এপ্রিলে হাসিনা-মোদির সম্ভাব্য বৈঠক লন্ডনে | daily-sun.com

এপ্রিলে হাসিনা-মোদির সম্ভাব্য বৈঠক লন্ডনে

ডেইলি সান অনলাইন     ১ এপ্রিল, ২০১৮ ১১:৩৯ টাprinter

এপ্রিলে হাসিনা-মোদির সম্ভাব্য বৈঠক লন্ডনে

 

এপ্রিল মাসের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি সম্ভাব্য বৈঠক লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে রবিার এখবর জানিয়েছে কলকাতাভিত্তিক ভারতীয় আনন্দবাজার পত্রিকা।


খবরে বলা হয়, ওই সময়ে কমনওয়েলথ হেড অব গভর্নমেন্ট মিটিংয়ে যোগ দিতে যুক্তরাজ্যে যাবেন বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ওই সম্মেলনের ফাঁকেই উভয় নেতার বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করা হচ্ছে দুই দেশের পক্ষ থেকে।


বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশেই জাতীয় নির্বাচন কড়া নাড়ছে। চলতি বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশে এবং ২০১৯ সালের প্রথম দিকেই ভারতের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এমন সময়ে লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য ওই সম্মেলনের ফাঁকে শেখ হাসিনা ও মোদির মধ্যে একটি বৈঠকের জন্য তৎপরতা শুরু হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


বলা হয়, সম্প্রতি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বিমস্টেক-এর নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠকে যোগ দিতে ঢাকা এসেছিলেন। এখন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে বাংলাদেশ সফরে আসবেন।


দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের আরও বেশি আস্থা অর্জন করাকে এখন অগ্রাধিকার দিচ্ছে ভারত। সাংস্কৃতিক দৌত্যের মাধ্যমে ‘ট্র্যাক টু’ কূটনীতির দিকেও জোর দেয়া হচ্ছে।

এ উপলক্ষে ১০ এপ্রিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে একটি আলোচনা সভায় যোগ দিতে ঢাকা আসছেন রবীন্দ্রভারতীর উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরী এবং বিশ্বভারতীর উপাচার্য সবুজকলি সেন।


মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, লন্ডনে বৈঠক হলে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা করবেন দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী। তবে ওই বৈঠকে তিস্তা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত কথা দেওয়া সম্ভব হবে না মোদির পক্ষে।


সম্প্রতি ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিস্তা ছাড়াও আরও অনেকগুলি দিক রয়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ভারত পাশে রয়েছে। যে কাজগুলি ইতিমধ্যেই চলছে তার পাশাপাশি, নতুন কোন ক্ষেত্রে সমন্বয় বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কথা বলবেন মোদি-হাসিনা। কথা হবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও। কট্টর মৌলবাদ এবং সন্ত্রাসের মোকাবিলা করতে পারস্পরিক সহযোগিতা আগামি দিনগুলিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিবেশী রাষ্ট্রে নির্বাচনি সহিংসতার ঘটনা বাড়লে তার প্রভাব সীমান্তে পড়তে পারে— এই উদ্বেগ রয়েছে নয়াদিল্লির।   


তবে তিস্তা নিয়ে আশু নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা না থাকলেও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য ভারত যে ঐকান্তিক, এ বার এই অবস্থান বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরা হবে।   রাখাইন প্রদেশকে আর্থ-সামাজিক ভাবে ঢেলে সাজার জন্য কী পদক্ষেপ করলে সুবিধা হয়, সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে ভারত। গত বছরের শেষে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত জেলা রাখাইনের উন্নয়নের জন্য একটি চুক্তিপত্রে সই করেছে ভারত। সেখানে প্রস্তাবিত আবাসন তৈরির প্রকল্পগুলি শুরু করে দিতে সক্রিয় হচ্ছে মোদি সরকার। প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা করার মতো যথেষ্ট রসদ রাখাইন প্রদেশে রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুসারে, প্রায় এক বছর আগে দুই প্রধানমন্ত্রী সর্বশেষ শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। এর মধ্যে কোনও তৃতীয় দেশেও মুখোমুখি হননি তারা। লন্ডনের বৈঠকটি সম্ভব হলে, কূটনৈতিক শিবিরের হিসাব মতো বর্তমান সরকারের আমলে এটাই দু’দেশের শেষ শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হবে। ফলে এই বৈঠকের গুরুত্ব গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই যথেষ্ট।

 


Top