ব্যবসা করি, লেনদেন হতেই পারে কিন্তু দুদকের অভিযোগ বানোয়াট: মিন্টু | daily-sun.com

ব্যবসা করি, লেনদেন হতেই পারে কিন্তু দুদকের অভিযোগ বানোয়াট: মিন্টু

ডেইলি সান অনলাইন     ৩ এপ্রিল, ২০১৮ ১৫:২১ টাprinter

ব্যবসা করি, লেনদেন হতেই পারে কিন্তু দুদকের অভিযোগ বানোয়াট: মিন্টু

 

দুদকের অভিযোগকে বানোয়াট বলে উল্লেখ করেছেন সহ-সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, ব্যবসা করি, লেনদেন হতেই পারে কিন্তু দুদকের অভিযোগ বানোয়াট।

বিএনপির সিনিয়র আট নেতার বিরুদ্ধে দুদকের ১২৫ কোটি টাকার ‘সন্দেহজনক লেনদেনে’র অভিযোগ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়েই আবদুল আউয়াল মিন্টু এ মন্তব্য করেন।  


আর সংশ্লিষ্ট বাকি নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপিকে কালিমালিপ্ত করতেই এই বানোয়াট অভিযোগ তুলেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপি নেতারা।


যাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে তারা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, সহ-সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু, এম মোর্শেদ খান, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, এম মোর্শেদ খানের ছেলে ফয়সাল মোর্শেদ খান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।


সংবাদ সম্মেলনে ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে বাধা দিতে ও বিএনপিকে কালিমালিপ্ত করতেই আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।


নজরুল ইসলাম খান বলেন, সারাজীবনেই সাত কোটি টাকা লেনদেন করেছি বলে মনে হয় না। আসলে এটা নোংরা রসিকতা। দুদক মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করেছে।

তারা (দুদক) নিজেদের স্বাধীন বলে দাবি করে। কিন্তু আসলে কি তারা স্বাধীন?

 


নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে লিখতে পারেন, মিথ্যা মামলা দিতে পারেন। কিন্তু আমাদের নীতিভ্রষ্ট করা যাবে না, আমাদের ঐক্য বিনষ্ট করা যাবে না। আমরা দীর্ঘ রাজনীতি করে বর্তমান পর্যায়ের এসেছি।


আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এসব অভিযোগ একদলীয় শাসন কায়েমের অংশ। আসলে সরকার আর্থিক খাত ধ্বংস করে টাকা লুট করেছে। দুর্নীতিও আজকে একদলীয় হয়ে গেছে।


তিনি আরও, একদলীয় প্রচারণার জন্য আওয়ামী লীগ ২৫টি পোর্টাল খুলেছে। তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করছে শুধু ক্ষমতা দখলের জন্য।


আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গোয়েন্দা সংস্থার উচিত মানুষকে সত্যটা জানানো, কারও বিশেষ কাজে ব্যবহৃত না হওয়া।


তিনি আরও বলেন, দুদককে বলবো— জনগণের টাকায় আপনাদের প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে। জনগণকে হয়রানি করবেন না বরং সুষ্ঠু তদন্ত করুন। নইলে এই দেশ ধ্বংসের জন্য আপনারা দায়ী থাকবেন।

 

- ওপরে বাঁ দিক থেকে নজরুল ইসলাম খান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু ও এম মোর্শেদ খান; নিচে বাঁ দিক থেকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মির্জা আব্বাস, হাবিব উন নবী খান সোহেল ও তাবিথ আউয়াল।


সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার দুদককে দিয়ে নতুন প্রকল্প খুলেছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতেই দুদককে কাজে লাগানো হচ্ছে।  


রিজভী আরও বলেন, হঠাৎ করে বিএনপির সিনিয়র নেতা ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে অবৈধ টাকা লেনদেনের অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা মিথ্যা এবং বানোয়াট। বলেন, তারা আবারো একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু সেটা তারা করতে পারবে না।


সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি নেতা বরকতুল্লাহ বুলু, আবদুস সালাম, আবদুস সালাম আজাদ, আব্দুল আউয়াল খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

আরও পড়ুন:

 

বিএনপির ৮ নেতার ১২৫ কোটি টাকার লেনদেন অনুসন্ধানে দুদক

 


Top