সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে ইমরানা কবির হাসিকে, ঢাকায় আসছে শাহিন ও কবির | daily-sun.com

সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে ইমরানা কবির হাসিকে, ঢাকায় আসছে শাহিন ও কবির

ডেইলি সান অনলাইন     ১৮ মার্চ, ২০১৮ ১১:২৭ টাprinter

সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে ইমরানা কবির হাসিকে, ঢাকায় আসছে শাহিন ও কবির

 

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিএস২১১ বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত ইমরানা কবীর হাসিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৭ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টায় তাকে নিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সিংঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়।

এদিকে আজ দুপুরে ঢাকায় আসছেন শাহিন ব্যাপারী ও কবির হোসেন। 


ইমরানা কবীর হাসি রুয়েটের সহকারী প্রফেসর। ইউএস-বাংলার ডিরেক্টর উইং কমান্ডার মূসা জানান, ইমরানা কবীর হাসিকে তার বাবা মোহাম্মদ হুমায়‍ুন কবীর সিঙ্গাপুর নিয়ে যাচ্ছেন। তার চিকিৎসার ব্যয় ইউএস বাংলা বহন করবে।


এর আগে গতকাল শনিবার (১৭ মার্চ) বিকেল ৩টা ৫ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-০০৭২ ফ্লাইটে ঢাকায় আনা হয় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত রুবাইয়াত রশীদ নামের এক যাত্রীকে। রুবাইয়াত রশীদকে নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় আহত ১০ বাংলাদেশি যাত্রীর মধ্যে সাতজন কাঠমান্ডু ছাড়লেন। তাদের মধ্যে বুধবার (১৪ মার্চ) রাতে রেজওয়ানুলকে কাঠমান্ডুর ওএম হাসপাতাল থেকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) বিকেলে ইয়াকুব আলী নামে আহত এক যাত্রীকে কাঠমান্ডু থেকে দিল্লীতে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং শেহরিন আহমেদকে ঢাকায় এনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার (১৬ মার্চ) বিকেলে মেহেদী, স্বর্ণা ও এ্যানিকেও কাঠমান্ডুর কেএমসি থেকে এনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।


বাংলাদেশ থেকে নেপালে পাঠানো মেডিকেল দলের অন্যতম চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক হোসাইন ইমাম গতকালই জানান, আহতদের মধ্যে এখনও কাঠমান্ডুতে থাকা ইমরানা কবির হাসির অবস্থা সংকটাপন্ন। তাই তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে। আরেক আহত যাত্রী কবির হোসেন এখন নরডিক হাসপাতালে আছেন। তার অবস্থাও সংকটাপন্ন। কবিরের বিষয়ে তাই এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না চিকিৎসকরা।


এদিকে নিহতদের মধ্যে ২২টি মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এখনও যাদের মরদেহ শনাক্ত করা যায়নি তাদের ডিএনএ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শনাক্ত করতে হবে বলে জানিয়েছেন ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি (টিইউ) টিচিং হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রিজেন শ্রেষ্ঠ। 


এর আগে গতকাল শুক্রবার (১৬ মার্চ) দুপুরে নেপালের ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি (টিইউ) টিচিং হাসপাতালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে নেপালে যাওয়া চিকিৎসকদের প্রতিনিধি দলের সদস্য ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ৪৯ জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে মাত্র আটজনের মরদেহ শনাক্ত করা গেছে। সোম অথবা মঙ্গলবার থেকে সেগুলো দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।


উল্লেখ্য, সোমবার (১২ মার্চ) স্থানীয় সময় বেলা ২টা ১৮ মিনিটে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বোম্বার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ৪০০ মডেলের এস২-এজিইউ যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট, ক্রু ও যাত্রীসহ ৫২ জন নিহত হন। ইউএস বাংলার ওই বিমানটিতে মোট ৬৭জন যাত্রী  চার ক্রুসহ ৭১জন আরোহী ছিলেন। আরোহীর মধ্যে ৩৬ জন বাংলাদেশির মধ্যে ২৬ জন নিহত হন। এ ছাড়া ১০ বাংলাদেশিসহ ১৯ জন আহত হন। পরে হতাহতের উদ্ধার করে স্থানীয় কেএমসি হাসপাতাল, নরভিক হাসপাতাল ও ওম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আহতদের চিকিৎসা দেয়া হয়।

 


Top