বাংলাদেশের সাথে এনটিপিসি’র চুক্তির বিরোধিতা ভারতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর | daily-sun.com

বাংলাদেশের সাথে এনটিপিসি’র চুক্তির বিরোধিতা ভারতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর

ডেইলি সান অনলাইন     ৩১ মার্চ, ২০১৮ ১৪:২৭ টাprinter

বাংলাদেশের সাথে এনটিপিসি’র চুক্তির বিরোধিতা ভারতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর

 

ভারতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর লবি সংগঠন অ্যাসোসিয়েশান অব পাওয়ার প্রডিউসারস, বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) সাথে এনটিপিসির একটি বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তির বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে। তারা বলছে যে প্রস্তাবিত এই ক্রস-বর্ডার বিক্রির ফলে সরকারী নীতির লঙ্ঘন হবে এবং ভারতীয় গ্রাহকদের জন্য সেটা ক্ষতিকর হবে।


সংস্থাটি বলেছে যে, মনে হচ্ছে বাংলাদেশে রফতানির জন্য এনটিপিসি বিদ্যুৎ ভায়াপার নিগাম (এনভিভিএন) যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, সেখানে কোল ইন্ডিয়া থেকে কেনা স্বল্পমূল্যের কয়লা ব্যবহার করা হবে। কিন্তু এই কয়লা শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে ব্যবহার করার কথা।


৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিপিডিবি’র সাথে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে এনভিভিএন। শিগগিরই এই সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা।


অ্যাসোসিয়েশান অব পাওয়ার প্রডিউসারসের ডিরেক্টর জেনারেল অশোক খুরানা বলেন, “ক্রস বর্ডার বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি হয় নিলামের মাধ্যমে, নয়তো আমদানির মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। বিদ্যুৎ রফতানিকারকদের এই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে, তারা দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির অধীনে কোল ইন্ডিয়া থেকে নেয়া স্বল্পমূল্যের কয়লা কোনভাবেই এখানে ব্যবহার করবে না, কারণ এই কয়লা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ শুধুমাত্র ভারতীয় গ্রাহকরাই ব্যবহার করবে।”


ইকোনমিক টাইমস এনটিপিসি’র বেশ কিছু সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এনটিপিসি’র সাবেক এক নির্বাহী অবশ্য বলেছেন যে বিদ্যুৎ রফতানির ব্যাপারে সরকারের নীতিতে এটা রয়েছে যে, যদি চাহিদার অতিরিক্তি বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, তাহলে বিদ্যুৎ রফতানির জন্য এককালিন অনুমোদন নিতে হবে এবং বিপনন লাইসেন্সেও বিষয়টির অনুমতি দেয়া আছে। তিনি আরও বলেন, সরকারী কোম্পানিগুলোর বাইরে কয়লা ব্যবহার করে, এমন যে কোন প্রতিষ্ঠানকে যদি যথাযথ কর্তৃপক্ষ এই স্বীকৃতি দেয় যে, তারা চাহিদার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, তাহলে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোতে বিদ্যুৎ রফতানি করতে পারবে।


তিনি বলেন, “বর্তমান নীতি অনুযায়ী ডিসকম প্রতিবেশী দেশগুলোর টেন্ডারে অংশ নিতে পারে এবং তাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ রফতানি করতে পারে কারণ এ ধরণের প্রক্রিয়া ও নীতিমালা রয়েছে। তাছাড়া ক্রস-বর্ডার নীতিমালা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, এটাও সবারই জানা রয়েছে।”


বিদ্যুৎ খাতের এক নির্বাহী বলেন, ২০১৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম বঙ্গের বিদ্যুৎ পুল থেকে প্রায় ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “তাদের চুক্তি বেশ কয়েকবার বাড়ানো হয়েছে এবং এ জন্য যে নীতিমালা রয়েছে, সেখানে কোথাও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা ব্যবহারের কথা বলা হয়নি।”


কিন্তু জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে, অ্যাসোসিয়েশান অব পাওয়ার প্রডিউসারস বলেছে যে, বিপিডিবির সাথে চুক্তির যে শর্ত রয়েছে, তাতে এনভিভিএনকে জ্বালানি সরবরাহ চুক্তির অধীনে কয়লা ব্যবহার করতে হবে অথবা খনি থেকে কয়লা উত্তোলন করতে হবে। এনভিভিএন তাই শুধুমাত্র ভারতে ব্যবহারোপযোগী বিদ্যুৎ উৎপাদনের পেছনে কয়লা ব্যবহার করতে পারে।


চিঠিতে এটাও উল্লেখ করা হয় যে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী যে প্ল্যান্ট থেকে পুরো চুক্তির সময়কালে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানি করা হবে, তারা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা ব্যবহার করতে পারবে কি-না, এ ব্যাপারে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।


অ্যাসোসিয়েশান মন্ত্রণালয়ের কাছে দেয়া চিঠিতে এ ধরনের নির্দেশনা দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে ভারতের ভেতরে ব্যবহারের জন্য যে কয়লা রয়েছে, বিপিডিবি’র সাথে দীর্ঘমেয়াদি টেন্ডারের জন্য সেগুলো ব্যবহার করা না হয়।


- সূত্র: ইকোনোমিক টাইমস অবলম্বনে সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top