পরীক্ষার দিনে চুক্তিবদ্ধদের ডিভাইস সরবরাহ করত তারা: গোয়েন্দা পুলিশ | daily-sun.com

পরীক্ষার দিনে চুক্তিবদ্ধদের ডিভাইস সরবরাহ করত তারা: গোয়েন্দা পুলিশ

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ এপ্রিল, ২০১৮ ১৬:৫২ টাprinter

পরীক্ষার দিনে চুক্তিবদ্ধদের ডিভাইস সরবরাহ করত তারা: গোয়েন্দা পুলিশ

 

বিসিএস মেডিকেল ও ব্যাংক পরীক্ষাসহ সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহার করছে জালিয়াত চক্র। পরীক্ষার দিনে তারা চুক্তিবদ্ধদের ডিভাইস সরবরাহ করে। পরীক্ষা শুরুর ৫ মিনিটের মধ্যে ওই ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র বাইরে ফাঁস করে দেয়া হয়। এরপর বাইরে থাকা প্রশ্ন এক্সপার্টদের মাধ্যমে ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত কানে লাগানো ক্ষুদে হেডফোনে এমসিকিউ বৃত্ত ভরাট করেন চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীরা।


শনিবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন।  


এর আগে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে ব্যাংক, সরকারি চাকরি এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাসহ এক প্রভাবশালী চক্রের ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার (৬ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর মিরপুর, নিউমার্কেট ও ফার্মগেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ক্ষুদে ব্যাটারি, ইয়ারফোন, মোবাইলফোনের ন্যায় কথা বলার সিমযুক্ত মাস্টারকার্ড জব্দ করা হয়। তাদের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে গোয়েন্দা পুলিশ।  


আব্দুল বাতেন বলেন, প্রশ্নফাঁস চক্রের এই ১০ সদস্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত থাকলেও প্রতি শুক্রবার রাজধানীর পান্থপথে তাদের একটি সেন্টারে এসে মিলিত হতেন। সেখানে বসেই তারা বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।

 


এই সেন্টারে বসে বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় মাস্টার কার্ড ডিভাইস ব্যবহার করে তারা জালিয়াতি করতেন। দীর্ঘদিন এইভাবে জালিয়াতি করার পর এবার তারা এইচএসসি পরীক্ষাকে টার্গেট করে একত্রিত হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু তারা সফল হওয়ার আগে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়েন বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।


তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনজন ব্যাংক কর্মকর্তা। তারা হলেন, হবিগঞ্জের পূবালী ব্যাংকের প্রবেশনাল অফিসার মো. মনিরুল ইসলাম, পটুয়াখালী সোনালী ব্যাংকের আইটি অফিসার অসীম কুমার দাস, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রবেশনাল অফিসার সোহেল আকন্দ।


গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন, জহিরুল ইসলাম, সাদদাদুর রহমান সোহান, নাদিমুল ইসলাম, এনামুল হক শিশির, শেখ তারিকুজ্জামান, অর্ণব চক্রবর্তী ও আরিফুর রহমান শাহীন।


সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল বাতেন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক আবু জাফর মজুমদার রুবেল, পুলকেশ ও কার্জন নামে তিনজন এই চক্রের মূল হোতা। তারা পলাতক তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।


তিনি আরও বলেন, চক্রের সদস্যরা তিনভাগে বিভক্ত হয়ে তিন কাজ করে থাকে। কয়েকজন পরীক্ষায় পাস করানোর জন্য মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হতে আগ্রহী পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। চক্রের আরেক অংশ পরীক্ষা শুরুর পর কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার জন্য ডিভাইস ব্যবহার ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আরেকটি অংশ ডিভাইস সরবরাহে সহযোগিতা করে।


তিনি আরও বলেন, কল রিসিভ করা গেলেও ওই ডিভাইসে কল করা যায় না। তবে ডিভাইসে ইনকামিং কল অটো রিসিভ হয়। ওপার থেকে উত্তর শুনে সেট কোড মিলিয়ে চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়।

 


গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে এ ব্যাপারে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা।


জালিয়াতি করেই চাকরি নেন তিন ব্যাংক কর্মকর্তা: জালিয়াত চক্রের সদস্য তিন ব্যাংক কর্মকর্তা একই কায়দায় জালিয়াতি করেই ব্যাংকে চাকরি নিয়েছিল বলেও জানান গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবুদল বাতেন।


তিনি বলেন, তিন ব্যাংক কর্মকর্তা নিজেরাও একই কায়দায় জালিয়াতি করে ব্যাংকে চাকরি নিয়েছিলেন। একইভাবে আরো বেশ কয়েকজনকে তারা জালিয়াতি করে ব্যাংক ও সরকারি চাকরি নিয়ে দেন।


চক্রটি দীর্ঘ ৭/৮ বছর ধরে এই অপরাধ করে আসছিলেন। তারা সর্বনিম্ন ৩০/৩৫ হাজার থেকে শুরু করে সর্ব্বোচ ১০/১২ লাখ টাকায় পরীক্ষার্থীদের সাথে চুক্তি করতেন।   

 


Top