বাবা সায়েদ আলীর হাতেই খুন হন বিউটি | daily-sun.com

বাবা সায়েদ আলীর হাতেই খুন হন বিউটি

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ এপ্রিল, ২০১৮ ১৭:২৮ টাprinter

বাবা সায়েদ আলীর হাতেই খুন হন বিউটি

 

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আলোচিত কিশোরী বিউটি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন নতুন মোড় নিয়েছে। বাবা সায়েদ আলী নিজেই অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন মেয়ে বিউটিকে হত্যার চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। শনিবার (৭ এপ্রিল) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।


আদালতকে তিনি জানান, হত্যার রাতে নিজেই নানাবাড়ি থেকে বিউটিকে নিয়ে এসেছিলেন। আদালতের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।


শনিবার (৭ এপ্রিল) সকাল থেকে প্রায় ৫ ঘণ্টাব্যাপী আদালতে সায়েদ আলীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দিতে বিউটি হত্যার আদ্যোপান্ত আদালতে বর্ণনা করেন তিনি। একই দিন বিকেলে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হোতা ময়না মিয়ার প্রথম স্ত্রী আছমা আক্তার সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন।


এর আগে শুক্রবার (৬ এপ্রিল) রাতে বাবুল মিয়া ও ময়না মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এদিন নিহত বিউটির নানি ফাতেমা বেগম সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে ময়না মিয়া হত্যার কথা এবং বাবুল ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন বলেন আদালত সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


উল্লেখ, গত ২১ জানুয়ারি একই গ্রামের দিনমুজুরের মেয়ে বিউটি আক্তারকে বাড়ি থেকে জোর করে অপহরণ করে নিয়ে যায় বাবুল মিয়াসহ তার লোকজন। তাকে অপহরণ করে বিভিন্ন স্থানে রেখে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেন বাবুল।

 

আরেক অভিযুক্ত বাবুল মিয়া


এ ঘটনার প্রায় ১ মাস পর পর বাবুল মিয়া কৌশলে বিউটিকে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যান। পরে পহেলা মার্চ বিউটি আক্তারের পিতা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কলমচানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এরপর ১৬ মার্চ বিউটি নানীর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরদিন ১৭ মার্চ বিউটি আক্তারের লাশ স্থানীয় হাওর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে প্রচার হলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। বিউটি হত্যাকাণ্ডের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে।


এদিকে, বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে পর দিন ১৮ মার্চ কিশোরীর বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে একই গ্রামের বাবুল মিয়া (৩২) ও তার মা ইউপি সদস্য কলম চান বিবিকে (৪৫) আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে ২১ মার্চ অভিযান চালিয়ে কলম চান বিবিকে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এবং বাবুলের বন্ধু ইসমাইল মিয়াকে অলিপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।  


এ ঘটনার পর ২৯ মার্চ হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ স ম শামছুর রহমান ভূইয়াকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করেন পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা। এরপর ৩১ মার্চ সিলেট থেকে বাবুলকে আটক করা হয়।


জানা গেছে, প্রথম দফায় তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ারও সুপারিশ করা হয়। বদল করা হয় তদন্তকারী কর্মকর্তা। দ্বিতীয় দফায় মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মানিকুল ইসলাম। দায়িত্ব নেয়ার কয়েকদিনের মাঝেই তিনি মোটিভ উদঘাটনে সক্ষম হন। বাবুল ও তার মা কলম চান বিবিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বিউটির বাবা, মা, মামা, নানিসহ স্বজন ও নিকটাত্মীয়দের। বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলার সাক্ষী ময়না মিয়াকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসব জিজ্ঞাসাবাদেই বেরিয়ে আসে হত্যার মোটিভ। শেষ পর্যন্ত ময়না মিয়া হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। প্রকাশ করে জড়িত অন্যদের নামও। শুক্রবার বিকাল ৫টায় তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সে অনেক লোমহর্ষক তথ্য দেয়। জানায়, হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি জড়িত থাকার কথা। আরও কারা জড়িত ছিল, কী দিয়ে, কীভাবে হত্যা করা হয়েছে সব তথ্যই সে আদালতে প্রকাশ করেছে।


এদিকে একই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বাবুল মিয়া। সে বিউটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। তবে হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছে। অপরদিকে বাবুলের মা ইউপি সদস্য কলম চান বিবিকে ২ দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 


Top