এখন স্পষ্ট হয়েছে বেগম জিয়া অসুস্থ: মওদুদ | daily-sun.com

এখন স্পষ্ট হয়েছে বেগম জিয়া অসুস্থ: মওদুদ

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ এপ্রিল, ২০১৮ ১৭:৪২ টাprinter

এখন স্পষ্ট হয়েছে বেগম জিয়া অসুস্থ: মওদুদ

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, এতদিন ধরে যা বলে আসছিলাম, এখন সরকারের মেডিকেল বোর্ড গঠন করার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে উনি অসুস্থ। শনিবার (৭ এপ্রিল) ঢাকায় বিএসএমএমইউতে বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালকালে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এই প্রতিক্রিয়া জানান মওদুদ আহমদ।


কারাবন্দি থাকার দুই মাস পর তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শনিবার তাকে নেওয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে। দলীয় নেত্রীর হাসপাতালে যাওয়ার খবর শুনে দুপুরে বিএসএমএমইউতে উপস্থিত হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদার আইনজীবী মওদুদ আহমদ।


এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের চিকিৎসায় আমাদের একেবারেই বিশ্বাস নেই। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে একটি নির্জন, পরিত্যক্ত কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। সেখানে এমনিতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন।


তিনি বলেন, আমরা চাই, তাকে মুক্তি দেওয়া হোক। তাহলে তিনি নিজের চিকিৎসা নিজের ডাক্তারদের দিয়ে করিয়ে সুস্থ হবেন বলে আমরা মনে করি।


খালেদা জিয়ার জামিন না হওয়ার পেছনেও সরকারের ‘দুরভিসন্ধি’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ, যদিও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।


এদিকে আপাতত দৃষ্টিতে খালেদা জিয়া ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুল্লাহ আল হারুন। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য তাকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আসার পর তাকে কেবিনে রাখা হয়। তারপর তিনি হেঁটেই এক্স-রে রুমে আসেন। 


পরিচালক বলেন, আমরা হুইল চেয়ার প্রস্তুত রেখেছিলাম। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া নিজেই বলেছেন, আমি হেঁটে যেতে পারবো, হুইল চেয়ারের প্রয়োজন নেই।


তিনি বলেন, আগামীকাল (৮ এপ্রিল) আমরা এই রিপোর্ট কারা কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেব। তারা আবার মেডিকেল বোর্ডকে পাঠাবে। তবে আপাতত দৃষ্টিতে মনে হয়েছে তিনি সুস্থ আছেন।


হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ফের পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে নেয়া হয় দুর্নীতির মামলায় বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসনকে। দুপুর দেড়টার দিকে তাকে হাসপাতাল থেকে ফের কারাগারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুর পৌনে ২টায় তাকে বহনকারী গাড়িবহর কারাগারে পৌঁছায়।


উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।  গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ৫৯দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

 


Top