প্রোপোজ করতে ভয় পাচ্ছেন! | daily-sun.com

প্রোপোজ করতে ভয় পাচ্ছেন!

ডেইলি সান অনলাইন     ২৩ মার্চ, ২০১৮ ১৬:০৮ টাprinter

প্রোপোজ করতে ভয় পাচ্ছেন!

ব্যাপারটা শুরু হয় এভাবেই। এক সুন্দরী এসে দাঁড়াল সামনে, আর ব্যাস... আপনি ক্লিন বোল্ড! তার হাসি, তার রিনরিনে কণ্ঠস্বরে ফিদা হয়ে গেলেন আপনি। আপনার দিন আর রাত জুড়ে সুগন্ধী সাবানের ফেনার মতো ভেসে বেড়াতে থাকল তার স্মৃতি। এবার পরের স্টেপ।

 

 

 

 সেটাই কঠিন। ‘স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা’কে এবার মনের কথা বলার পালা। ভাবতেই একবারে বাংলা ব্যান্ড ছুঁয়ে ‘কন্যা আমার হৃৎপিণ্ড তিড়িং বিড়িং করে’। আর সে যখন সামনে আসে? হাত ঘেমে যায়, ঠোঁট শুকিয়ে কাঠ। কুড়ি বছর আগেও এমন হতো। এখনও এমনটাই হয়।  

 

 

একটা ছোট্ট গল্প বলা যাক।

একটি ছেলে এক মেয়েকে প্রপোজ করল। কিন্তু মেয়েটি ‘না’ করে দিল। ছেলেটি তাতে মোটেই দুঃখিত হল না। বন্ধুরা তো অবাক। তারা গিয়ে ধরল তাদের বন্ধুকে, ‘‘কী রে, তোর মন খারাপ হচ্ছে না?’’ ছেলেটি পালটা প্রশ্ন করল, ‘‘কেন? আমার মন খারাপ হবে কেন? আমি এমন একজনকে হারালাম, যে আমাকে ভালবাসেনি। কিন্তু সে হারাল এমন একজনকে, যে তাকে ভালবেসেছে। ’’

গল্পের ছেলেটির মনোভাবটি কিন্তু খুবই বাস্তব। এখানে একটা কথা বলার আছে। যখন আপনার মনে হবে, কোনও মেয়ে বুঝি আপনার প্রেমে পড়ে গিয়েছে তার ইঙ্গিতগুলি বোঝার চেষ্টা করুন। যদি শেষমেশ আপনি বোঝেন সে, সত্যিই ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা হলে সেই সংকেতের উত্তর দিন। যদি এর পরেও আপনাকে সে ‘নাকচ’ করে দেয়, তা হলে বুঝতে হবে, আপনার বোঝাটাই ভুল ছিল।

 

 

যেগুলিকে আপনি সংকেত ভেবেছিলেন, সেগুলি আদৌ সংকেত ছিল না। তবে এটাও ঠিক, এমন ভুল অনেকেরই হয়। কাজেই মন খারাপ করার কিছু নেই। জীবনই এমন সব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন করে। জীবনই শিখিয়ে দেয় তা থেকে বেরবার উপায়।  

 

 

আসলে প্রত্যাখানের ভয় জিনিসটা মারাত্মক। অনেকেই একলা ঘরের নিরালায় ‘বিটলস’-এর গান শোনে। ‘‘ওহ ইয়াহ, আই টেল ইউ সামথিং/ আই থিঙ্ক ইউ উইল আন্ডারস্ট্যান্ড...’’, বিটলসের সেই গানের প্রেমিক কত অনায়াসে বলে ফেলে, ‘‘আই ওয়ান্ট টু হোল্ড ইয়োর হ্যান্ড’’। কিন্তু সত্যি সত্যি মেয়েটিকে সে কথা বলার সময়ে সেই গানের সপ্রতিভতা বাষ্প হয়ে কোথায় মিলিয়ে যায়।  এমন অনেক দুর্দান্ত ছেলে আছে যারা স্রেফ সাহসের অভাবে স্বপ্নের মেয়েটিকে মনের কথা বলতে পারেনি। ভয় এমনই জাঁকিয়ে বসতে থাকে, মেয়েটির দারুণ উৎসাহ সত্ত্বেও স্রেফ তাকে মনের কথা বলতে পারার সাহসের অভাবেই সে হাতছাড়া হয়ে যায়।

 

এই সব ভীতু ছেলেদের উদ্দেশে বলি, যদি সত্যিই প্রত্যাখানকে এত ভয়, তাহলে পিছনের সিটে বসে পড়ুন। অন্য কোনও সাহসীকে ছেড়ে দিন সুন্দরী মেয়েটির পাশের সিট। যা আপনার পরম কাঙ্ক্ষিত, কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর হিম্মতই আপনার যখন নেই, তখন বাদ দিন তা জীবন থেকে। যাই হোক, মনে যদি সাহস থাকে, তাহলে স্বপ্নসুন্দরীকে পাওয়ার পাওয়ার সময়ে এই চারটি কথা মনে রাখুন। তা হলেই কেল্লা ফতে।  

 

 

নিজেকে তৈরি করুন

 

কারোকে পছন্দ করার পরে যখন তাকে মনের কথা বলতে যাচ্ছেন, তার আগে নিজেকে প্রস্তুত করুন। আর এই প্রস্তুতিটা রাতারাতি হয় না। তবে মনে মনে যদি নিজেকে একজন ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন, তাহলে সেটা আপনি একদিন নিশ্চয়ই হতে পারবেন।  

 

নিজের মনকে বদলান

অনেকেরই মেয়েদের প্রতি নানারকম ধারণা আগে থেকেই জমা হয়ে থাকে মনের ভিতরে। সেগুলোকে দূরে সরান। আলাদা করে ইমপ্রেস করার চেষ্টা করবেন না। মেয়েটির সঙ্গে কথা বলার সময়ে অবশ্যই ভদ্র ও শিষ্ট হয়ে থাকুন। কিন্তু দেখবেন, বেশি ভালমানুষ হতে গিয়ে তার কাছে নিজেকে ‘ক্যাবলা’ প্রতিপন্ন করবেন না।

 

 

বরং স্বাভাবিক থাকুন। বাড়তি কোনও চেষ্টা না করে স্বাভাবিক ভাবে কথোপকথন চালান। মনে রাখবেন, আপনার কাছে সে যেমন বিপদের সময়ে গাছের ছায়া হয়ে উঠবে, তেমনই আপনার প্রতিও তার আশা, আপনি হবেন তার ‘শক্তি’। বেশি ভয়ে ভয়ে থাকলে কিন্তু আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পাবে না। কাজেই, নিজেকে প্রতিনিয়ত তৈরি করে তুলুন।  

 

 

প্রত্যাখ্যানের প্রস্তুতিও মনে মনে রাখুন

কী হবে, সে যদি তাও পাত্তা না দেয়? মনে রাখবেন ঝুঁকি নিতেই হয় জীবনে। প্রেমের ক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় হবে কেন? হয়তো সে ‘না’ করে দেবে। কিন্তু সেই প্রত্যাখ্যানকেও সহ্য করতেই হবে আপনাকে। আর সেটা সব সময়ই মনে রাখবেন।

 

  

নিজের উপর থেকে চাপ সরান

অন্য কেউই এমন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না, যার কাছে পৌঁছতে চেয়ে আপনি নিজেকেও হারিয়ে ফেলবেন! খুব সহজ করে বললে, নিজেকে ভালবাসুন। স্বার্থপরতা নয়, নিজের মনের মধ্যে যেন শান্তির একটা বাতাবরণ থাকে, সেটা খেয়াল রাখুন। নিজেকে নিরাপত্তাহীন ভাববেন না প্লিজ।

 

 

আর একটা কথা মাথায় রাখুন। আপনি তার ‘মনের মানুষ’ না হতে পারেন, তার ভাল বন্ধু হতেই পারেন। তার কাছে নিজেকে সঠিক ভাবে মেলে ধরুন।  

 

 

শেষ করার আগে আর একটাই কথা বলব। প্রথম ডেটে গিয়ে একটি ছেলে বা মেয়ে সব সময়ই দেখে তার সঙ্গীটি কতটা সুন্দর। সুন্দর বলতে অবশ্যই আপনার হৃদয় নয়, কেননা হৃদয়কে ছুঁতে গেলে সময় দিতে হয়। এখানে অবশ্যই আপনার বাহ্যিক রূপের কথা বলতে চাইছি। আপনার পোশাক, কথাবার্তা, শরীরী ভাষা— এই সব। স্রেফ সেই পরীক্ষায় ফেল করেও অনেকেই প্রত্যাখ্যাত হয়। মনে রাখবেন, বাহ্যিক চাকচিক্য ঝাপসা হয়ে যেতে সময় লাগে না, কিন্তু একজন মানুষের অন্তরের সৌন্দর্য মলিন হয় না, সেটা একই রকম থাকে।  

 


Top