খালেদার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে ফখরুল | daily-sun.com

খালেদার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে ফখরুল

ডেইলি সান অনলাইন     ৬ এপ্রিল, ২০১৮ ১৭:২৯ টাprinter

খালেদার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে ফখরুল

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে গেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (৬ এপ্রিল) বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে তিনি কারাগারে প্রবেশ করেন বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।


এর আগে গত ২৯ মার্চ বিকাল ৩টায় রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মির্জা ফখরুলের দেখা হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী কারাগার থেকে দেখা করার অনুমতি দেয়াও হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত ওই সময়ের আগেই কারা কর্তৃপক্ষ বিএনপি মহাসচিবকে জানান, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ। তাই এই মুহূর্তে তার সাথে সাক্ষাত করতে দেয়া সম্ভব নয়।


এর পরের দিনই ৩০ মার্চ নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সংবাদে আমরা উদ্বিগ্ন। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে সুচিকিৎসার দাবিও জানান তিনি। 


মির্জা ফখরুল আরও বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিএনপি কিছুই জানে না। তার (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিএনপি উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। সরকার তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে লুকোচুরি করছে।


ওই দিনই রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমন্ডলির সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সরকার কোনো কার্পণ্য করবে না। চিকিৎসকদের বোর্ড যদি খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করার জন্য পরামর্শ দেন তাহলে তাই করা হবে। জেলে আছেন বলে তার প্রতি সরকার কখনোই অমানবিক আচরণ করবে না।


ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, যদি সত্যিকার অর্থে বিএনপি নেত্রী অসুস্থ হন, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেবে সরকার। প্রয়োজনে তাকে বিদেশে পাঠানোও হবে। 


তিনি বলেন, তবে তার অসুস্থতা কেমন, তার ওপর নির্ভর করেই চিকিৎসা করানো হবে।


উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।  গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ৫৮দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

 


Top