সিজারে নবজাতক দুই খণ্ড: চিকিৎসকসহ ৭ জনকে হাইকোর্টে তলব | daily-sun.com

সিজারে নবজাতক দুই খণ্ড: চিকিৎসকসহ ৭ জনকে হাইকোর্টে তলব

ডেইলি সান অনলাইন     ২৫ মার্চ, ২০১৮ ১৬:৪৮ টাprinter

সিজারে নবজাতক দুই খণ্ড: চিকিৎসকসহ ৭ জনকে হাইকোর্টে তলব

 

সিজারিয়ানের সময় প্রসূতি নারীর জরায়ুসহ নবজাতকের মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের পরিচালক, জেলা সিভিল সার্জন ও অভিযুক্ত চিকিৎসকসহ সাতজনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। রবিবার (২৫ মার্চ) বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।


একইসঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। আগামী ৪ এপ্রিল অভিযুক্তদের সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।


‘ডাক্তার দুই খণ্ড করলেন নবজাতককে’ শিরোনামে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান নজরে আনলে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।


শুনানিতে আসাদুজ্জামানের সঙ্গে আরও অংশ নেন আইনজীবী সেগুফতা তাবাসসুম আহমেদ, ফারহানা ইসলাম খান ও আনিসুল ইসলাম।


অ্যাডভোকেট সেগুফতা তাবাসসুম আহমেদ জানান, এই ঘটনায় আগামী ৪ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, কুমিল্লার সিভিল সার্জন, গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. করুনা রানী কর্মকার, ডা. নাসরিন আক্তার পপি, ডা. জানিবুল হক, ডা. দিলরুবা শারমিন ও ডা. আয়েশা আফরোজকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।


চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি জানাজানি হয় গতকাল শনিবার। জুলেখা বেগম নামের ওই প্রসূতি গত এক সপ্তাহ ধরে সন্তান ও শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হারিয়ে হাসপাতালের শয্যায় কাতরাচ্ছেন।


এ ঘটনায় হাসপাতালসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা বলেছেন, ওই প্রসূতির জীবন রক্ষার্থে অপারেশন করে নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন করে বের করা হয়েছে এবং জরায়ু কেটে ফেলা হয়েছে।


জানা গেছে, জেলার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের সফিক কাজীর স্ত্রী জুলেখা বেগম (৩০) প্রসব বেদনা নিয়ে ১৭ মার্চ রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদির দুপুরে অপারেশন থিয়েটারে হাসপাতালের গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. করুনা রানী কর্মকারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের চিকিৎসক দল ওই অপারেশন করেন। ডা. নাসরিন আক্তার পপি, ডা. জানিবুল হক, ডা. দিলরুবা শারমিন ও ডা. আয়েশা আফরোজসহ অন্যরা অপারেশনে অংশ নেন।


প্রসূতির স্বামী সফিক কাজী বলেন, প্রসব বেদনায় ছটফট করলেও ডাক্তাররা আমার স্ত্রীকে সিজারের কোনো উদ্যোগ নেননি। পরদিন দুপুরে জুলেখার সিজার করা হয়। এ সময় নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন এবং আমার স্ত্রীর জরায়ু কেটে ফেলা হয়।


তিনি আরও জানান, ওইদিন হাসপাতালের একজন দারোয়ান এসে তার কাছে মৃত নবজাতককে মাটিচাপা দেয়ার জন্য ৫০০ টাকা চান। পরে তিনি ৩০০ টাকা দেন। ওই দারোয়ান নবজাতকের মরদেহ মাটিচাপা দেয়ার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পান তার সন্তানের মাথা কেটে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। এ সময় তিনি মোবাইলে নবজাতকের ছবি তুলে রাখেন। এরপর দারোয়ান হাসপাতালের অদূরে নিয়ে নবজাতককে মাটিচাপা দেন।


জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই প্রসূতি বলেন, ডাক্তাররা আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। হাসপাতালে আসার পরও আমার পেটে সন্তান নড়াচড়া করছিল। আমি সিজারের কথা বললেও তারা (ডাক্তার) রাতে সিজার করেননি। ডাক্তার আমার সন্তানকে কেটে ফেলেছে। সেইসঙ্গে আমার জরায়ু কেটে অপারেশন করে দিয়েছে।


অপারেশনে অংশ নেওয়া হাসপাতালের ডা. নাসরিন আক্তার পপি, ডা. আয়েশা আফরোজ, ডা. জানিবুল হক, ডা. দিলরুবা শারমিন সাংবাদিকদের জানান, প্রসূতির গর্ভের সন্তান মৃত ও অস্বাভাবিক পজিশনে ছিল। কিন্তু শিশুটির হাত-পা জরায়ু মুখ দিয়ে বের হয়ে আসায় বাধ্য হয়ে অপারেশনের মাধ্যমে মৃত শিশুর দেহ ও মাথা বিচ্ছিন্ন করে আলাদাভাবে বের করা হয়েছে।


অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রোগীর জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা জরায়ু কেটে ফেলি। অপারেশনের আগে এসব বিষয়ে প্রসূতির স্বামীর অনুমতি নেয়া হয়েছে এবং এতে ডাক্তারদের অবহেলা ছিল না বলে তারা দাবি করেন।


হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মতিউর রহমান সংশ্লিষ্ট চার ডাক্তারকে তার কার্যালয়ে ডেকে আনেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রসূতির জীবন রক্ষার্থে ডাক্তাররা অপারেশন করে গর্ভের সন্তান দুই খণ্ড করে বের করে আনেন। এ ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ সঠিক কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


এর আগে গত বছরের ২৫ অক্টোবর কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরিপুরের লাইফ হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারের মাধ্যমে এক প্রসূতির একটি বাচ্চা বের করে আনার পর আরেকটি বাচ্চাকে টিউমার ভেবে সেলাই করে দেয়া হয়।


পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রেপচার করে পেটে থাকা মৃত সন্তানটি বের করা হয়। এ ঘটনায় সে সময়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

 


Top