। গত বছরের ৬ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ৭৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ইব্রাহীম।


পরে আদালতের নির্দেশে আট যাত্রী হত্যা মামলাটি কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়। গত বছরের ১৬ নভেম্বর আদালতে এ মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। ৭৭ জন আসামির মধ্যে তিনজন মারা যান, ৫ জনকে চার্জশিটকে থেকে বাদ দেয়া হয়। খালেদা জিয়াসহ অন্য ৬৯ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফিরোজ হোসেন গত ২ জানুয়ারি চার্জশিট দাখিল করেন।


এ মামলায় ৬৯ জন আসামির মধ্যে খালেদা জিয়াসহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা আছে। এর মধ্যে জামিনে আছেন ২৯ জন আর জেলহাজতে রয়েছেন একজন।


গত ২৮ মার্চ পূর্বনির্ধারিত তারিখে কুমিল্লার আদালতে হাজির না হওয়ায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের করা জামিনের আবেদন শুনানি হয়নি। ওইদিন তাকে আদালতে হাজির না করায় সাতদিনের মধ্যে ব্যাখ্যা চেয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।


এর আগে ১২ মার্চ আইনজীবীদের করা খালেদা জিয়ার হাজিরা পরোয়ানা (প্রোটেকশন ওয়ারেন্ট) প্রত্যাহার ও গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জামিন আবেদনের শুনানির দিন ২৮ মার্চ ধার্য করে খালেদা জিয়াকে হাজিরার নির্দেশ দেন আদালত।


উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।  গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 
রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ৬০দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

 


Top