চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন নাবিলা | daily-sun.com

চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন নাবিলা

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ এপ্রিল, ২০১৮ ১৯:৫৯ টাprinter

চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন নাবিলা

দুই বছর আগে স্বামীর হাত ধরে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েন নব্য জেএমবির সিস্টার উইংয়ের (নারী শাখা) প্রধান হুমায়রা ওরফে নাবিলা। অল্প সময়ে খুদে কর্মী থেকে হয়ে ওঠেন ভয়ঙ্কর জঙ্গি নেত্রী।

জঙ্গিবাদে অর্থায়ন, হামলার পরিকল্পনা, সংগঠনকে চাঙ্গা রাখাসহ নানা কাজে সংগঠনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন এই নারী। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

 

হুমায়রা ওরফে নাবিলাকে দুদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিটিটিসি। রিমান্ডের প্রথমদিন গতকাল শুক্রবার রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত এই নারী জঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।


এদিকে রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় নৃশংস জঙ্গি হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের একটি অংশের জোগান দেয় শীর্ষ জঙ্গি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর। একটি অত্যাধুনিক একে-২২ এবং চারটি গ্রেনেড সরবরাহ করে সে। এ ছাড়া হামলার সময় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত আরেক জঙ্গি নেতা নুরুল ইসলাম মারজানের সঙ্গে কথা হয় সাগরের। টানা ১২ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন এই জঙ্গি।

হলি আর্টিজান মামলার তদন্ত কর্তৃপক্ষ সিটিটিসি ইউনিটের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

 

 

সিটিটিসি সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ শাখায় পড়াশোনা শেষ করেন হুমায়রা। পরে সনদ গ্রহণ করতে মালয়েশিয়া যান তিনি। এক সপ্তাহ সেখানে অবস্থান করেন। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা সঙ্গে ছিলেন। মালয়েশিয়ান ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে সেখানকার জঙ্গি নেটওয়ার্কের অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ হয় হুমায়রার। হলি আর্টিজান হামলায় অংশ নিয়ে নিহত হওয়া নিবরাসসহ কয়েকজনের সঙ্গে হুমায়রার যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া ওলিও ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে বিস্ফোরণসহ নব্য জেএমবিতে অর্থায়নসহ নানা সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে হুমায়রার।

 

সিটিটিসি সূত্র আরও জানায়, গুলশানে হলি আর্টিজানে নির্মম হামলা চলাকালীন মারজানের সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে কথা বলেছিল সাগর। তখন হামলার বিষয়ে সাগরকে বিস্তারিত জানায় মারজান। অবশ্য হলি আর্টিজানে হামলার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে অস্ত্র-বিস্ফোরকের বিস্তারিত তথ্য জানতেন সাগর। নব্য জেএমবির অস্ত্র-বিস্ফোরকের অন্যতম জোগানদাতা হিসেবেও কাজ করতেন তিনি।

 


গত ২২ মার্চ বগুড়া থেকে শীর্ষ দুই জঙ্গি নেতা নিলয় ও সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই দফায় ১২ দিনের রিমান্ড শেষে গত বৃহস্পতিবার হলি আর্টিজানের মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবীর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সাগর। আর অপর জঙ্গি নেতা নিলয়কে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিটিটিসি ইউনিট। বর্তমানে নিলয় ও হুমায়রাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নব্য জেএমবিকে চাঙ্গা করতে ব্যাপক তৎপর ছিলেন এ দুই জঙ্গি।

 

তদন্তকারী সূত্র জানায়, গত বছরের ১৫ আগস্ট হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে খুলনা থেকে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী সাইফুলের বন্ধু আব্দুল্লাহ বিন মোসাদ্দেক সামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর গত ২০ নভেম্বর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় করিম ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধার তানভীর ইয়াসিন করিমকে। তানভীর হুমায়রার স্বামী। আরেক জঙ্গি রাশেদ ওরফে র‌্যাশ জঙ্গি অর্থায়নের ব্যাপারে তানভীরের মোগজ ধোলাই করে। এ ছাড়া স্বামীর প্ররোচণাতেই জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয় হুমায়রা। এক পর্যায়ে নব্য জেএমবির নীতিনির্ধারণীতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন এই নারী জঙ্গি। তার স্বামী তানভীর জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী হুমায়রার জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন পুলিশের কাছে।

 

এ বিষয়ে সিটিটিসির এডিসি আব্দুল মান্নান বলেন, হুমায়রার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

 


সূত্র- আমাদের সময়

 


Top