চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার ২২ এপ্রিল পর্যন্ত জামিন | daily-sun.com

চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার ২২ এপ্রিল পর্যন্ত জামিন

ডেইলি সান অনলাইন     ৫ এপ্রিল, ২০১৮ ১২:২৮ টাprinter

চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার ২২ এপ্রিল পর্যন্ত জামিন

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আগামী ২২ এপ্রিল পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ আদেশ দেন।


এদিন অসুস্থতা জনিত কারণে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়নি। অপরদিকে তার জামিন বৃদ্ধির আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।


দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল শুনানিতে বলেন, খালেদা জিয়া বাতের ব্যাথায় ভুগছেন। মেডিকেল বোর্ড তাকে সুস্থ ঘোষণা করেছেন। কিন্তু পুরাতন বাত ব্যাথা তার রয়েছে। তিনি কোনো ওষুধ খাচ্ছেন না। তিনি তার ব্যাক্তিগত চিকিৎসক ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না। আমরা তার ব্যাক্তিগত চিকিৎক দেয়ার জন্য চেষ্টা করছি। তা এখন প্রক্রিয়াধীন।


তিনি আরও বলেন, ভিডিও কনফারেন্সেরর মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করার সুযোগ আছে। আমরা তার আবেদন করবো।


অপরদিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, যেহেতু খালেদা জিয়া অসুস্থ সেহেতু এক মাসের সময় দেওয়া হোক। খালেদা জিয়া এ মামলায় আজ (৫ এপ্রিল) পর্যন্ত জামিনে রয়েছেন। তাই তার জামিন বৃদ্ধি করা হোক।


উভয় পক্ষের শুনানির পর আদালত মামলাটির যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আগামী ২২ এপ্রিল দিন ধার্য করেন এবং ওই দিন পর্যন্ত খালেদার জামিন বৃদ্ধি করেন।


এর আগে ২৮ মার্চ ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান ৫ এপ্রিল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন বৃদ্ধি করেন।


গত ১ ফেব্রুয়ারি আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় এখতিয়ারবিহীন বিচার হচ্ছে। তাই আসামিরা খালাস পাবেন। 


ওই মামলার আসামি হারিছ চৌধুরীর (পলাতক) তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্নার পক্ষে তিনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন। আমিনুল ইসলাম তার যুক্তিতে আরও বলেন, এটা কোনো পাবলিক ট্রাস্ট নয়, প্রাইভেট ট্রাস্ট। দলের অভ্যন্তরের ব্যক্তিদের টাকায় ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে এবং ১৯৯৩ সালে আইনকানুন মেনে ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে।


আমিনুল ইসলাম বলেন, বিএনপির তৎকালিন মহাসচিব বি চৌধুরীসহ ৭ জন ওই ট্রাস্টের সঙ্গে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি চলে গেলে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পুনরায় এই ট্রাস্ট গঠন করা হয়।


তিনি বলেন, ১/১১ সরকারের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি এই মামলাটি করা হয়।


এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল এ মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। ওই দিন এ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব আসামিদের সর্বোচ্চ ৭ বছর সাজার দাবি জানান তিনি। এই মামলার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ মোট আসামি চারজন।


রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল ওই দিন আদালতকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে (২০০১ থেকে ২০০৬ সাল) ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজে ও অন্যকে লাভবান করার জন্য জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করেন। ১৯৪৭ সালের ৫(২), ধারা ও দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ৩২ জন সাক্ষির মাধ্যমে আমরা এটা প্রমাণ করতে পেরেছি। তাই এই মামলার প্রত্যেক আসামিকে সর্বোচ্চ ৭ বছর শাস্তির দাবি করছি।


তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত স্বার্থে এ ট্রাস্ট গঠন করেন। ব্যাংক একাউন্ট খোলার সময় তিনি পেশার কথা লেখেননি। তিনি সে সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।


এরপর ওই দিনই আসামি ট্রাফিক বিভাগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্নার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন আইনজীবী আমিনুল ইসলাম।

 

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।


২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর-রশিদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।


মামলার অন্য আসামিরা হলেন—খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
 

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।  গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ৫৭ দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।


এদিকে সোমবার (১২ মার্চ) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে চার গ্রাইন্ডে (যুক্তি) চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিনের আদেশ দেন।


তবে হাইকোর্টের দেয়া ওই জামিন আদেশের পরদিনই মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) সকালে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদা জিয়ার জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। শুনানি শেষে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ‘নো অর্ডার’ দিয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এরপর বুধবার (১৪ মার্চ) খালেদা জিয়ার হাইকোর্টের দেয়া চার মাসের জামিন রবিবার (১৮ মার্চ) পর্যন্ত স্থগিত করে লিভ টু আপিল দায়েরের জন্য দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ।


পরে বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ)  আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, লিভ টু আপিল দায়ের করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ এবং রবিবার (১৮ মার্চ) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শেষে আদেশের জন্য সোমবার (১৯ মার্চ) দিন ধার্য করেন। 


পরে ১৯ মার্চ, সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে এ মামলার সব পক্ষকে আপিল শুনানির জন্য পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।


অপরদিকে জামিন আদেশের দিন (সোমবার, ১২ মার্চ) কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা হামলায় ৮ যাত্রী হত্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশসহ ২৮ মার্চ তাকে আদালতে হাজির রাখতে নির্দেশ (পি.ডব্লিউ) দিয়েছেন কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুস্তাইন বিল্লাহ।

 

আরও পড়ুন:


জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় এখতিয়ারবিহীন বিচার হচ্ছে: যুক্তিতর্কে আইনজীবী


জিয়া চ্যারিটেবল মামলায়ও খালেদার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি রাষ্ট্রপক্ষের

 

কুমিল্লায় বাসে পেট্রলবোমা মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ

 

উচ্চ আদালতের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা: মওদুদ

 

খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের আদেশ নজিরবিহীন: জয়নুল আবেদীন

 

খালেদার জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত

 

খালেদার জামিনের বিরুদ্ধে দুদকের লিভ টু আপিল

 

খালেদা জিয়ার জামিন রবিবার পর্যন্ত স্থগিত

 

চেম্বারেও খালেদার জামিন বহাল, পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি কাল

 

খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে দুদকের আবেদন


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন পেলেন খালেদা জিয়া


তারেকসহ ৫ আসামির ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

 

 


Top