বিমান বিধ্বস্তে নিহত বাকি তিনজনের মরদেহ আসছে আজ | daily-sun.com

বিমান বিধ্বস্তে নিহত বাকি তিনজনের মরদেহ আসছে আজ

ডেইলি সান অনলাইন     ২২ মার্চ, ২০১৮ ১১:১১ টাprinter

বিমান বিধ্বস্তে নিহত বাকি তিনজনের মরদেহ আসছে আজ

 

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিএস২১১ বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ২৬ জনের মধ্যে বাকি থাকা তিনজনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। মরদেহ তিনটি হচ্ছে আলিফউজ্জামান, মো. নজরুল ইসলাম ও পিয়াস রায়ের।

বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) বিকেলে বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইটে তাদের মরদেহ ঢাকায় আনা হচ্ছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


তিনি বলেন, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে চিহ্নিত ২৩ জনের মরদেহ গত সোমবার (১৯ মার্চ) নেপাল থেকে দেশে ফিরিয়ে এন স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু তখনও তিনজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে মঙ্গলবার (২০ মার্চ) তাদের মধ্যে থেকে মো. নজরুর ইসলামের লাশ শনাক্ত করা হয় এবং বুধবার (২১ মার্চ) শনাক্ত করা হয় আলিফউজ্জামান ও পিয়াস রায়ের মরদেহ। ফরেনসিক টেস্টের মাধ্যমেই চিহ্নিত করা হয়েছে, ডিএনএ টেস্টের প্রয়োজন হয়নি।


কামরুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) বিমান বাংলাদেশের বিজি০৭২ কাঠমান্ডু-ঢাকা নিয়মিত ফ্লাইটে নিহত তিনজনের মরদেহ আনা হবে। কাঠমান্ডু থেকে দেড়টার দিকে রওনা দিবে এবং ঢাকায় ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে এসে পৌঁছাবে।


ইউএস বাংলার এই কর্মকর্তা আরো জানান, মরদেহগুলো বিমানবন্দর থেকে সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মরদেহগুলো বিমানবন্দরের ৮নং গেট দিয়ে বের করা হবে।

 

মো. নজরুল ইসলাম, আলিফউজ্জামান ও পিয়াস রায় 


এসময় তিনি জানান, তিনটি মরদেহ ঢাকার বাইরে যাবে। এর মধ্যে আলিফউজ্জামানের লাশ খুলনায়, মো. নজরুল ইসলামের লাশ রাজশাহী এবং পিয়াস রায়ের লাশ বরিশালে যাবে।

 

যাদের মরদেহ আনা হয়েছে তারা হলেন- আঁখি মনি, বেগম নুরুন্নাহার বিলকিস বানু, নাজিয়া আফরিন চৌধুরী, এফএইচ প্রিয়ক, উম্মে সালমা, বিলকিস আরা, আখতারা বেগম, মো. রকিবুল হাসান, মো. হাসান ইমাম, মিনহাজ বিন নাসির, তামারা প্রিয়ন্ময়ী, মো. মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহিরা তানভীন শশী রেজা, অনিরুদ্ধ জামান, রফিক উজ জামান, ইউএস-বাংলা উড়োজাহাজের পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশিদ, কেবিন ক্রু খাজা সাইফুল্লাহ, কেবিন ক্রু শারমিন আক্তার নাবিলা, ফয়সাল আহমেদ, সানজিদা হক বিপাশা, ও মো. নুরুজ্জামান।

 

এছাড়া কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাওয়া আহত ১০ বাংলাদেশি যাত্রীর মধ্যে ৯ জন নেপাল ছেড়েছেন। এদের মধ্যে ৬ জনকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। সর্বশেষ গত রবিবার (১৮ মার্চ) বিকেলে আহত শাহীন বেপারীকে দেশে ফিরেয়ে আনা হয়।

 
এর আগে শনিবার (১৭ মার্চ) বিকেল ৩টা ৫ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-০০৭২ ফ্লাইটে ঢাকায় আনা হয় রুবাইয়াত রশীদ নামের এক যাত্রীকে। বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) বিকেলে শেহরিন আহমেদকে ঢাকায় এনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এছাড়া শুক্রবার (১৬ মার্চ) বিকেলে মেহেদী, স্বর্ণা ও এ্যানিকেও কাঠমান্ডুর কেএমসি থেকে এনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

 
এছাড়া বুধবার (১৪ মার্চ) রাতে রেজওয়ানুলকে কাঠমান্ডুর ওএম হাসপাতাল থেকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) বিকেলে ইয়াকুব আলী নামে আহত এক যাত্রীকে কাঠমান্ডু থেকে দিল্লীতে পাঠানো হয় এবং শনিবার (১৭ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইমরানা কবীর হাসিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিংঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।

 
কবির হোসেন নামের আহত এক যাত্রী এখনও কাঠমান্ডুতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 


উল্লেখ্য, সোমবার (১২ মার্চ) স্থানীয় সময় বেলা ২টা ১৮ মিনিটে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বোম্বার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ৪০০ মডেলের এস২-এজিইউ যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট, ক্রু ও যাত্রীসহ ৫২ জন নিহত হন। ইউএস বাংলার ওই বিমানটিতে মোট ৬৭জন যাত্রী  চার ক্রুসহ ৭১জন আরোহী ছিলেন। আরোহীর মধ্যে ৩৬ জন বাংলাদেশির মধ্যে ২৬ জন নিহত হন। এ ছাড়া ১০ বাংলাদেশিসহ ১৯ জন আহত হন। পরে হতাহতের উদ্ধার করে স্থানীয় কেএমসি হাসপাতাল, নরভিক হাসপাতাল ও ওম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আহতদের চিকিৎসা দেয়া হয়।


বিমানটিতে ৬৭ যাত্রীর মধ্যে বাংলাদেশি ৩২ জন, নেপালি ৩৩ জন, একজন মালদ্বীপের ও একজন চীনের নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৩৭, নারী ২৮ ও দু’জন শিশু ছিল।

 


Top