সিলেটে মা-ছেলে খুনের ঘটনায় মামলা, গৃহকর্মীকে খুঁজছে পুলিশ | daily-sun.com

সিলেটে মা-ছেলে খুনের ঘটনায় মামলা, গৃহকর্মীকে খুঁজছে পুলিশ

ডেইলি সান অনলাইন     ২ এপ্রিল, ২০১৮ ১৩:৪৮ টাprinter

সিলেটে মা-ছেলে খুনের ঘটনায় মামলা, গৃহকর্মীকে খুঁজছে পুলিশ

 

সিলেট নগরীর মিরাবাজারের খারপাড়া এলাকায় বাসার মধ্যে মা ও ছেলেকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ২৬ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। রবিবার (১ এপ্রিল) রাতে সিলেট মহানগরের কোতোয়ালি থানায়  এ মামলা দায়ের করেন নিহত রোকেয়া বেগমের ভাই জাকির হোসেন।


মামলার এজাহারে কারও নামোল্লেখ করা না হলেও, গত কয়েকদিন আগে রোকেয়ার বাসায় হামলা, মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাকে মারধরের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলা এবং মারধরের ঘটনা উল্লেখ করে এর সঙ্গে জড়িত শিপলু, তানিম ও সুমনের নাম উল্লেখ করে ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে এজাহারে বলা হয়েছে।


এদিকে নিজ শয়নকক্ষে মা-ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে ওই বাসার গৃহকর্মীর খোঁজে নেমেছেন পুলিশ। এছাড়া জীবিত উদ্ধার হওয়া সাড়ে ৩ বছরের শিশু রাইসাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।


মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) মুহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।


উল্লেখ্য, রোকেয়া বেগম তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকন (২ এপ্রিল শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থী) এবং মেয়ে রাইসাকে (৩) নিয়ে মিরাবাজারের মিতালী আবাসিক এলাকার ১৫/জে নম্বর বাসায় গত একবছর ধরে ভাড়া থাকতেন। তাদের সঙ্গে বাসায় তানিয়া (১৬) নামের একটি কাজের মেয়েও থাকত।

গত শুক্রবার বিকেলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রোকেয়াদের সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। এরপর থেকে তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল।


রবিবার (১ এপ্রিল) সকালে তাদের খোঁজ নিতে মিরাবাজারস্থ বাসায় আসেন নিহতের ভাই জাকির হোসেন। বাসায় এসে ভেতর থেকে তিনি তাদের দরজা বন্ধ দেখতে পান। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও কেউ দরজা না খোলায় তিনি বাড়ির মালিককে খবর দেন।


পরে বাড়ির মালিক ঘটনা শুনে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে ঘরে প্রবেশ করে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় ঘরের মধ্যে কান্নারত অবস্থায় পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে কাজের মেয়ে তানিয়াকে বাসায় পাওয়া যায়নি।


পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, গত শুক্রবার রাতে তাদের হত্যা করা হয়েছে। এ কারণে লাশে পঁচন ধরেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।


নিহত রোকেয়ার ভাই জাকির হোসেন জানান, ভগ্নিপতি জগন্নাথপুর উপজেলার হেলাল আহমদের সঙ্গে বোনের বনিবনা হচ্ছিল না। তাই তিনি ছেলে-মেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকতেন। গত রমজান মাসে হেলাল আহমদ স্ট্রোক করার পর হেলাল আহমদ তার পরিবারের সঙ্গে নগরীর বারুতখানায় একটি বাসায় থাকেন।


তিনি আরও জানান, মাসখানেক আগে থেকেই রোকেয়া তাকে জানিয়েছিলেন, বাসায় তার বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হচ্ছে, বাসা বদলানো দরকার। ১৫-২০ দিন আগে একদল যুবক বাসা থেকে মোবাইল নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় মুরুব্বীরা বিচার করে সেটা সমাধান করে দেন।

 


Top