কেবিন ব্লকের গেট থেকে ফেরত আফরোজা আব্বাস | daily-sun.com

কেবিন ব্লকের গেট থেকে ফেরত আফরোজা আব্বাস

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ এপ্রিল, ২০১৮ ১৩:১৪ টাprinter

কেবিন ব্লকের গেট থেকে ফেরত আফরোজা আব্বাস

 

দুর্নীতির মামলায় বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে দেখা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী এবং মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস। শনিবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে তাকে কেবিন ব্লকের গেট থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেয় পুলিশ।


এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনক হাসপাতালে ঢোকার সময় হাসপাতালের সামনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।


এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেয়া হয় এবং সেখানে ৫১২ নম্বর কেবিনে রাখা হয়েছে। এখান থেকে তাকে কেবিন ব্লকে প্যাথলজি বিভাগে রক্ত পরীক্ষার করার কক্ষে নেয়া হবে। পরে এক্সরে করার জন্য তাকে রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের ১/এ নম্বর এক্সরে কক্ষে নেয়া হবে।


খালেদা জিয়াকে কালো রঙের একটি গাড়িতে করে হাসপাতালে আনা হয়। এ সময় তার গাড়ির সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স, পেছনে দুটি গাড়ি ছিল। এছাড়া আগে-পিছে র‌্যাবের কড়া পাহারা ছিল।


বিএসএমএমইউর কোষাধ্যক্ষ আলী আসগর মোড়ল জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবেন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে কি না।


এর আগে শনিবার সকাল থেকেই গুঞ্জন ছিল খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউ-এ নেয়া হতে পারে। এ জন্য বিএসএমএমইউতে তার জন্যে একটি কেবিনও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সকালে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছিলেন ট্রেজারার আলী আসগর মোড়ল।


তিনি জানান, কারা কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে কেবিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল বোর্ড প্রস্তুত আছে। তারাই খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।


এদিকে গতকাল শুক্রবার (৬ এপ্রিল) বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে প্রবেশ করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখান থেকে বেরিয়ে কারা ফটকের সামনে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে সত্যিকার অর্থেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবে তিনি অসুস্থ হলেও তার মনোবল অটুট আছে। 


তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী সত্যিই অসুস্থ। এজন্য তাকে যেসব চিকিৎসা দেয়া দরকার, দ্রুত তার ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারি চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। আমরা চাই- ব্যক্তিগত চিকিৎসকরাও যেন তাকে চিকিৎসা দিতে পারেন, সরকার সে ব্যবস্থা করবে।’

 
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক, যে মানুষ বন্দি জীবনে অভ্যস্থ নন। তাকে বন্দি করে রাখা হলে তার ছাপ একটু পড়বেই। কিন্তু, উনার (খালেদা জিয়া) মনোবল অত্যন্ত শক্ত। তিনি আমাকে বলেছেন, ‘আমার জন্য ভাববেন না। আমি শক্ত আছি। এসব ছোটখাটো সমস্যা আমাকে সমস্যায় ফেলবে না।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বরাবরই বলে আসছি- উনার অসুস্থতার বিষয়ে যেসব ব্যবস্থা নেয়া দরকার, তা নেয়া হচ্ছে না।’


উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।  গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ৫৯দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।


এদিকে গত ৩১ মার্চ আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে। মেডিকেল বোর্ড যদি মনে করেন দেশে তার চিকিৎসা হবে না তাহলে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করা হবে। 


এর পর দিনই খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের সদস্যরা রবিবার (১ এপ্রিল) দুপুর সোয়া একটার দিকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা থেকে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরে মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অর্থোপেডিক বিভাগের অধ্যাপক ডা. শামসুজ্জামান জানান, তিনিসহ চার চিকিৎসক বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করতে কারাগারে যান। তিনি বলেন, ‘উনাকে (খালেদা জিয়া) দেখেছি। উনাকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। তার অসুস্থতা গুরুতর নয়।’


খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক মো. শামছুজ্জামান (অর্থোপেডিক্স), অধ্যাপক মনসুর হাবীব (নিউরোলজি), অধ্যাপক টিটু মিয়া (মেডিসিন) এবং সোহেলী রহমান (ফিজিক্যাল মেডিসিন)।

 


Top