প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা ও দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার ডেথ রেফারেন্স আপিল শুনানির কার্যতালিকায় | daily-sun.com

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা ও দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার ডেথ রেফারেন্স আপিল শুনানির কার্যতালিকায়

ডেইলি সান অনলাইন     ১ এপ্রিল, ২০১৮ ১৫:২২ টাprinter

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা ও দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার ডেথ রেফারেন্স আপিল শুনানির কার্যতালিকায়

 

কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা ও দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণ) ও আসামিদের আপিল হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে। চলতি সপ্তাহে হাইকোর্টের পৃথক বেঞ্চে মামলা দুটি শুনানি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলাটি বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চের কার্যতালিকার রয়েছে।


আর দশ ট্রাক অস্ত্র মামলাটি শুনানির জন্য বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চের কার্যতালিকায় এসেছে।


বিচারিক আদালতে কোনো মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে সে মামলার নথি সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে হাইকোর্টে আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়, যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত।

 

কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলার রায় ঘোষণার পর আসামিদের আদালত থেকে কারাগারে নেওয়া হচ্ছে


প্রসঙ্গত, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মমতাজ বেগম ১০ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেন। এছাড়া চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।


এ মামলার রায়সহ সব নথি ওই বছরের ২৪ আগস্ট হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর প্রধান বিচারপতির কাছে নথি উপস্থাপন করা হলে তিনি জরুরি ভিত্তিতে পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দেন। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এরই মধ্যে পেপারবুক তৈরি করা হয়। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত শেষে কার্যতালিকায় দেয়া হয়।


এছাড়া দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলও কার্যতালিকায় এসেছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক করা হয় ১০ ট্রাক ভর্তি অস্ত্রের চালান। এ নিয়ে কর্ণফুলী থানায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন ও ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের অভিযোগ এনে দুটি মামলা হয়। সিআইডি পুলিশ দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে। এর বিচারও একসঙ্গে শুরু হয়।

 

সিইউএফএল ঘাটে আটক ১০ ট্রাক ভর্তি অস্ত্রের চালান


দুটি মামলায় ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক এস এম মজিবুর রহমান রায় ঘোষণা করেন। দুটি মামলার মধ্যে একটিতে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া এবং দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৪ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।


২০১৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলায় ৫১৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। পূর্ণাঙ্গ রায়ে চোরাচালান মামলার রায় ২৬০ পৃষ্ঠা এবং অস্ত্র আটক মামলার রায় ২৫৪ পৃষ্ঠা। 


পরে ওই মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে।

 


বাবর, নিজামী ও পরেশ বড়ুয়া ছাড়া ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুর রহিম, পরিচালক উইং কমান্ডার (অব.) সাহাব উদ্দিন আহাম্মদ, উপ-পরিচালক মেজর (অব.) লিয়াকত হোসেন, এনএসআইয়ের মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন খান, সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহসিন উদ্দিন তালুকদার, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কে এম এনামুল হক, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নুরুল আমিন, অস্ত্র বহনকারী ট্রলারের মালিক হাজি সোবহান, চোরাকারবারি হাফিজুর রহমান এবং অস্ত্র খালাসের জন্য শ্রমিক সরবরাহকারী দ্বীন মোহাম্মদ।


তাদের মধ্যে পরেশ বড়ুয়া ও নুরুল আমিন পলাতক। এই মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্যতম আসামি মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে যুদ্ধাপরাধ মামলায়।

 


Top