উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জন বাংলাদেশের | daily-sun.com

উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জন বাংলাদেশের

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ মার্চ, ২০১৮ ১২:২০ টাprinter

উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জন বাংলাদেশের

 

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে এবার উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল শুক্রবার (১৬ মার্চ) দিনগত মধ্যরাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিপিডি) এক বৈঠকে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে এ স্বীকৃতি দিয়েছে।


বৈঠকে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উত্তরণের সব সূচক অর্জন করেছে বলে জানানো হয়। এর মধ্য দিয়ে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায়ের পথে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হল। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উত্তরণ ঘটবে।

 
পরে এই ঘোষণা সংক্রান্ত চিঠি জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে বাংলাদশের প্রোফাইলে এখন বলা আছে, উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার যোগ্যতা এই মার্চেই অর্জন করেছে বাংলাদেশ।


জাতিসংঘের এমন স্বীকৃতি বাংলাদেশের আগামীর পথ চলাকে আরও সুগম করবে বলে বিশ্বাস বিশ্লেষকদের। আর এর মাধ্যমেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনটি আরও একটি কারণে বাঙালির কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকলো।


প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।

 


উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিতে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক এ তিনটির যেকোনো দু'টি অর্জন করতে পারলেই স্বীকৃতি মেলে।

কিন্তু বাংলাদেশ তিনটি সূচকেই পর্যাপ্ত মানদণ্ড অর্জন করে বিশাল এ স্বীকৃতি অর্জন করে নিয়েছে।


মাথাপিছু জাতীয় আয় ১ হাজার ২৫ ডলারের নিচে থাকলে সে দেশ এলডিসিভুক্ত হয়, এই আয় ১২৩০ ডলার অতিক্রম করলে ধাপ উন্নয়নের যোগ্যতা অর্জন হয়। বাংলাদেশের এখন ১ হাজার ২৭৪ ডলার। মানব সম্পদ সূচকে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ৭২। এক্ষেত্রে ৬২ পর্যন্ত দেশগুলো এলডিসিভুক্ত, ৬৪ ছাড়ালে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যোগ্যতা অর্জিত হয়।


অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ২৫ দশমিক ২। এই পয়েন্ট ৩৬ এর বেশি হলে এলডিসিভুক্ত হয়, ৩২ এ আনার পর উন্নয়নশীল দেশে যোগ্যতা অর্জন হয়।


অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ সরকারের কর্তাব্যক্তিরা আশাবাদী, এভাবে চললে ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে কোনো সমস্যা হবে না।


উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠলে নানা দরকষাকষিতে বাংলাদেশের অবস্থান মজবুত হলেও এখন পাওয়ার বাণিজ্যিক নানা সুবিধা হারাতে হবে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব।


বাংলাদেশ ২০১৫ সালের জুলাই মাসে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়। মাথাপিছু আয়ের বিবেচনায় এ শ্রেণীকরণ করে বিশ্ব ব্যাংক। জাতিসংঘ দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত (এলডিসি), উন্নয়নশীল এবং উন্নত- এ তিন পর্যায়ে বিবেচনা করে।


এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে বাংলাদেশের এই স্বীকৃতি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী লিখেছেন, জাতিসংঘের উন্নয়ন বিষয়ক কমিটি গতকাল রাতে নিউইয়র্কে বৈঠকে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উত্তরণের সকল সূচক প্রথমবারের মতো অর্জন করেছে। আজকে তারা আমাদের জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনে এটা নিশ্চিত করে একটা চিঠি হস্তান্তর করবে।


নিয়ম অনুযায়ী ৩ বছর পর পর দুইবার এটা অর্জন করলেই চূড়ান্তভাবে একটা দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আমাদেরকে এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে এবং ২০২১ সালে আবারও তা নিশ্চিত করতে হবে একই সূচকগুলো অর্জনের মধ্যে দিয়ে।


তিনি আরো লিখেছেন, এই রকম একটি ঐতিহাসিক সময়ে পরম শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করি। সকল শহীদদের স্মরণ করি। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

 


Top