পরিকল্পনা কমিশনের দুই কর্মকর্তার মরদেহ এখনও শনাক্ত হয়নি | daily-sun.com

পরিকল্পনা কমিশনের দুই কর্মকর্তার মরদেহ এখনও শনাক্ত হয়নি

ডেইলি সান অনলাইন     ১৮ মার্চ, ২০১৮ ১৭:৩৭ টাprinter

পরিকল্পনা কমিশনের দুই কর্মকর্তার মরদেহ এখনও শনাক্ত হয়নি

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিএস২১১ বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত পরিকল্পনা কমিশনের দুই নারী কর্মকর্তার মরদেহ এখনও শনাক্ত হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষা শেষ হলে আজ-কালের মধ্যে তাদের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের কর্মকর্তারা।


সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম জানান, বিমান দুর্ঘটনার পর কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নেপাল পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নিহত দুই কর্মকর্তার স্বামীও সেখানে গেছেন। কমিশনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে।


তিনি বলেন, আমরা তাদের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। 


ওই দুই কর্মকর্তার মধ্যে একজন উম্মে সালমা। তিনি সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের রাজস্ব ও মুদ্রানীতি অনুবিভাগে সিনিয়র সহকারী প্রধান এবং অপরজন নাজিয়া আফরিন চৌধুরী আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অনুবিভাগে সিনিয়র সহকারী প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।


‘রিজিওনাল সিমফজিয়াম অন ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস অ্যান্ড পোভার্টি অ্যালেভিয়েশন ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নিতে তারা নেপাল গিয়েছিলেন।


এদিকে নেপালে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস বাংলার বিমানে পরিকল্পনা কমিশনের দুই নারী কর্মকর্তার মরদেহসহ মোট ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, যাদের মরদেহ এখনও শনাক্ত হয়নি তাদের পরিবারের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ডিএন টেস্ট করা হবে। টেস্টের ফলাফল আসতে আরও ৩ সপ্তাহ লাগতে পারে।


এছাড়া বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত যে ১৭ বাংলাদেশির মরদেহ শনাক্ত করা গেছে তাদের মরদেহ আগামীকাল সোমবার (১৯ মার্চ) দেশে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ইউএস বাংলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ। রবিবার (১৮ মার্চ) দুপুরে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালের মর্গের বাইরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।


ইমরান আসিফ বলেন, আজ বিকেল ৪টায় মরদেহের গোসল হবে, কফিনে ঢুকানো হবে। সকাল ৬টায় (সোমবার) মরদেহ নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসে নেয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে সকালে নিহতদের স্বজন ও ডাক্তাররা ঢাকায় রওনা হবেন। পরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিমানে মরদেহগুলো দেশে পাঠানো হবে।


উল্লেখ্য, সোমবার (১২ মার্চ) স্থানীয় সময় বেলা ২টা ১৮ মিনিটে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বোম্বার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ৪০০ মডেলের এস২-এজিইউ যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট, ক্রু ও যাত্রীসহ ৫২ জন নিহত হন। ইউএস বাংলার ওই বিমানটিতে মোট ৬৭জন যাত্রী  চার ক্রুসহ ৭১জন আরোহী ছিলেন। আরোহীর মধ্যে ৩৬ জন বাংলাদেশির মধ্যে ২৬ জন নিহত হন। এ ছাড়া ১০ বাংলাদেশিসহ ১৯ জন আহত হন। পরে হতাহতের উদ্ধার করে স্থানীয় কেএমসি হাসপাতাল, নরভিক হাসপাতাল ও ওম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আহতদের চিকিৎসা দেয়া হয়।


বিমানটিতে ৬৭ যাত্রীর মধ্যে বাংলাদেশি ৩২ জন, নেপালি ৩৩ জন, একজন মালদ্বীপের ও একজন চীনের নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৩৭, নারী ২৮ ও দু’জন শিশু ছিল।

 


Top