খালেদার সাজা বাড়ানোর শুনানি বুধবার করতে দুদকের আবেদন | daily-sun.com

খালেদার সাজা বাড়ানোর শুনানি বুধবার করতে দুদকের আবেদন

ডেইলি সান অনলাইন     ২৭ মার্চ, ২০১৮ ১৭:৩৭ টাprinter

খালেদার সাজা বাড়ানোর শুনানি বুধবার করতে দুদকের আবেদন

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা ৫ বছর থেকে আরও বাড়ানোর জন্য করা আপিল আবেদনের শুনানি বুধবার (২৮ মার্চ) করতে আদালতে আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি এ কে এম সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ আবেদন করেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।


এর আগে গত রবিবার (২৫ মার্চ) ওই মামলায় বিচারিক আদালতে খালেদা জিয়াকে দেয়া সাজা বাড়াতে আপিল দায়ের করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।


এ মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালাত খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে মামলার অপর আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। বিশেষ জজ আদালতের ওই রায়ের পর থেকে কারাগারে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।


খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘এ মামলার মূল আসামি খালেদা জিয়া। তাকে আদালত পাঁচ বছর সাজা দিয়েছেন অথচ তার সহযোগী অপরাধীদের ১০ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে। বিচারিক আদালত যদি সবাইকে ১০ বছরের সাজা দিত অথবা সবাইকে পাঁচ বছরের সাজা দিত তাহলে আমরা আবেদন করতাম না। যদি খালেদা জিয়াকেও ১০ বছরের সাজা দিত তাহলেও কোনো আবেদন করতাম না। সহযোগীদের সাজা কম হতে পারত।

এটিকেও আমরা আপিলে গ্রাউন্ড হিসেবে দেখিয়েছি। ’


এদিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের অভিযোগ, এ মামলায় সরকার হস্তক্ষেপ করছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘অনেকে বলছেন সরকারের মদদপুষ্ট হয়ে দুদক থেকে এ আবেদন করেছে। এটা মোটেও ঠিক নয়। আপনারা জানেন, যখন আপিলে জামিনের শুনানি হয় তখন আমরা বলেছি, জাজমেন্টের এ সাজায় আমরা সন্তুষ্ট নই। এটা অপর্যাপ্ত সাজা। আদালত আমাদের জিজ্ঞাসা করেছিল, (হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকালে) আমরা কিছু করেছি (সাজার বিরুদ্ধে দুদকের আপিল) কিনা? তখন আমরা আদালতকে বলেছিলাম, বিষয়টি দুদক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। দুদক পুরো জাজমেন্ট ঘাটাঘাটি করবে। পরবর্তীতে দুদক সিদ্ধান্ত নেবে। সেই আবেদনটি এফিডেভিট সম্পন্ন করা হয়েছে। ’


খুরশীদ আলম খান আরও বলেন, অপর্যাপ্ত সাজা হওয়ার বিরুদ্ধে আবেদন করেছি। এটা যখন শুনানি হবে, তখন দেখা যাবে একটি আইনে যতগুলো সাজা থাকে আদালত চাইলে তার বেশি বা কমও সাজা প্রদান করতে পারেন। অথবা খালাসও দিতে পারেন। এটা মামলার বিষয়বস্তু ও ঘটনার ওপর নির্ভর করবে।


বিএনপির আইনজীবীরা আপিল আবেদনটি প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন- এর উত্তরে দুদকের এ আইনজীবী বলেন, দুদক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপিল করেছে। এটা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই। এখন আমাদের বক্তব্য হলো, এটা ধোপে টিকবে কিনা, তা আদালত দেখবেন।


উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।   গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ৪৮দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

 


Top