দেশের মাটিতে মেহেদী স্বর্ণা ও এ্যানি | daily-sun.com

দেশের মাটিতে মেহেদী স্বর্ণা ও এ্যানি

ডেইলি সান অনলাইন     ১৬ মার্চ, ২০১৮ ১৬:০৫ টাprinter

দেশের মাটিতে মেহেদী স্বর্ণা ও এ্যানি

 

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিএস২১১ বিধ্বস্তের ঘটনায় বেঁচে যাওয়া চিকিৎসাধীন আরও তিন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তারা হলেন- মেহেদী হাসান, কামরুন্নাহার স্বর্ণা ও আলমুন নাহার এ্যানি।

শুক্রবার (১৬ মার্চ) বিকেল ৩টা ৩৩ মিনিটে তাদের বহন করা বিজি-০০৭২ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। 


এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) বিকেলে ইয়াকুব আলী নামে আহত এক যাত্রীকে কাঠমান্ডু থেকে দিল্লীতে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গতকাল শেহরিন আহমেদ নামের অপর আহত এক যাত্রীকে ঢাকায় আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) বিকাল ৩টা ৪৮ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিজি০০৭২ ফ্লাইটে করে তাকে ঢাকায় আনা হয়। এর পর তাকে অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে আইসিইউ থেকে ভিআইপি কেবিনের ২ নম্বর বেডে স্থানান্তর করা হয়।


মেহেদী, স্বর্ণা ও এ্যানির বিষয়ে গতকাল কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ (কেএমসি) কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে অনাপত্তি দেয়া হয়েছে। অনাপত্তি দেয়ায় আজ কাঠমান্ডুর স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় তারা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-০০৭২ ফ্লাইটে রওনা দেন। তাদের সঙ্গে স্বজনরাও রয়েছেন।


এর আগে, ইউএস-বাংলার জিএম (মার্কেটিং সাপোর্ট অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন) কামরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, দেশে ফেরার পর মেহেদী হাসান, কামরুন্নাহার স্বর্ণা ও আলমুন নাহার এ্যানিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। তাদের ইউনাটেড হাসপাতালে ভর্তি করানোসহ যাবতীয় চিকিৎসা ইউএস-বাংলা করবে।


উল্লেখ্য, সোমবার (১২ মার্চ) স্থানীয় সময় বেলা ২টা ১৮ মিনিটে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বোম্বার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ৪০০ মডেলের এস২-এজিইউ যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট, ক্রু ও যাত্রীসহ ৫২ জন নিহত হন। ইউএস বাংলার ওই বিমানটিতে মোট ৬৭জন যাত্রী  চার ক্রুসহ ৭১জন আরোহী ছিলেন। আরোহীর মধ্যে ৩৬ বাংলাদেশিসহ ৫২ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১০ বাংলাদেশিসহ ১৯ জন আহত হন। পরে হতাহতের উদ্ধার করে স্থানীয় কেএমসি হাসপাতাল, নরভিক হাসপাতাল ও ওম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।


বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের মরদেহ রাখা হয়েছে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালে। সেখানকার ডাক্তাররা এখন পোস্টমর্টেম করছেন মরদেহগুলোর।


উড়োজাহাজে আগুন ধরে পুড়ে যাওয়ায় কারও কারও মরদেহ শনাক্ত করতে স্বজনদের সঙ্গে ডিএনএ মেলানোর দরকার হতে পারে বলে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস জানিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নিহতদের লাশ শনাক্তে তাদের স্বজনদের থেকে নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সিআইডি। রবিবার (১৮ মার্চ) থেকে সিআইডির মালিবাগ কার্যালয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হবে বলে পুলিশের ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবের উপ প্রধান আহমেদ ফেরদৌস জানিয়েছেন।
 
 
এদিকে নিহতদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও ময়নাতদন্তের জন্য এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের দেখতে ও তাদের চিকিৎসার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে নেপালে গেছেন বাংলাদেশ সরকারের একটি মেডিকেল টিম। বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ০৭১ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নেপালের কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওয়ানা দেন তারা।

 
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে এ টিমে রয়েছেন ৯ চিকিৎসক। অন্যান্যের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. লুতফর কাদের লেনিন, ঢামেকের সহকারী অধ্যাপক ডা. হোসেন ইমাম, অধ্যাপক ডা. মনসুর রহমান, ডা. এ কে এম ফেরদৌস রহমান ও ডা. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন। এছাড়া এ টিমে আরও আছেন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) সহকারী অধ্যাপক ডা. মুশফিকুর রহমান, ডা. রিয়াদ মজিদ ও সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. রাজিব আহমেদ। যদিও এর আগে বুধবার বলা হয়েছিল সাত সদস্যের মেডিকেল টিম নেপাল যাবে। পরে এই টিমে আরও দুইজন বাড়ানো হয়। 

 
এছাড়া রয়েছেন দুই সিআইডি কর্মকর্তাও। তারা হলেন অ্যাডিশনাল সুপারিটেন্ডেন্ট অব পুলিশ (ক্রাইম সিন, সিআইডি) আবদুস সালাম ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিএনএ স্পেশালিস্ট (সিআইডি) আশরাফুল আলম।


এদিকে এ দুর্ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সিঙ্গাপুর সফর সংক্ষিপ্ত করে একদিন আগেই মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) দেশে ফিরে আসেন। এর পর সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বুধবার সকালে তিনি নিজের কার্যলয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিহতদের স্মরণে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) ‘রাষ্ট্রীয় শোক দিবস’ পালন করা হয়। এসময় দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এছাড়া নিহতদের স্মরণে আজ শুক্রবার (১৬ মার্চ) সারা দেশের মসজিদসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়। 


একই ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) নেপালেও রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়। ওই দিন নেপালে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। অফিস আদালত এর পাশাপাশি দোকান পাট বন্ধ থাকে।


বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের খোঁজখবর ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মঙ্গরবার (১৩ মার্চ) নেপাল যান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল। তিনি নেপাল সিভিল এভিয়েশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।


এ ছাড়া সেখানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর এবং আহতদের অবস্থা নিয়েও আলোচনা করেন মন্ত্রী।

 


Top