লাইফ সাপোর্টে পাইলট আবিদের স্ত্রী | daily-sun.com

লাইফ সাপোর্টে পাইলট আবিদের স্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ মার্চ, ২০১৮ ১৪:৪১ টাprinter

লাইফ সাপোর্টে পাইলট আবিদের স্ত্রী

- পাইলট আবিদ সুলতানের সঙ্গে আফসানা খানম

 

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিএস২১১ বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত পাইলট আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানমকে বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। সোমবার (১৫ মার্চ) সকালে আবারও স্ট্রোক করলে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচারের পর তাকে আগারগাঁওয়ের নিউরো সাইন্স হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

 
বর্তমানে তিনি কোমায় আছেন বলে ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের পারিবারিক বন্ধু ও ইউএস-বাংলার সাবেক সহকর্মী ক্যাপ্টেন ওয়াহেদু উন নবী জানিয়েছেন।


রবিবার (১৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর উত্তরার বাসায় আফসানা খানম ব্রেইন স্ট্রোক করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নিউরো সাইন্স হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করেন।


সে সময়ে হাসপাতাল থেকে ক্যাপ্টেন ওয়াহেদু উন নবী জানিয়েছিলেন, নিহত আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানমের হার্টে একাধিক ব্লক পেয়েছেন চিকিৎসকরা। তাকে ক্যাপ্টেন আবিদের আপন বড় ভাই নিউরো বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 


এরপর রবিবার বিকেলে আফসানা খানমের মস্তিস্কে প্রথম দফা সফল অস্ত্রোপচার শেষে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখেন চিকিৎসকরা। এরই মধ্যে সোমবার সকালে ফের স্ট্রোক করেন আফসানা খানম।


এদিকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে ২৩ জনের নামাজে জানাজা শেষ হয়েছে। সোমবার (১৯ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সকাল নয়টার দিকে নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে এই জানাজা হয়।

নিহতদের স্বজন ছাড়াও সাংবাদিক, দূতাবাস ও এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জানাজায় শরিক হন। এ সময় নেপাল সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।


জানাজা শেষে কফিনগুলো কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নেয়া হয়েছে। সেখান থেকে বিমান বাহিনীর একটি কার্গো বিমানে করে এগুলো দেশে আনা হবে। তাদের মধ্যেই রয়েছে পাইলট আবিদ সুলতানের মরদেহ।


সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দুপুর সাড়ে ১২টায় কার্গো বিমানটি রওনা দিয়ে তিনটার মধ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবে।

 


উল্লেখ্য, সোমবার (১২ মার্চ) স্থানীয় সময় বেলা ২টা ১৮ মিনিটে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বোম্বার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ৪০০ মডেলের এস২-এজিইউ যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট, ক্রু ও যাত্রীসহ ৫২ জন নিহত হন। ইউএস বাংলার ওই বিমানটিতে মোট ৬৭জন যাত্রী  চার ক্রুসহ ৭১জন আরোহী ছিলেন। আরোহীর মধ্যে ৩৬ জন বাংলাদেশির মধ্যে ২৬ জন নিহত হন। এ ছাড়া ১০ বাংলাদেশিসহ ১৯ জন আহত হন। পরে হতাহতের উদ্ধার করে স্থানীয় কেএমসি হাসপাতাল, নরভিক হাসপাতাল ও ওম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আহতদের চিকিৎসা দেয়া হয়।


বিমানটিতে ৬৭ যাত্রীর মধ্যে বাংলাদেশি ৩২ জন, নেপালি ৩৩ জন, একজন মালদ্বীপের ও একজন চীনের নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৩৭, নারী ২৮ ও দু’জন শিশু ছিল।


বিমানটি বিধ্বস্তের পরদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পাইলট আবিদ সুলতান। জানা গেছে, পরপর চারটি ল্যান্ডিংয়ের পরেও তাকে নেপালে ওই ফ্লাইট নিয়ে যেতে হয়েছিল। এ নিয়ে মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেই ক্যাপ্টেন আবিদ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ছাড়ার জন্য তোড়জোড় করেছিলেন।

 


Top