আরসাকে সহযোগিতা না করতে নর্দার্ন অ্যালায়েন্সকে সাবধান করলো চীন | daily-sun.com

আরসাকে সহযোগিতা না করতে নর্দার্ন অ্যালায়েন্সকে সাবধান করলো চীন

ডেইলি সান অনলাইন     ৩ এপ্রিল, ২০১৮ ১৩:৫৫ টাprinter

আরসাকে সহযোগিতা না করতে নর্দার্ন অ্যালায়েন্সকে সাবধান করলো চীন

 

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের শান রাজ্যে চীনা সীমান্তের কাছে নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের যে সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে, তাদেরকে সাবধান করে দিয়ে চীন বলেছে, তারা যেন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশান আর্মিকে (আরসা) কোন ধরনের সহযোগিতা না করে।


সাতটি সশস্ত্র জাতিগত গ্রুপের সম্মিলিত সংগঠন হলো নর্দার্ন অ্যালায়েন্স।

এরা ফেডারেল পলিটিক্যাল নেগোসিয়েশান অ্যান্ড কনসাল্টেটিভ কমিটি (এফপিএলসিসি) নামেও পরিচিত।


২৬-২৮ মার্চ পাংসাংয়ে তিন দিনের এক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন জাতিগত সশস্ত্র গ্রুপের নেতা একজন নেতা। তিনি বলেন, “(চীনের) জিনজিয়াংয়ের উইঘুর স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলের উইঘুর মুসলিম সন্ত্রাসীরা আরসার সাথে নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। তাই চীন নর্দার্ন অ্যালায়েন্সকে সাবধান করে দিয়েছে, যাতে তারা আরসার সাথে কোন সহযোগিতা না করে।”


গত বছরের আগস্টে রাখাইন রাজ্যের মংডুতে পুলিশ ঘাঁটি ও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর (তাতমাদাও) পোস্ট লক্ষ্য করে হামলা চালায় আরসা। জবাবে ব্যাপক পাল্টা অভিযান চালায় তাতমাদাও এবং হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম ওই এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। তাতমাদাও ও সরকার আরসাকে জঙ্গি সংগঠন মনে করে।


কিছু জাতিগত সশস্ত্র গ্রুপের নেতাদের মতে, সতর্কবাণী উচ্চারণ করে চীন সম্ভবত আরাকান আর্মির (এএ) প্রতি একটা বার্তা পাঠাতে চেয়েছে। জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন ও নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের সদস্য এই আরাকান আর্মির চীনা সীমান্ত এলাকায় তৎপরতা রয়েছে। যদিও চীন তাদের বক্তব্যে আলাদা করে আরাকান আর্মির কথা উল্লেখ করেনি, বলেছে নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের কথা।


জাতিসত সশস্ত্র গোষ্টি আরাকান আর্মির উৎস আরাকান কিন্তু চীনা সীমান্তবর্তী লাইজা এবং কোকাং এলাকায় তাদের ঘাঁটি রয়েছে। সাধারণত তাতমাদাওয়ের সাথে সঙ্ঘাতের সময় এরা আরাকানে আসে এবং এরপর আবার তারা নিজেদের ঘাঁটিতে ফিরে যায়।

 

সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং (ডানে) ও চীনের রাষ্ট্রদূত হং লিয়াং


কিছু পর্যবেক্ষক বলেছেন আরাকান আর্মির সাথে আরসার সহযোগিতার বিষয়ে চীনের উদ্বেগ খুবই সামান্য। চীন ঐতিহাসিকভাবে আরাকানের সংঘর্ষের ক্ষেত্রে বরং পশ্চিমা প্রভাবের ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়ে এসেছে। বিশেষ করে আরাকান আর্মির কিছু নেতার উপর প্রভাব বিস্তারের বিষয়টিকে তারা উদ্বেগের সাথে দেখে থাকে যাদের এই অঞ্চলে সামরিক শক্তি রয়েছে।


জাতিগত আরাকান এবং রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠি একে অন্যকে সমর্থন করে না। বাস্তবে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের জাতিগত দ্বন্দ্ব রয়েছে। এর পরও আরাকান আর্মির সাথে আরসার যোগাযোগ নিয়ে উদ্বিগ্ন চীন। কিছু জাতিগত সশস্ত্র নেতাদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।


এফপিএনসিসি তাদের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে চীনের পক্ষ থেকে নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের প্রতি কোন সাবধান বার্তার কথা উল্লেখ করেনি। এতে শান্তি প্রক্রিয়া এবং পাংলং শান্তি সম্মেলনের উপর মনোযোগ দেয়া হয়েছে, এবং কাচিন, পালাউং, কোকাং এবং আরাকান বাহিনীর উপর তাতমাদাওয়ের হামলার নিন্দা করা হয়েছে।


বিবৃতিতে এফপিএনসিসি বলেছে যে, সরকার যদি পাংলং শান্তি সম্মেলনের পরবর্তী অধিবেশনে তাদের আমন্ত্রণ জানায়, তাহলে তারা তা গ্রহণ করবে। তবে শর্ত হলো, চীনকে তাদের সম্মেলন থেকে আসা ও যাওয়ার সুবিধা দিতে হবে এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।


মিয়ানমারের নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত হং লিয়াং ২৯ মার্চ তাতমাদাও কমান্ডার-ইন-চিফ সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইয়ের সাথে নেপিতোতে বৈঠক করেছেন। পাংসাং বৈঠকের একদিন পর এ বৈঠক হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে। বৈঠকে দুজন শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন এবং রাখাইনের মংডু এ বুথিডং থেকে যে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে, তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সেনাবাহিনী কিভাবে আরসার হামলা ঠেকানোর পরিকল্পনা করছে, তা নিয়েও আলোচনা করেন তারা।


মিয়ানমার ও চীনের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাতমাদাও চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।


- সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top