ছাত্রীর সাথে অশ্লীল আচরণ করায় চাঁদনী চকের চার কর্মচারী গ্রেপ্তার | daily-sun.com

ছাত্রীর সাথে অশ্লীল আচরণ করায় চাঁদনী চকের চার কর্মচারী গ্রেপ্তার

ডেইলি সান অনলাইন     ২৪ মার্চ, ২০১৮ ১৯:৫১ টাprinter

ছাত্রীর সাথে অশ্লীল আচরণ করায় চাঁদনী চকের চার কর্মচারী গ্রেপ্তার

 ইডেন মহিলা কলেজের চার ছাত্রীকে গায়ে হাত দিয়ে হয়রানি ও অশ্লীল মন্তব্যের অভিযোগে রাজধানীর চাঁদনী চক মার্কেটের দুই দোকানের চার কর্মচারীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার তাদের আটক করা হয়।  এর আগে শুক্রবার মার্কেটে গিয়ে ওই চার ছাত্রী হয়রানির শিকার হন। রাতেই তাদের মধ্যে এক ছাত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে একটি স্ট্যাটাস দেন। পরে ওই স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে থানায় অভিযোগ করা হয়।  

 

অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- শাহনুর ফেব্রিক্সের কর্মচারী নজরুল ইসলাম, আল-আমিন এবং আবুল হোসেন। আরেকজন পাশের দোকানের নয়ন।



নিউ মার্কেট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর বলেন, শুক্রবার ইডেন কলেজের ওই চার শিক্ষার্থী কেনাকাটা করতে চাঁদনী চকে যান। এ সময় তাদের একজনের সঙ্গে মা এবং খালা ছিলেন।

 

তিনি আরো বলেন, কেনাকাটা করার এক পর্যায়ে মা ও খালার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান চার ছাত্রী।

এ সময় শাহনুর ফেব্রিকস নামের ওই দোকানের গেটের পাশে কেনাকাটা করা কাপড়ের ব্যাগ রেখে তারা মুঠোফোনে তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।  



এসআই আলমগীর আরো বলেন, দোকানের সামনে ব্যাগ রাখায় সেখানকার কর্মচারীরা অভিযোগ করেন যে ব্যাগের কারণে দোকানে ক্রেতাদের ঢুকতে সমস্যা হচ্ছে। এসময় তারা ছাত্রীদের সাথে  খারাপ আচরণ করে। তখন তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলে এক কর্মচারী তাদের গায়ে হাত দিয়ে ধাক্কা দেয় এবং অশ্লীল মন্তব্য করে।  



পরে শনিবার সকালে ছাত্রীরা নিউ মার্কেট থানায় অভিযোগ করলে চাঁদনী চক মার্কেটে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চার কর্মচারীকে আটক করা হয়। ইভটিজিং এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।  



ঘটনার পরই ভুক্তভোগী ছাত্রীদের একজন নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে একটি পোস্ট দেন। যে দোকানের সামনে ঘটনাটি ঘটে তার একটি ছবিও শেয়ার করেন তিনি।  



ভুক্তভোগী ওই তরুণী লিখেন, ‘আজকে বুঝলাম মেয়েমানুষ কতটা অসহায়। আর আমাদের বাংলাদেশে মেয়েদের সাপোর্ট মেয়েরাই করে না, তাহলে ছেলেদের আশা কি করে করি?’ 



তিনি লিখেন, ‘অনেক আপু ভাববেন, আমাদেরই দোষ ছিলো, মেয়ে হয়ে কেনো বাড়াবাড়ি করতে গেলাম! মেয়ে মানুষের হতে হয় নম্র, ভদ্র, যতই বাজে ভাষায় গালি দেয়া হোক না কেন প্রতিউত্তর দেয়ার কোনো দরকারই নাই! কারণ- তারা ‘মেয়েমানুষ’(!)... কোনো মেয়ের সাথে অন্যায় হলে আশেপাশের অন্য কোনো মেয়ের এগিয়ে আসার দরকার নাই! দাঁড়ায়ে তামাশা দেখুক, মজা নিক! কি দরকার মেয়েমানুষের ঝামেলার মধ্যে জড়ানোর! অথচ ছেলেরা ছেলেদের সাপোর্ট করবার আগে একটাবারও ভাবে না সে ছেলেটা অন্যায় করতেছে নাকি ঠিক! যত কুণ্ঠাবোধ, ভয়, হিংসামি সব আমাদের মেয়েদের মাঝেই বিদ্যমান! হায়রে মেয়েমানুষ! হায় মেয়েমানুষ!’

 

 

 


Top