ফখরুলের বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার হচ্ছে: রিজভী | daily-sun.com

ফখরুলের বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার হচ্ছে: রিজভী

ডেইলি সান অনলাইন     ৩০ মার্চ, ২০১৮ ১৭:৫৪ টাprinter

ফখরুলের বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার হচ্ছে: রিজভী

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তার চিকিৎসা ইস্যুতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য বিকৃত করে গণমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে বলে দাবি করেছে দলটি। শুক্রবার (৩০ মার্চ) দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ই-মেইলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন দাবি করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।


দলের সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর পাঠানো ওই বিবৃতিতে রিজভী দাবি করেন কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার করছে।


বিবৃতিতে বলা হয়, “আজ (শুক্রবার) সকাল ১০.৩০টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, ‘কারাগারে অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং কারামুক্তির পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে নাকি বিদেশে চিকিৎসা করাবেন-সেই বিষয়ে তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন’। ইতোমধ্যে কিছু কিছু অনলাইনে মহাসচিবের এই বক্তব্যকে বিকৃত করে প্রচার করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে যে বিষয়টি পরিস্কার করে বলা হয়েছে সেটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মনগড়া বক্তব্য প্রচার করা সৎ সাংবাদিকতাসূলভ নয়। এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে আমি সংশ্লিষ্ট অনলাইনগুলোতে সঠিক বক্তব্যটি প্রচারের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। ”


এদিকে আজ দুপুরেই রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমন্ডলির সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সরকার কোনো কার্পণ্য করবে না।   তিনি বলেন, চিকিৎসকদের বোর্ড যদি খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করার জন্য পরামর্শ দেন তাহলে তাই করা হবে।

জেলে আছেন বলে তার প্রতি সরকার কখনোই অমানবিক আচরণ করবে না।  


ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বেগম জিয়া জেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে তার দলের মহাসচিব জোর গলায় বলে যাচ্ছেন। খালেদা জিয়ার যে ধরনের অসুস্থ, তার জন্য সে ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দেশেও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী বেগম জিয়ার চিকিৎসার জন্য যা যা করা দরকার তাই করা হবে।  


তিনি বলেন, যদি সত্যিকার অর্থে বিএনপি নেত্রী অসুস্থ হন, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেবে সরকার। প্রয়োজনে তাকে বিদেশে পাঠানোও হবে। তবে তার অসুস্থতা কেমন, তার ওপর নির্ভর করেই চিকিৎসা করানো হবে।


প্রসঙ্গত, পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) বিকাল ৩টায় রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মির্জা ফখরুলের দেখা হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী কারাগার থেকে দেখা করার অনুমতিও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় সাক্ষাৎ স্থগিত করা হয় বলে জানান চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।  


তিনি জানান, কারা কর্তৃপক্ষ বিএনপি মহাসচিবকে জানিয়েছে, খালেদা জিয়া অসুস্থ। তাই এই মুহূর্তে তার সাথে সাক্ষাত করতে দেয়া সম্ভব নয়।


উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।   গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ৫১দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

 


Top