কারা কর্তৃপক্ষকে খালেদার এক্সরে রিপোর্ট হস্তান্তর | daily-sun.com

কারা কর্তৃপক্ষকে খালেদার এক্সরে রিপোর্ট হস্তান্তর

ডেইলি সান অনলাইন     ৮ এপ্রিল, ২০১৮ ১৫:০৮ টাprinter

কারা কর্তৃপক্ষকে খালেদার এক্সরে রিপোর্ট হস্তান্তর

 

দুর্নীতির মামলায় বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এক্সরে রিপোর্ট সিলগালা করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। রবিবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে সিলগালা অবস্থায় এক্সরে রিপোর্টটি কারা মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয় বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছন হাসপাতালটির  পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো.আবদুল্লাহ-আল-হারুন।


তবে এক্সরে রিপোর্টে কী রয়েছে সে সম্পর্কে কিছু জানাতে তিনি অগারগতা জানান।


জানা গেছে, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত একজন চিকিৎসক ও তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুসারে পাঁচ ধরনের (সার্ভিক্যাল স্পাইন, লাম্বার স্পাইন, হিপ জয়েন্ট (দুটি) ও পেলভিস) এক্সরে করানো হয়।


উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।   গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ৬০দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।


এদিকে গত শুক্রবার (৬ এপ্রিল) বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে প্রবেশ করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখান থেকে বেরিয়ে কারা ফটকের সামনে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে সত্যিকার অর্থেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবে তিনি অসুস্থ হলেও তার মনোবল অটুট আছে।  


তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বরাবরই বলে আসছি- উনার অসুস্থতার বিষয়ে যেসব ব্যবস্থা নেয়া দরকার, তা নেয়া হচ্ছে না। ’


এর পরের দিনই শনিবার (৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেয়া হয় এবং সেখানে ৫১২ নম্বর কেবিনে রাখা হয়। সেখান থেকে পরে তাকে এক্সরে করার জন্য তাকে রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের ১/এ নম্বর এক্সরে কক্ষে নেয়া হয়।


স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দুপুর দেড়টার দিকে তাকে হাসপাতাল থেকে ফের কারাগারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুর পৌনে ২টায় তাকে বহনকারী গাড়িবহর কারাগারে পৌঁছায়।

 


পরে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে ওই হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, হাসপাতালে আসার পর তাকে কেবিনে রাখা হয়। তারপর তিনি হেঁটেই এক্স-রে রুমে আসেন। আমরা হুইল চেয়ার প্রস্তুত রেখেছিলাম। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া নিজেই বলেছেন, আমি হেঁটে যেতে পারবো, হুইল চেয়ারের প্রয়োজন নেই।


তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইচ্ছা অনুযায়ী তার ব্যক্তিগত চারজন চিকিৎসকের উপস্থিতিতে তার হাড়ের বিভিন্ন অংশে এক্স-রে করা হয়েছে। আগামীকালই (৮ এপ্রিল) এই রিপোর্ট পাওয়া যাবে। ওই রিপোর্ট কারা কর্তৃপক্ষকে আমরা বুঝিয়ে দেব। তারা আবার মেডিকেল বোর্ডকে পাঠাবে। তবে আপাতত দৃষ্টিতে মনে হয়েছে তিনি সুস্থ আছেন।


খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক মো. শামছুজ্জামান (অর্থোপেডিক্স), অধ্যাপক মনসুর হাবীব (নিউরোলজি), অধ্যাপক টিটু মিয়া (মেডিসিন) এবং সোহেলী রহমান (ফিজিক্যাল মেডিসিন)।

 


Top