খালেদা জিয়ার স্বাক্ষরযুক্ত ওকালতনামা সরবরাহ না করায় রিট | daily-sun.com

খালেদা জিয়ার স্বাক্ষরযুক্ত ওকালতনামা সরবরাহ না করায় রিট

ডেইলি সান অনলাইন     ২৩ মার্চ, ২০১৮ ১৩:৫৯ টাprinter

খালেদা জিয়ার স্বাক্ষরযুক্ত ওকালতনামা সরবরাহ না করায় রিট

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওকালতনামা সরবরাহ না করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) দুপুরে এই রিট আবেদনটি করেছেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল।


রিটে কারা কর্তৃপক্ষের এ ধরনের অসহযোগিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার স্বাক্ষরযুক্ত ওকালতনামা সরবরাহ করতে আদালতের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।


এতে বিবাদী করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজি প্রিজন্স, ডিআইজি প্রিজন ও জেল সুপারিনটেনডেন্টকে।


ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা রয়েছে। তিনি জিয়া অরফানেজ মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর তাকে চারটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ওকালতনামায় সই নিয়ে এখন খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য আবেদন করা হবে। আমরা তার স্বাক্ষরযুক্ত ওকালতনামা সরবরাহ করতে কারা কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু অনেকবার চেষ্টা করেও ওকালতনামায় খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। কারা কর্তৃপক্ষ তা সরবরাহ করতে অপারগতা প্রকাশ করছে।


তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকটি মামলার ওকালতনামায় বেগম খালেদা জিয়ার সই নিতে গিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পেয়ে আইনজীবীরা ফিরে এসেছেন। এ জন্য এসব মামলায় আইনি পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না। কারা কর্তৃপক্ষ যাতে ওকালতনামায় খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর গ্রহণে আইনজীবীদের অনুমতি দেয়- সেই নির্দেশনা চেয়ে আমরা হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছি।


কায়সার কামাল বলেন, এর মাধ্যমে খালেদা জিয়ার সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।


আগামী রবিবার বা সোমবার দলীয় জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের নির্দেশনা মোতাবেক কোনো বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান কায়সার কামাল।


প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়ার ওকালতনামা না পেয়ে গত ২০ মার্চ কারা কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। ওই নোটিশের জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।


উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।  গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ৪৪দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

 


Top