বেগম জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সরকার কোনো কার্পণ্য করবে না: কাদের | daily-sun.com

বেগম জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সরকার কোনো কার্পণ্য করবে না: কাদের

ডেইলি সান অনলাইন     ৩০ মার্চ, ২০১৮ ১৩:৪৭ টাprinter

বেগম জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সরকার কোনো কার্পণ্য করবে না: কাদের

 

বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সরকার কোনো কার্পণ্য করবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের বোর্ড যদি খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করার জন্য পরামর্শ দেন তাহলে তাই করা হবে। জেলে আছেন বলে তার প্রতি সরকার কখনোই অমানবিক আচরণ করবে না। শুক্রবার (৩০ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমন্ডলির সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।


এর আগে আজ সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সংবাদে উদ্বিগ্ন বিএনপি। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে সুচিকিৎসারও দাবি জানান তিনি।  


মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিএনপি কিছুই জানে না। তার (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিএনপি উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। সরকার তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে লুকোচুরি করছে।


মির্জা ফখরুলের এমন দাবির প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, বেগম জিয়া জেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে তার দলের মহাসচিব জোর গলায় বলে যাচ্ছেন। খালেদা জিয়ার যে ধরনের অসুস্থ, তার জন্য সে ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

দেশেও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী বেগম জিয়ার চিকিৎসার জন্য যা যা করা দরকার তাই করা হবে। জেলে আছেন বলে তার প্রতি সরকার কখনোই অমানবিক আচরণ করবে না।


ওবায়দুল কাদের বলেন, যদি সত্যিকার অর্থে বিএনপি নেত্রী অসুস্থ হন, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেবে সরকার। প্রয়োজনে তাকে বিদেশে পাঠানোও হবে।


তিনি বলেন, তবে তার অসুস্থতা কেমন, তার ওপর নির্ভর করেই চিকিৎসা করানো হবে।


এ সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সারাদেশে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আমাদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে অনেক জায়গায় বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে গেছি। বিএনপি যে সব জায়গায় জিতেছে তা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহের ফসল। সুপ্রিম কোর্টেও আমাদের নেতাদের মধ্যে ঝামেলা ছিল। যে কারণে আমাদের পরাজয় ঘটেছে। এসব বিষয় নিয়ে আমরা সম্পাদকমন্ডলীর সভায় আলোচনা করেছি।


আওয়ামী লীগের এই সাধারন সম্পাদক বলেন, দল থেকে বিদ্রোহ করে যারা বিভিন্ন সময় নির্বাচন করেছেন, তাদের ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধীদের শাস্তি না হলে অপরাধের প্রবণতা আরও বেড়ে যায়।


তিনি আরও জানান, ১৭ এপ্রিল, মুজিব নগর দিবস এবং পহেলা বৈশাখ নিয়ে আলোচনা হয়েছে সভায়। আগামীকাল (শনিবার) কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ফরিদুন্নাহার লাইলী প্রমুখ।


প্রসঙ্গত, পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) বিকাল ৩টায় রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মির্জা ফখরুলের দেখা হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী কারাগার থেকে দেখা করার অনুমতিও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় সাক্ষাৎ স্থগিত করা হয় বলে জানান চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।  


তিনি জানান, কারা কর্তৃপক্ষ বিএনপি মহাসচিবকে জানিয়েছে, খালেদা জিয়া অসুস্থ। তাই এই মুহূর্তে তার সাথে সাক্ষাত করতে দেয়া সম্ভব নয়।


উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।   গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ৫১দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

 


Top